নরম সুরের আড়ালে বড় চক্রান্ত মিয়ানমারের

অক্টোবর ১৪, ২০১৭, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির মুখে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দৃশ্যত সুর নরম করেছে মিয়ানমার সরকার। তবে এ নরম সুরে যে বক্তব্যগুলো মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের প্রতিনিধিরা দিচ্ছেন, সেগুলোর আড়ালে নানা ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধিই দেখছে বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো যখনই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠক বা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বসছে, তখনই কোনো না কোনো ইতিবাচক তৎপরতা দেখানোর চেষ্টা করে মিয়ানমার। কিন্তু এর আড়ালে রোহিঙ্গা নিধন ও দেশছাড়া করা অব্যাহত রেখেছে। এর ফল হিসেবে এরই মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হঠাৎ করেই মিয়ানমার দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে অভিহিত করা শুরু করেছে। এ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, “রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ওপরই আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। সে জন্য আমাদের কিছুটা নতুন পথ খুঁজতে হবে। এ কারণেই আমরা আপাতত রোহিঙ্গাদের শরণার্থী বলছি না। একই কারণে না নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতেই প্রথমবারের মতো মিয়ানমার বলেছে যে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা ‘শরণার্থী’।

হঠাৎ করে রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ বানাতে মিয়ানমারের এত আগ্রহ কেন? আমরা এটি চিন্তা করছি। ”পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে ঘোষণা করলে তাদের ফেরত পাঠাতে আপাতদৃষ্টিতে সমস্যা হবে। কারণ মিয়ানমারও চাইছে একটি ফাঁদে ফেলতে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শরণার্থীবিষয়ক সনদের মূল বিষয় ছিল কাউকে জোর করে পাঠানো যাবে না। রোহিঙ্গাদের মধ্যে কাউকেই জোর করে পাঠানোর ইচ্ছাও আমাদের নেই। ’ তিনি বলেন, “শরণার্থী সনদের মূল নীতিকে আমরা সম্মান করছি। এখানে আরো দুটি বিষয় আছে। রাষ্ট্রহীনতা থাকলে ও নিপীড়ন হলে মানুষগুলোকে ‘শরণার্থী’ ঘোষণা করলে তাদের আর ফেরত পাঠাতে পারে না। মিয়ানমারে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন না হলে এবং সাম্প্রতিক নৃশংসতা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ওই দুটি সংজ্ঞায় আমরা আটকে যাব। ”

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, শরণার্থীদের জোর করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায় না। তারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে পারে। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার যে আচরণ করে তাতে তারা আদৌ ফিরে যেতে আগ্রহী হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশসহ পাঁচ দেশের রাষ্ট্রদূত রাখাইন রাজ্য সফরকালে মিয়ানমার ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা রোহিঙ্গারা তাদের জানিয়েছে, প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে আসতে চায়। আর একবার আসতে পারলে তারা আর কখনো ফিরে যেতে চায় না।

গত মাসে কক্সবাজারে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) র্যাপিড রেসপন্স মিশন যে ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাত্কার নিয়েছে, তাদের একজনও মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি। তবে তাদের একটি অংশ বলেছে, সুনির্দিষ্ট কতগুলো বিষয় নিশ্চিত হলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। সেগুলো হলো—রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব; নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অধিকার প্রদান; জীবিকা বিনষ্টের ক্ষতিপূরণ প্রদান; মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় মিয়ানমারে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা। রোহিঙ্গাদের অনেকে এগুলোর পাশাপাশি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কথাও বলেছে।

এসব শর্ত বাস্তবায়নে মিয়ানমারের আগ্রহ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রান্তিকীকরণ ও দেশছাড়া করতেই মিয়ানমার তাদের সব অধিকার বঞ্চিত করে রেখেছে।

গত ২ অক্টোবর মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী ইউ কিয়াও তিন্ত সুয়ে ঢাকা সফরে এসে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ পোষণ করলেও ১৯৯২ সালের দুই দেশের যৌথ বিবৃতি অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন। ওই যৌথ বিবৃতিতে মূলত মিয়ানমারে বসতবাড়ি বা ঠিকানার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

এবার মিয়ানমার যেভাবে বসতবাড়ি পুড়িয়ে রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করেছে, তার ফলে বসতবাড়ির ভিত্তিতে তাদের পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ মোটেও বাস্তবসম্মত নয় বলে গত সপ্তাহে কূটনৈতিক সম্প্রদায়কে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ নতুন চুক্তি প্রস্তাব করে তার খসড়া দিয়েছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আদৌ আন্তরিক কি না তা ওই খসড়া ও এটি বাস্তবায়নে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কেবল নির্মূল করাই নয়, তাদের ফিরে যাওয়া ঠেকানোর লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে অভিযান ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর এমনভাবে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তাদের চিহ্নই আর না থাকে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে এর আগেও মিয়ানমার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও তা বাস্তবায়ন করেনি। ২০১৪ সালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকে মিয়ানমার এর আগে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের পর তা বাস্তবায়নে আর কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টোপথে হেঁটেছে।

এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিয়ানমার বাংলাদেশকে কথা দিয়েছিল যে তারা রোহিঙ্গাদের আর ‘বেঙ্গলি’ বলে অভিহিত করবে না। কিন্তু মিয়ানমার সে কথা রাখেনি। বাংলাদেশের অব্যাহত প্রতিবাদ সত্ত্বেও মিয়ানমার এখনো রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ বলে অভিহিত করছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা জানান, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ জানতে পারে যে মিয়ানমার সারা বিশ্বে এমন একটি প্রচারপত্র বিলি করছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়। এর পরপরই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে রোহিঙ্গা জাতিসত্তার বিকাশ ও তাদের সঠিক ইতিহাস প্রচার করে। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন বলছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের এবং এ সমস্যার সমাধানও মিয়ানমারের হাতে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চাপে পড়লেই কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে মিয়ানমার। গত মাসের প্রথমার্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রাক্কালে মিয়ানমার আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। গত মাসেই নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রকাশ্য আলোচনাকে সামনে রেখে সু চি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। এ সপ্তাহে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ও জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জেফরি ফেল্টম্যানের মিয়ানমার সফরের প্রাক্কালে সু চি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তাঁর সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইইউ সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আগামী সোমবারের বৈঠকে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তা ও বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ইতিমধ্যে মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। এরই মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গতকাল বলছে, রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা তদন্তে তারা কমিটি গঠন করেছে। অন্যদিকে গতকালই সু চির ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ এক উপদেষ্টা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, রোহিঙ্গাদের বিপন্ন্নতায় সু চি ভেঙে পড়েছেন। তিনি এ সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে পরিস্থিতি যাতে আরো অবনতি না হয় সে ব্যাপারেই সবার সতর্ক হওয়া দরকার।

সু চি ও তাঁর উপদেষ্টা যখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে অনেকটা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন তখন মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইং রোহিঙ্গাদের অস্বীকার করে বলেছেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের কেউ না। তাঁরা ‘বেঙ্গলি’, অর্থাৎ তত্কালীন ‘বেঙ্গল’ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে মিয়ানমারে গেছে।

সু চির অবস্থানের সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অবস্থানের কোনো পার্থক্য আছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে সামনে রেখে কাজ করছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। দেশটিতে পার্লামেন্টে সামরিক সদস্যদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে। সামরিক সদস্যরা তাদের সামরিক পোশাক পরেই পার্লামেন্ট সেশনে অংশ নেন। গুরুত্বপূর্ণ অনেক মন্ত্রণালয় এখনো সামরিক বাহিনীর হাতে। এমন পরিস্থিতিতে নোবেল বিজয়ী সু চির কাছে যতটা জোরালো ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা তিনি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা ছাড়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাবিরোধী উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থানও এ ক্ষেত্রে দায়ী। সামরিক বাহিনীর প্রতি ওই উগ্রজাতীয়তাবাদী শক্তির জোরালো সমর্থন আছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ও অক্টোবর মাসে ভারতের গোয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সু চির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবারই রোহিঙ্গা সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। সু চি বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় নতুন এসেছেন। সমস্যা সমাধানে তাঁর আরো সময় প্রয়োজন।

সু চির সরকার গত বছর আগস্টে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশন (আনান কমিশন নামে পরিচিত) গঠন করার পরও এ নিয়ে বিরোধিতা করা হয়। ওই কমিশন বিলুপ্ত করার প্রস্তাব মিয়ানমার পার্লামেন্টে উঠলেও অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়। তবে রাখাইন রাজ্যের পার্লামেন্ট আনান কমিশন প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি ওই কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে রাখাইন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানান। গত ২৪ আগস্ট আনান কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধানসহ ৮৮ দফা সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাখাইন রাজ্যে জঙ্গি হামলার অজুহাতে রোহিঙ্গা নিধন ও দেশ ছাড়া করার অভিযান শুরু করে মিয়ানমার বাহিনী। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযান ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এমনকি অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা পুরুষদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় মাইক ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের মিয়ানমার ছাড়তে বলা হয়েছে এবং এখনো তা হচ্ছে।

আনান কমিশনের প্রতিবেদন নিয়েও মিয়ানমারের কৌশল : গত মাসের প্রথমার্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে ও নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জরুরি বৈঠকের প্রাক্কালে মিয়ানমার সরকার অনেকটা তড়িঘড়ি করেই আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সুয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সুপারিশগুলোও বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। জানা গেছে, ওই দুটি কমিশনের সুপারিশগুলো পরস্পরবিরোধী। তাই পরস্পরবিরোধী সুপারিশগুলো মিয়ানমার কিভাবে বাস্তবায়ন করবে সে নিয়েই কৌতূহল ছিল বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের। পরে অবশ্য মিয়ানমার সরকার বলেছে, তারা আনান কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে। তবে বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত সমাধান চাইলে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো একসঙ্গেই বাস্তবায়ন করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ চায় না, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরে আবার ফিরে আসুক।

নিরাপত্তা পরিষদকে আনান কমিশনের ব্রিফিং : আনান কমিশনের প্রধান হিসেবে গতকাল মধ্য রাতে নিরাপত্তা পরিষদকে গত মাসে তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। ওই প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে বর্তমান সংকটের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক ও মানবিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে।

কফি আনান গত রাতে নিরাপত্তা পরিষদকে তাঁদের মূল সুপারিশগুলো তুলে ধরেন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেগুলো বাস্তবায়নের ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি রাখাইন রাজ্যের শান্তি ও উন্নয়নে তাঁর ওই প্রতিবেদনকে রোডম্যাপ হিসেবে ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা অভিযান দ্রুত বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

জানা গেছে, গত রাতে কফি আনান নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের যে অনুষ্ঠানে ব্রিফ করেন সেটি পরিষদের কোনো বৈঠক ছিল না। এমনকি নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক কক্ষেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্য একটি সম্মেলন কক্ষে ওই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিষয়টি সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ও অন্য অংশীদারদের অনানুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি করা। এ ধরনের ব্রিফিংয়ের তথ্য নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক রেকর্ডেও থাকে না।

কালের কন্ঠ

পড়া হয়েছে ৬১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ