কিশোর মন কাজ করে কীভাবে?

অক্টোবর ৮, ২০১৭, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

কিশোর বয়সী মন প্রকৃতির একটি শক্তিশালী ফোর্স। কিন্তু তাকে একা এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছেড়ে দিলে তা বিপজ্জনক আবেগে পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং এখানে রইল বাবা-মায়েদের জন্য কিশোর মনকে গভীরভাবে বুঝার একটি ক্রাশ কোর্স। আসুন জেনে নেওয়া যাক কিশোর মনকে বুঝার পদ্ধতিগুলো…

কিশোর-কিশোরীরা এমন সব আবেগ প্রদর্শন করে যা যে কাউকে হতবুদ্ধি করে দিতে পারে। এমনকি ছোট্ট একটি জ্বালাতন থেকেও আবেগের সুনামি তৈরি করে সবকিছু ওলটপালট করে দিতে পারে কিশোর মন।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কিশোর মন একটু ভিন্নভাবেই সজ্জিত হয়। বেড়ে ওঠার কালের সবচেয়ে ভিন্ন এবং ভয়ঙ্কর পর্যায় এটি। কিশোর-কিশোরীরা সহজেই কোনো পরিস্থিতি, লোক বা নিজেদের প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে বা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কারণ তারা একই সময়ে অনেক জিনিসের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে।

সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কিশোর মস্তিষ্ক (১৩-১৭) তাদের শৈশবের স্মৃতিগুলোকে ফিরিয়ে আনে। তাদের মস্তিষ্ককে তুলনা করা হয় এমন একজন ড্রাইভারের সঙ্গে যিনি গাড়ি চালাতে হয় কীভাবে তা জানেন কিন্তু ব্রেক কষতে হয় কীভাবে তা জানেন না।

কিশোর-কিশোরীদের এই অযৌক্তিক মনোভঙ্গির বিপরীতে সঠিক আচরণটি কী হতে পারে তা বাবা-মাকে জানতে হবে।

প্রথমত, ধৈর্য হলো মূল চাবিকাঠি। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে বা শিশুটিকে দূরে সরিয়ে দিলে শুধু তাদের সঙ্গে বাবা-মার দূরত্বই বাড়বে। তারচেয়ে বরং তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতে হবে। তারা যতই আপনাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাক না কেন।

অনেক বাবা-মা অনুভব করেন তাদের কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়েরা তাদের ধারেকাছে ঘেঁষতে চায় না খুব একটা। কিন্তু বাবা-মায়েরা যে ভুলটি করেন তা হলো তারাও তাদেরকে সেভাবে চলতে দেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এই দূরত্বটা আপনি এমন একসময় তৈরি করতে দিচ্ছেন যখন তারা কারো দ্বারা হুমকির শিকার হওয়া, হৃদয়ভাঙা, অবসাদে আক্রান্ত হওয়া, নেশাগ্রস্ত হওয়া এবং খাবার খাওয়ায় অনিয়ম করা এবং অনলাইন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার মতো নানা ঝুঁকিতে থাকে। ফলে তাদের সঙ্গে বাবা-মায়ের এমন বিপজ্জনকভাবে দূরত্ব তৈরি হয় যে বাবা-মায়েরা আর তাদের বিপর্যয়কর কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতেই সহায়ক হতে পারেন না।

আপনি যদি আপনার কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে স্বল্প সময় ব্যয় করেন তাহলে তারা আপনার সঙ্গে অপরিচিত বোধ করবে। ফলে আপনার সঙ্গে তাদের আচরণের ধরনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমন কোনো দূরত্ব তৈরি হলে আজই তা ভেঙে ফেলুন। তাদের সঙ্গে আরো বেশি সময় কাটান। একই ধরনের শখ খুঁজে বের করুন শুধু তাদের সঙ্গে আরো বেশি করে সময় কাটানোর জন্য।

অনেক সময় তাদের অযৌক্তিক আচরণ থেকে হয়তো মনে হতে পারে তারা কোনো কিছুর পরোয়া করে না। কিন্তু সত্য হলো এটি তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি অংশমাত্র।

এমন হলে কখনোই তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে যাবেন না কী হয়েছে। কারণ এতে তারা মনে করবে যে আপনি হয়তো তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে এমনটা অনুভব করছেন। তারচেয়ে বরং কোনো কিছু বিচার করার আগে তাদের দিক থেকে তাদের বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করুন।

তাদের ফেটে পড়ার বিষয়টিকে কখনো খুব বেশি ব্যক্তিগতভাবে নিবেন না। তাদের মস্তিষ্ক এখনো ধৈর্য ধরতে শেখেনি। ফলে তারা তাৎক্ষণিক অনুভুতির ওপর ভিত্তি করে কর্মকাণ্ড চালায়। কিন্তু এর পরিণতিতে কী হতে পারে তা নিয়ে ভাবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত তাদের স্নায়ুর সংযোগগুলো তখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।

মস্তিষ্কের যথেষ্ট উন্নয়ন না হওয়ায় কিশোর বয়সে মানসিক বিশৃঙ্খলাও দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। আপনি যদি তাদেরকে নিজেদেরকে একা করে ফেলতে দেখেন, সামাজিক মেলা-মেশায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে দেখেন বা ওজন কমে যেতে দেখেন তাহলে বুঝবেন আরো কোনো অন্ধকার সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে তারা। সুতরাং তাদেরকে একা ছেড়ে দেবেন না।

পড়া হয়েছে ৭০ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ