মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান ‘জাতিগত নিধন’: জাতিসংঘ  

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭, ৫:০৬ অপরাহ্ণ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জাইদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রধান আবাসভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে যে পরিস্থিতি রয়েছে তা স্পষ্টভাবেই অসম।

‘আমরা এমন অনেক রিপোর্ট, খবর এবং স্যাটেলাইটে ধারণকৃত ছবি পেয়েছি যেখানে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়া মিলে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে এবং টানা বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এমনকি পলায়নরত নিরীহ বেসামরিক লোকজনকেও গুলি করছে,’ বলেন আল হুসেইন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্মম এই সেনা অভিযান বন্ধ করতে দেশটির সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান হাই কমিশনার। একই সঙ্গে বলেন, সরকার যেন সব ধরণের আইন লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করে এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি চলমান তীব্র বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি পাল্টে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়।

মিয়ানমার পুলিশ ও সেনাচৌকিতে ২৫ আগস্টের কথিত জঙ্গি হামলার পর থেকে চলমান সেনা অভিযান ও সহিংসতায় এবং সেখান থেকে পালানোর পথে নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত ৫শ’রও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। বাঁচার তাগিদে এক মাসেরও কম সময়ে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ।রোহিঙ্গা-মিয়ানমার-জাতিসংঘ

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, সেনা সদস্যদের বর্বর হত্যাযজ্ঞ এবং গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া থেকে বাঁচতে তারা বাংলাদেশে এসে উঠেছে। কিন্তু মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি, রোহিঙ্গা ‘জঙ্গিদের’ নির্মূল করতেই তারা অভিযান চালাচ্ছে রাখাইন রাজ্যে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।rohingyas-রোহিঙ্গা-মিয়ানমার-জাতিসংঘ

৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।

পড়া হয়েছে ১৬৬ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ