প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে কওমি মাদ্রাসা

এপ্রিল ১৫, ২০১৭, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

মুফতি শাহেদ রহমানি

১১ এপ্রিল ২০১৭ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামার সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। ওই বৈঠকে তিনি কওমি মাদ্রাসা বিষয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। যে কথাগুলো তিনি বলেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কথা হলো—এক. বাংলাদেশে (তথা উপমহাদেশে) শিক্ষার সূচনা হয়েছে কওমি মাদ্রাসার মাধ্যমে। এটা যদি শুরু না হতো, তাহলে আমরা কেউ শিক্ষিত হতে পারতাম না। দুই. ভারতবর্ষে স্বাধীনতার সূত্রপাত উলামায়ে দেওবন্দের আন্দোলনের মাধ্যমে। তিন. বাংলাদেশে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া হয় কওমি মাদ্রাসাগুলোতে।

কওমি মাদ্রাসা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মূল্যায়নের তাৎপর্য অনুধাবন করতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ইতিহাসের দিকে।

ভারতবর্ষে ইসলামী শিক্ষার সূচনা হয় ৭১১ সালে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের পরপরই। কিন্তু সর্বপ্রথম প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় এরও বেশ কিছুকাল পরে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুহাম্মদ ঘোরি ১১৯১ সালে আজমিরে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সুলতানি আমলে মসজিদকেন্দ্রিক ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা চালু হয়।

মোগল আমলে ভারতবর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক বিস্তার ঘটে।

এটা সর্বজন বিদিত যে মুসলমানদের শিক্ষাব্যবস্থা কখনো ধর্মবিবর্জিত ছিল না। ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনামলে শিক্ষাব্যবস্থা ও ধর্ম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত UNESCO-i Studies on Compulsory Education-এ উল্লেখ করা হয়েছে : ‘মুসলিম শাসনামলে শিক্ষা ও ধর্মকে অত্যন্ত অঙ্গাঙ্গিভাবে বিবেচনা করা হতো। ’

ভারতবর্ষে ‘দিল্লি সুলতানাত’ স্থায়ী হয় প্রায় ৩২৫ বছর বা ৩২০ বছর। এ সময়ে ভারতে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের একটি প্রধান দিক ছিল মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ। দিল্লিতে প্রথম মাদ্রাসা স্থাপিত হয় শামসুদ্দিন ইলতুিমশের আমলে (১২১১-১২৩৬)।

সুলতানি আমল হয়ে মোগল আমলে আলেমসমাজ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। মোগল আমলে আলেমরা প্রধানত তিনটি বিশেষ কাজে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতেন—এক. রাজপরিবারের শিক্ষাদীক্ষা, দুই. আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন এবং তিন. শাসকদের বিভিন্ন দাতব্য কাজকর্মের তদারকি করা।

এ বিষয়ে ইংরেজ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম হান্টার লিখেছেন : ‘কাজি বা মুসলমান আইনজ্ঞরা দেওয়ানি আদালতে বিচার করতেন। এমনকি আমরা যখন সর্বপ্রথম শিক্ষিত আহলে বিলাতি (ভিনদেশি) দিয়ে এ দেশের বিচারকাজ চালানোর চেষ্টা করলাম, তখনো মুসলমান আইনজ্ঞরা আইনের পরামর্শদাতা হিসেবে তাদের সঙ্গে রীতিমতো উঠাবসা করতেন। ইসলামী বিধিব্যবস্থাই এ দেশের আইন-কানুন ছিল। ’ (উইলিয়াম হান্টার, দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস, আবদুল মওদুদ অনূদিত, আহমদ পাবলিশিং হাউস, বাংলাবাজার, ঢাকা, চতুর্থ মুদ্রণ, জুন ২০০৮, পৃ. ১০৯)

উইলিয়াম অ্যাডাম বাংলার আরবি উচ্চশিক্ষার মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যসূচির প্রশংসা করে বলেন, ‘আরবি বিদ্যালয়ে ব্যাকরণ পাঠ অনেক বেশি সুসংহত। দর্শনশাস্ত্র, তর্কশাস্ত্র ও আইন নিয়মিত পঠিত হয়। ইসলাম সম্পর্কে এখানে সুগভীর আলোচনা হয়। ইউক্লিডের জ্যামিতি, টলেমির জ্যোতিষশাস্ত্র এবং প্রাকৃতিক দর্শন সম্পর্কেও চর্চা করা হয়। অধ্যয়নরত ছাত্রদের জ্ঞান অর্জনে সর্বোচ্চ সফলতা লাভের জন্য সমগ্র পাঠ্যসূচি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অধিবিদ্যার গবেষণামূলক গ্রন্থ দ্বারা আবৃত ছিল। তিনি আরো বলেন, মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের আগে ভারতীয় মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ইউরোপীয়দের মতো উন্নত ছিল। ’ (মো. আবদুল্লাহ আল-মাসুম, ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা : সমস্যা ও প্রসার, বাংলা একাডেমি, ২০০৮, পৃষ্ঠা-৪২৩)

ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম শাসক, আমির-ওমারা ও অভিজাত ব্যক্তিবর্গের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার বিলুপ্তি সাধন হলে ওই সব মাদ্রাসার আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে এই জনপ্রিয় শিক্ষাধারা ধসে পড়ে। ব্রিটিশ সরকারের নানা রীতি, বিশেষত ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশ কর্তৃক লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির ঘোষণায় উপমহাদেশের অগণিত মাদ্রাসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। ক্রমান্বয়ে পাক-ভারত ও বাংলাদেশে মুসলমানদের শিক্ষার ঐতিহ্য ‘ছিনতাই’ হয়ে যায়। এভাবেই শিক্ষার ক্ষেত্রে মুসলমানদের ঐতিহাসিক পরাজয় ঘটে।

দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

১৮৫৭ সালে ঐতিহাসিক সিপাহি বিপ্লব সংঘটিত হয়। আলেম-উলামারা ছিলেন এ বিদ্রোহের অগ্রভাগে। ৩৪ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম ঐক্যবদ্ধভাবে ব্রিটিশদের প্রতিরোধের ডাক দেন। ব্রিটিশদের কবল থেকে ভারতের স্বাধীনতাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন করে তাদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করেছেন কওমি মাদ্রাসার আলেমরা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বালাকোটের ট্র্যাজেডির আগে সাড়ে সাতান্ন হাজার (৫৭,৫০০) আলেম শাহাদাত বরণ করেছেন। (সূত্র : গোলাম আহমাদ মোর্তজা, ইতিহাসের ইতিহাস, মুন্শী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ রিসার্চ একাডেমি, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, চতুর্থ সংস্করণ, জুলাই-২০০৯) আর বালাকোটের ট্র্যাজেডির পর আজাদি আন্দোলনের লড়াকু ১৪ হাজার আলেমকে ফাঁসি দেয় জালিম ইংরেজরা। (সূত্র : জিয়াউর রহমান ফারুকির ভাষণ, যাঁদের ত্যাগে এ দেশ পেলাম)

এটা ছিল এমন এক পরিস্থিতি, যাকে তুলনা করা চলে হজরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ে সংঘটিত ইয়ামামার যুদ্ধের সঙ্গে, যেখানে ৭০ জন কোরআনে হাফেজ শহীদ হয়েছেন। ফলে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কোরআন সংকলন ও সংরক্ষণের জোর তাগিদ দেখা দেয়। একইভাবে আজাদি আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক আলেম শহীদ হওয়ায় দ্বিনের মৌলিক বিষয়াদির হেফাজত করা অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। এমন প্রেক্ষাপটে কয়েকজন আলেমের উদ্যোগে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। লক্ষ্য ছিল, মুসলমানদের পশ্চিমা সভ্যতার আগ্রাসন থেকে মুক্ত রাখা ও ইসলামের হেফাজত করা। ১৮৬৬ সালের ৩০ মে তদানীন্তন অখণ্ড ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে হজরত কাসেম নানুতুভি (রহ.)-এর নেতৃত্বে ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এটিই পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বপ্রথম কওমি মাদ্রাসা। তারপর দেওবন্দের কারিকুলামে দেশে-বিদেশে দ্বিনী মাদ্রাসার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় ১৯০১ সালে বাংলাদেশের প্রথম কওমি মাদ্রাসা ‘দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৭ সালে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়। দেওবন্দ মাদ্রাসার কারিকুলামে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোকে কওমি মাদ্রাসা বলা হয়। ‘কওম’ শব্দটি আরবি। এর অর্থ গোষ্ঠী, গোত্র, জাতি, সম্প্রদায় ও জনগণ। ‘কওমি’ শব্দের অর্থ জাতীয়। (বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃ. ২০৫)

‘মাদ্রাসা’ শব্দটিও আরবি। এর অর্থ হলো অধ্যয়নের স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদ্যাপীঠ। বাংলা একাডেমির অভিধান মতে, মুসলমান ধর্ম ও সংস্কৃতিসংক্রান্ত উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রকে মাদ্রাসা বলা হয়। (ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, পৃ. ৯৭৫, ‘মাদ্রাসা’) সুতরাং কওমি মাদ্রাসা মানে জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেহেতু কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদানের পরিবর্তে মুসলিম জাতির অর্থানুকূল্যে জনসাধারণের কল্যাণে পরিচালিত হয়, তাই এই ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কওমি মাদ্রাসা বলা হয়।

স্বাধীনতাসংগ্রাম ও আলেমসমাজ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে আরো বলেছেন, ‘যাঁরা দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁদের বিরাট ভূমিকা ছিল। তাঁরাই প্রথম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। কাজেই আজকে যে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি, সেখানে তাঁদের অনেক ভূমিকা রয়েছে। কারণ সেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকেই এই যাত্রা শুরু হয়। ’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ কথার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আমরা বলতে চাই, শুধু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনই নয়, ব্রিটিশ-পরবর্তী আমলেও আলেমসমাজ স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান আন্দোলনে দেওবন্দি আলেমদের একটি দল অংশগ্রহণ করেন। হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.), মুফতি শফি (রহ.), হজরত মাওলানা শিব্বির আহমদ উসমানি (রহ.)-এর নেতৃত্বে আলেমরা মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল হন। (ওলামায়ে দেওবন্দ কা দ্বিনী রুখ আওর মসলকি মেজাজ, পৃ. ১৭০)

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে আলেম সমাজের অবদানের বিষয়ে ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে’ নামের বইটি পড়া যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে অসংখ্য আলেম অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংগঠকের ভূমিকায়ও আবর্তিত হয়েছে কওমি মাদ্রাসা। এখানে আমরা স্মরণ করতে পারি, মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের কথা। মাওলানা তর্কবাগীশ ছিলেন ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়া কওমি ঘরানার একজন আলেম। তিনি ছিলেন একাধারে একজন বিজ্ঞ সংগঠক ও যোদ্ধা। তাঁর সম্পর্কে ডক্টর মুহাম্মদ আবদুল্লাহ লিখেছেন : “বাংলদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে (১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ) মাওলানা তর্কবাগীশ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি ‘ওলামা পার্টি’ গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছেন। তিনি ছিলেন ওই পার্টির সভাপতি। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম বৈঠকে মাওলানা তর্কবাগীশ সভাপতিত্ব করেছেন। এখান থেকেই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। তাঁর সভাপতিত্বেই সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার প্রমুখ নির্বাচিত হন। (সূত্র : রাজনীতিতে বঙ্গীয় ওলামার ভূমিকা, পৃষ্ঠা-২০৪)

জঙ্গিবাদ ও কওমি মাদ্রাসা

গত ১১ এপ্রিল আলেম-উলামার সঙ্গে বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আলেমসমাজের সহযোগিতা চেয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা বলতে চাই, আলেমসমাজ বরাবরের মতোই জঙ্গিবাদসহ  দেশবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কাজ করে যাবেন। ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও আত্মঘাতী হামলার কোনো সুযোগ নেই। মুসলিম-অমুসলিমনির্বিশেষে অন্যায়ভাবে কোনো মানুষ হত্যা ইসলামে নিষিদ্ধ। ইসলামের এসব বিধিবিধান যথাযথ অনুসরণ করেন কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। তাই কওমি মাদ্রাসার আলেমদের অবস্থান জঙ্গিবাদ থেকে যোজন যোজন দূরে। কওমি মাদ্রাসায় জঙ্গিবাদকে কিছুতেই প্রশ্রয় দেওয়া হয় না।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান বিষয়ে গবেষণা করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের Criminology and Police Science-এর সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আজিজুর রহমান এবং Centre for Criminological Research, Bangladesh (CCRB)-এর পরিচালক মোহাম্মদ বিন কাসেম। তাঁরা তাদের গবেষণাপত্রের 7.2.3 Prevention-এর দ্বিতীয় লাইনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন : The study found that madrassa is not responsible for the rise of militancy. (p.115)

অর্থাৎ এই গবেষণা খুঁজে পায় যে মাদ্রাসাগুলো জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য দায়ী নয়। গবেষণাপত্রটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের Social Science Research Council, Planning Division-এর কাছে দাখিল করা হয়েছে। তাঁরাও এই মতামতের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেছে বলে আলোচ্য গবেষণাপত্রের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, কওমি মাদ্রাসা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিমত দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার ঐতিহ্য ও অবদানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। একইভাবে তিনি কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। বলা যায়, উপমহাদেশের সুপ্রাচীন এ শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাসের পাতায় তিনি তাঁর নাম যুক্ত করে দিয়েছেন।

লেখক : সিইও

সেন্ট্রার ফর ইসলামিক ইকোনমিকস

rahmanictg@gmail.com

 

পড়া হয়েছে ১৬৬ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ