অভিনেত্রী বনশ্রীর প্রশ্ন ‘আমার মেয়েটাকে কি ওরা বাঁচায়ে রাখছে?

অক্টোবর ৯, ২০১৫, ৩:২৭ অপরাহ্ণ

সন্তান- নাড়ী ছেড়া ধন। তার প্রতিটি মুহুর্তের সুস্থতা ও ভালো থাকার প্রার্থনায় নিয়োজিত মায়ের মন। রক্তের শেষ বিন্দুটিও নিঃশেষ হয় সন্তানের মঙ্গল কামনায়। কিন্তু যে মা জানেন না, তার মেয়ে বেঁচে আছে কি না- তার আহাজারি শ্রোতার কানে যাওয়ার আগে বিদীর্ণ করে হৃদয়। মেয়ে কোথায় আছে, কেমন আছে, কি করছে- এসব প্রশ্ন নয়। এই মায়ের আর্তচিৎকারে উঠে আসে একটাই প্রশ্ন- ‘আমার মেয়েটারে কি ওরা বাঁচায়ে রাখছে?’

একসময়ের চিত্রনায়িকা বনশ্রী- তার কাহিনি আজ কারও অজানা নয়। ‘সোহরাব রুস্তম’, ‘মহা ভূমিকম্প’, ‘নেশা’ প্রভৃতি ছবিতে তিনি মূল নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, রুবেল, আমিন খানের মত নায়কদের সঙ্গে। ভাগ্যের পরিহাসে রূপালী দুনিয়ায় প্রবঞ্চনায় পরিবার, স্বামী, স্বজন সব হারিয়ে মেয়ে শ্রাবন্তী শাওন বৃষ্টিকে নিয়ে কোনক্রমে বেঁচেছিলেন বস্তিতে। জীবন চালাতে ফুল বিক্রি করতেন, বাসে বই ও লজেন্স বিক্রি করেই দিন কাটছিলো কোনমতে।

তার প্রথম সন্তান- শ্রাবন্তী শাওন বৃষ্টিকে নিয়েই তার আহাজারি- যে মেয়ে বেঁচে আছে কি না তিনি জানেন না। এক মায়ের অন্তরের হাহাকার। ২০০৭ সাল থেকে নিখোঁজ তার মেয়ে। ‘বৃষ্টি তখন কিডস ইন্টারন্যাশনালে ক্লাস সেভেনে পড়ে। একদিন এসে বলে, মা অপূর্ব নামে একজন আমাকে মডেলিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। আমি না করি। কারণ আমি চেয়েছি ও ডাক্তার হোক। কিন্তু একদিন নূরজাহান রোডে আমি আর মেয়ে রিকশায় যাচ্ছি, একটা কালো ট্যাক্সি এসে বৃষ্টির হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেলো। আমার চোক্ষের সামনে দিয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে গেল।’- কান্না তার বাঁধ মানে না।

থানা পুলিশ কম করেননি বনশ্রী। ‘ধীরে ধীরে জানা যায়, সংগীতা মিউজিকের মালিক সেলিম খান আমার মেয়েকে আটকে রেখেছে। থানা, পুলিশ, র‌্যাব, রাজনৈতিক নেতা- সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছি আমি। বছর খানের পরে আমার এক বন্ধু জানায়, সেলিম খান বৃষ্টিকে কোথায় রেখেছে। থানায় আনা হয় আমার মেয়েকে। আহারে আমার মেয়ের কি চিৎকার- মা, আমারে নিয়া যাও। আমি ভালো নাই মা। আর আমি অধম মা, মেয়েরে বাঁচাইতে পারি নাই।’

‘ডিসি স্যারের কাছে গেলে তিনিই এই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আমি কেস করি। কিন্তু সেলিম খানের গুন্ডারা আমাকে শাসায়- কেস তুলে না নিলে আমাকে খুন করবে। সেলিম খান ফোনে বলে, আপনার মেয়েকে ফিরিয়ে দেবো। কিন্তু কেস তুলে নেন। আমি আশ্বাসে কেস তুলে নিই। তারপর হোয়াইট হাউজে ডাকে আমায়। হাত ধরে বলে, মা- আপনি কেন আমার নাম খারাপ করলেন। আপনার মেয়েকে তো ফিরিয়ে দেবোই। কিন্তু না- তারপর আর কিছুতেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমি জানিনা- আমার মেয়েটারে তারা বাঁচায়ে রাখছে কি না। নাকি প্রয়োজন শেষ হয়েছে বুঝে নেশা খাওয়ায়ে মেরে ফেলছে। আমি খালি জানতে চাই আমার মেয়েটা বেঁচে আছে কি না, আমার মেয়েটারে তার মায়ের বুকে ফেরত দেন।’

শ্রাবন্তী শাওন বৃষ্টি- বয়স এখন তার ২০। মডেলিংয়ের লোভ দেখিয়ে কাজ না হওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে গেছে প্রভাবশালী গোষ্টী। পরে সানক্রেস্ট কোলার বিজ্ঞাপণে দেখাও গেছে তাকে। থানায় পুলিশ বেস্টিত হয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এলে অ্যালবাম থেকে মায়ের হাতে দিয়েছে শুট করা নিজের কয়েকটি ছবি। এই ছবিগুলোই সম্বল বনশ্রীর। তার কথায়- সেলিম খান, তার মামা রহিম, অপূর্ব, আনন্দসহ বেশ কয়েকজন মানুষ বৃষ্টিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। সর্বশেষ তিন বছর আগে ফোনে একবার কথা হয়েছে, এরপর মেয়ের কণ্ঠও শোনননি এই মা।

গতবছর ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা অনুদান পান বনশ্রী। তখন তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন মেয়ের কথা। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, সেলিম খান কিংবা যারাই তার মেয়েকে আটকে রেখেছে, শাস্তি পাবে তারা। কিন্তু এ কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন সেলিম খান ও তার দলবল। ‘বলে প্রধানমন্ত্রী কইলেই হইলো? তিনি কি এগুলা মনে কইরা বইসা আছে? যে সাংবাদিক ভাইদের জন্য আমি অনুদান পেলাম, তাদের কথা বললে বলে, এমন অনেক সাংবাদিক পকেটে নিয়া ঘুরি আমরা। যে মোবাইল নাম্বারটা দিয়া সেলিম খান আমার সঙ্গে কথা বলছে, সেই নাম্বারে ফোন করলে ধরে না। অফিসে গেলে দেখা করে না।’

তবে কি ক্ষমতার কাছে হেরে যাবে এক মায়ের মমতা? বনশ্রী কি তার মেয়েকে ফিরে পাবে না? এ প্রশ্ন শুধু ব্যক্তি মানুষের কাছে নয়- প্রসাশন, সরকার ও মানবিকতার কাছে।

– Source: priyo

পড়া হয়েছে ১৬৪৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ