দুটি ভুলে ‘নিঃস্ব’ মুশফিক!

অক্টোবর ১০, ২০১৭, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

দুটি হার তাকে ‘নিঃস্ব’ করে দিয়েছে। দুটি ভুলে মুশফিকুর রহিম যেন ‘নিঃসঙ্গ নাবিক’। নৌকা যখন দুলছে, বৈঠা হাতে মাঝি ভাসছেন অকূল দরিয়ায়

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি টেস্টেই বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ এবং মুশফিকের প্রশ্নবিদ্ধ নেতৃত্ব তাকে কাঠগড়ায় তুলেছে। রব উঠেছে তার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেয়ার।

দু’ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটমহল। সাবেকদের সহানুভূতি পাচ্ছেন মুশি। তার প্রতি সতীর্থদেরও সমর্থন অটুট। শুধু বোর্ড পরিচালকদের একাংশ তাকে হটানোর পক্ষে।

গত পরশু ব্লমফন্টেইনে তিনদিনে দ্বিতীয় টেস্ট এবং ২-০তে সিরিজ হেরে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মুশফিক মনের দুয়ার খুলে বসেন। অনিশ্চয়তার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে জানালেন, স্বেচ্ছায় নেতৃত্ব ছাড়বেন না তিনি। বোর্ড চাইলে তাকে সরিয়ে দিতেই পারে। সেই অধিকার বোর্ডের আছে। যার হাত ধরে এলো মুঠো মুঠো সাফল্য, তাকেই ব্রাত্য করে দেয়ার আওয়াজ উঠল।

২৪ ঘণ্টা না যেতেই পাওয়া গেল বিসিবির প্রতিক্রিয়া। আপাতত মুশফিককে টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির।

সিরিজ চলাকালীন মুশফিকের অধিনায়কত্ব কেড়ে নিলে তার প্রভাব পড়ত দলের ওপর, এই চিন্তা থেকে সরে আসে বিসিবি। কিন্তু এ নিয়ে যেভাবে কথা চালাচালি হচ্ছে, তার প্রভাব হতে পারে আরও খারাপ। মুশফিকের ফিল্ডিং পজিশন নিয়ে কে সত্যি বলছেন আর কে নন, সেটাই এখন আলোচনায়।

মুশফিক জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্টই ঠিক করে দেয় তিনি কোথায় ফিল্ডিংয়ে দাঁড়াবেন। রোববার দ্বিতীয় টেস্ট শেষে তিনি বলেছেন, ‘যেটা সত্যি, সেটাই বলেছি।’

কাল এক অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, ‘মুশফিক যেসব কথা বলছে আর আমাদের কাছে যেসব তথ্য আছে, সেটা মিলছে না! মুশফিকের এই ধরনের মন্তব্য দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষতি করছে।’

প্রথম টেস্টে ব্যাটিংসহায়ক উইকেট হওয়ার পরও টস জেতার পর ফিল্ডিং নেয়ার কারণে মুশফিকের সমালোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টেও সেই একই ভুল করেন তিনি। টস জিতে আবারও ফিল্ডিং নেন। দ্বিতীয় টেস্টর প্রথম দিনই ৪২৮ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার মুখে পড়া মুশফিক বলেন, ‘টস জেতাটাই ভুল হয়ে গেছে।’

এসব মন্তব্যের পর বিসিবি সভাপতি মনে করছেন, মুশফিকের সমস্যা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আসলে মুশফিক অন্যদের চেয়ে আলাদা। সে প্রকাশ করতে পারে কম। ও একটু বেশি চুপচাপ থাকে। যারা চুপচাপ থাকে তাদের মনে কি চলছে, সেটা বোঝা যায় না। তবে টস জেতাটাই ভুল ছিল- এটা পৃথিবীর কোনো অধিনায়ক বলবে না। এ কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ওর কিছু সমস্যা আছে। সে নিজে যদি ভালো না খেলে, তাহলে ওর মন খারাপ থাকে।’

তিনি বলেন, ‘সে যেসব মন্তব্য করছে, সেটা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। টস নিয়ে কোনো অধিনায়ক সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কথা বলতে পারে না। এটা দলের জন্য ভালো হচ্ছে না। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা দেখে মনে হয়নি তারা জেতার জন্য মাঠে নেমেছিল।’

আগেরদিন মুশফিক জানিয়েছেন, ‘আমাকে অধিনায়ক করেছে বোর্ড। এখন তারা সরাবে নাকি রাখবে, সে ব্যাপারেও বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।’

মুশফিককে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে নাজমুল হাসান বলেন, ‘কী হয়েছে তার সঙ্গে, কথা বলে আমরা জানার চেষ্টা করব। মুশফিককে সরিয়ে দেব, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে তার অবস্থা বিবেচনা করে যদি মনে করি নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে তার জন্য ভালো হবে, আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা থেকে শুরু করে পারফরম্যান্স- সবই হতাশাজনক। মাঠে অধিনায়ক অনেক বাজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে মুশফিককে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর ব্যাপারে বিসিবির কয়েকজন পরিচালক মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন।

নাজমুল হাসান বলেন, ‘মুশফিকের মধ্যে অস্বস্তিবোধ কাজ করছে। সেটা ম্যানেজমেন্টের কারণে হতে পারে, কোচ হতে পারে, আমরাও হতে পারি। সেটা বড় কিছু না। দেশে ফিরলে ওকে নিয়ে আলোচনা করব।’

এদিকে বিসিবির এক পরিচালক যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ‘বোর্ড মুশফিকের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে। তবে সে যেহেতু অধিনায়ক, তারও কিছু কথা থাকতে পারে। দেশে ফেরার পর তার কথা শুনব।’ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে, মানে মুশফিক আর অধিনায়ক থাকছেন না! খেয়াপারের মাঝিকে এখনই বৈঠা তুলে দিতে হবে অন্যের হাতে!

যুগান্তর

পড়া হয়েছে ৮৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ