ভ্রমণ: নান্দনিক ‘বাতাস আর বৃষ্টির সেতু’

এপ্রিল ৯, ২০১৭, ৫:১৪ অপরাহ্ণ

চীনে বসবাসরত ৫৬টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটির নাম ‘ডং’। এই গোত্রের মানুষরা চীনের হুনান, হুবেই, গুইঝো এবং গুয়াংজি প্রদেশের বিভিন্ন গ্রামে বাস করেন। এরা মূল অংশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন সব গ্রামে নিজেদের মতো বাস করেন। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হলেও এরা কিন্তু গোটা চীনে বিখ্যাত।

দারুণ সুস্বাদু মিষ্টি ভাত রান্নায় তাদের মতো পারদর্শী আর নেই। এ ছাড়াও আরেকটি কাজে তাদের তুলনা এ দুনিয়ায় নেই। তারা কাঠের কাজে অতুলনীয়। অসাধারণ কাঠের সেতু বানাতে ওস্তাদ। তাদের বানানো এসব সেতুর নাম ‘উইন্ড অ্যান্ড রেইন ব্রিজেস’, এগুলো যেন বাতাস আর বৃষ্টির সেতু। অবশ্য এই নামের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তারা এসব ব্রিজ বানানোর পর তার ওপর বাসাত আর বৃষ্টি হাত থেকে বাঁচতে মানুষের জন্য আশ্রয়স্থলও বানিয়ে দেন। এসব সেতু মানুষের মুখে ‘ফ্লাওয়ার ব্রিজেস’ বলেও পরিচিতি পেয়েছে। এই নাম জুটেছে নান্দনিক কারুকার্যের জন্য। যেকোনো সময়, বিশেষ করে বৃষ্টির দিন এই ব্রিজগুলো মানুষের সাক্ষাতের বা কিছু সুন্দর সময় কাটানোর অসাধারণ স্থান হয়ে ওঠে।

বিশ্বপর্যটকদের কাছে চীনের ‘উইন্ড অ্যান্ড রেইন ব্রিজেস’ দারুণ আকর্ষণীয় স্থান। শিল্পীর নিপুত হাতে অতি যত্নে গড়ে তোলা এক একটি ব্রিজ যেন এক একটি বিস্ময়। বিশেষ করে গুয়াংজি প্রদেশের সানজিয়াং কাউন্টির চেংইয়াং ব্রিজ তো সবচেয়ে বিখ্যাত। ১৯১৬ সালে বানানো হয় এটি। চীনের সর্ববৃহৎ উইন্ড অ্যান্ড রেইন ব্রিজ হিসাবে টিকে রয়েছে সেতুটি। ব্রিজটির দুই প্রান্তে দুটো প্লাটফর্ম রয়েছে। আরো আছে ৩টি পিয়ার্স, ৩টি স্প্যান, ৫টি প্যাভিলিয়ন, ১৯টি বারান্দা এবং ৩ তলাবিশিষ্ট কাঠামো। এই ব্রিজ ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৩.৪ মিটার প্রশস্ত এবং ১০.৬ মিটার উঁচু। পিয়ার্সগুলো পাথরের তৈরি। ওপরের অংশটি মূলত কাঠ দিয়েই বানানো হয়েছে। ছাদে রয়েছে টাইলসের কাজ। এখানে বসে চা পান করতে করতে চারদিকের বন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সূত্র: হ্যাপি ট্রিপস

পড়া হয়েছে ১১৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ