পরমাণু অস্ত্র বিরোধী প্রচারণার জন্য শান্তিতে নোবেল পেলো আইসিএএন

অক্টোবর ৭, ২০১৭, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

শান্তিতে নোবেল-২০১৭ পেয়েছে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানো ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)। আজ স্থানীয় সময় সকালে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) নরওয়ের অসলোর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এক ঘোষণায় নোবেল পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রধান বেরিট রেইস-অ্যান্ডারসন বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রের কোন প্রকার ব্যবহারের ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়কর পরিণতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং এই ধরণের অস্ত্রের বিরুদ্ধে একটি চুক্তিভিত্তিক নিষিধাজ্ঞায় পৌঁছাতে এর (আইসিএএন) অসাধারণ প্রচেষ্টার স্বীকৃতিতে এই গ্রুপকে পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে।

পরমানু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে আইসিএএন।

আইসিএএন ‘ট্রিটি অন দ্য প্রহিবিশন অব নিউক্লিয়ার উইপন্স’ এর প্রচারণা এবং এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। পরমাণু অস্ত্র বিরোধী চুক্তিটি আনয়নে সাহায্য করে এই ক্যাম্পেইন।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রথম কার্যক্রম শুরু করা আইসিএএন ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ১০১টি দেশে এর ৪৬৮টি সহযোগী সংস্থা রয়েছে। এর প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

পুরস্কার ঘোষণার সময় পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্ক করে নোবেল কমিটি। বেরিট রেইস বলেন, আমরা এখন এমন এক বিশ্বে বাস করছি যেখানে পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুরস্কার জয়ের খবরে আইসিএএন নেতা বিট্রিস ফিন ‘আনন্দ’ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান বেরিট রেইস।

শান্তিতে নোবেল জয়ের আনন্দ উদযাপন করছেন আইসিএএন-এর নির্বাহী পরিচালক বিট্রিস ফিন এবং কোঅর্ডিনেটর ড্যানিয়েল হোগ্স্টা

এবছর শান্তিতে নোবেলজয়ী কে হতে পারেন, তা নিয়ে বরাবরের মতোই বিস্তর আলোচনা ছিলো। ৩১৮ জন সুপরিচিত ও অপরিচিত প্রার্থীর মধ্যে থেকে নির্বাচক প্যানেল বেছে নেন নোবেলজয়ীর নাম। নোবেল কমিটির নিয়ম অনুসারে, প্রতিবছর নমিনেশন পাওয়া প্রার্থীদের নাম পরবর্তী ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। কিন্তু এবছর যারা নমিনেশন পাঠান সেই সব সাবেক নোবেলজয়ী, রাজনীতিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বার বার তাদের প্রার্থীর নাম উন্মুক্ত করে দেন। এই তথ্যগুলোর সত্যতা রয়েছে যেমন রয়েছে তেমনই ভুয়া খবরও ছড়ায়।

এবছর যেসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের নমিনেশনের গুজব বা সত্যিকার খবর পাওয়া যায় তারা হলেন, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, জো কক্স, দি বুলগেরিয়ান অর্থোডক্স চার্চ, ডেভিড বোয়ি, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবছর এই তালিকা তৈরি করে নরওয়ের পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট অসলো।

এবছর সম্ভাব্য শান্তিতে নোবেলজয়ী কে কে হতে পারেন সেই তালিকা প্রকাশ করে গার্ডিয়ান। সেখানে জোড়ালোভাবে যেসব ব্যক্তি বা সংস্থার নাম উঠে আসে তারা হলেন, জাভেদ জারিফ ও ফেদরিকা মোগেরিনি, দি হোয়াইট হেলমেট এবং তাদের নেতা রাইদ আল সালেহ, ক্যান দুনদার এবং কুমহুরিয়েট, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, পোপ ফ্রান্সিস, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন, রাইফ বাদাই।

গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করেছিলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস।বহুল প্রত্যাশিত একটি শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রায় ৫২ বছরের রক্তাক্ত সংঘাতের ইতি টানার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পান।কলম্বিয়ায় ৫২ বছরের ওই সংঘাত ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

এর আগের বছর ২০১৫ সালে শান্তিতে নোবেল পান তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সংগঠন ‘তিউনিসিয়ান ন্যাশনাল ডায়ালগ কোয়ার্টেট’।

১৯০১ সাল থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এবারেরটিসহ এ পর্যন্ত শান্তিতে ৯৮টি নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। নোবেল পুরস্কারের চারটি ক্যাটাগরির বিজয়ী সুইডিশ নোবেল কমিটি ঘোষণা করলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা নরওয়ে কমিটি দিয়ে থাকে।

পড়া হয়েছে ৪৬ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ