নেতা আমলা পুলিশের জন্য জামায়াতের অশুভ ফাঁদ!

অক্টোবর ২৮, ২০১৭, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

 

কয়েক মাস আগে ছুটি নিয়ে সিঙ্গাপুরে যান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সেখানে ওঠেন এক আবাসিক হোটেলে।

কিন্তু তাঁর অজান্তেই ঢাকা থেকে তাঁকে অনুসরণ করে সিঙ্গাপুরে একই হোটেলে গিয়ে ওঠেন জামায়াত-শিবিরের বিশেষ টিমের সদস্যরা। তাঁরা সঙ্গে নিয়ে যান এক তরুণী মডেলকে। একসময় ওই মডেলের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এবার সিঙ্গাপুরে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁরা এক কক্ষে রাত যাপন করেন। কিন্তু এটা যে চরিত্র হননের একটি ফাঁদ সেটা ওই কর্মকর্তা বুঝতে পারেননি। দুজনের অন্তরঙ্গ মুহৃর্তের দৃশ্য কৌশলে স্মার্ট ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন ওই মডেল। পরে সেই ছবি তিনি পাঠিয়ে দেন জামায়াত-শিবিরের বিশেষ গ্রুপের কাছে। ছুটি শেষে দেশে ফেরার পর হঠাৎ একদিন ওই কর্মকর্তা জানতে পারেন, তিনি জামায়াত-শিবিরের ফাঁদে পড়েছেন।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-শিবিরের এমন চরিত্র হননের ফাঁদে এরই মধ্যে পা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন আরো কয়েকজন কর্মকর্তা, সরকারদলীয় রাজনীতিবিদ ও পুলিশ কর্মকর্তা।

সূত্র মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারকে বিপাকে ফেলতে কয়েক শ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী। বিভিন্ন ধাপে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ-র্যাব ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির একটি তালিকা করা হয়েছে। তাঁদের ফাঁদে ফেলে চরিত্র হনন করতে ছাত্রশিবিরের বাছাই করা নেতাদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ টিম। ফাঁদ হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ভাড়া করা হয়েছে অর্ধশতাধিক তরুণীকে। এদের মধ্যে কেউ মডেল, কেউ হাল আমলের চলচ্চিত্র নায়িকা। এ ছাড়া আছে ঢাকার কয়েকটি কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ফাঁদে ফেলে চরিত্র হনন করার জন্য জামায়াত যে তালিকা করেছে তাতে আছেন ২০ জন রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ১৩ কর্মকর্তা, পুলিশের ডিআইজি পর্যায়ের ১০ এবং এসপি পর্যায়ের ৪০ জন কর্মকর্তা। এ ছাড়া র্যাব ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাও আছেন। চরিত্র হননের ছক বাস্তবায়ন করতে জামায়াতের শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা বিদেশে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে শিবিরের একটি চৌকস দল। দেশে কাজ করছেন রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির নেতারা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে এমন নেতাকর্মীদের এই কাজে লাগানো হচ্ছে যারা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব একটা থাকে না।

একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানেও এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। ওই গোয়েন্দা সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দল হিসেবে জামায়াত একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু দলটির পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা দেশি-বিদেশি ৪৩টি এনজিও এবং অর্ধশতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখনো সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচনের আগে এসব প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগাবে তারা। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে দলটি যে রকম সহিংসতা চালিয়েছিল, এবার সে ধরনের কর্মকাণ্ডে নাও যেতে পারে। এবার ভিন্ন কৌশলে কাজ শুরু করেছে দলটি। প্রথম ধাপে তারা ক্ষমতাসীন দলের সামনের সারির নেতাদের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চরিত্র হননের মাধ্যমে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর ভুক্তভোগী এক সদস্য জানান, তিনিও জামায়াত-শিবিরের চরিত্র হননের ফাঁদে পড়েছেন। উঠতি বয়সী এক মডেলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা হয়। একপর্যায়ে ওই মডেল সটকে পড়লে তিনি জানতে পারেন, ওই মডেল তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য গোপনে ভিডিওতে ধারণ করেছেন জামায়াত-শিবিরের বিশেষ টিমের ছক অনুযায়ী।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলার পাশাপাশি চরিত্র হননের ভিডিও চিত্র নির্বাচনের আগে ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে জামায়াত পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের রিমান্ডে নিয়ে এরই মধ্যে সরকারবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের ষড়যন্ত্রের তথ্য গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি উত্তরা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জামায়াতের বর্তমান আমির মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমানসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকে। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। এ ছাড়া চাঁদে সাঈদীকে দেখার গুজব ছড়িয়েও সারা দেশে বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধন ও তাণ্ডব চালিয়েছিল তারা। জামায়াত-শিবির এখনো নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এম এ রশিদ বলেন, জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ থাকার তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাছে রয়েছে। নির্বাচনের আগেও তাদের নানা অপতৎপরতা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে।

কালের কন্ঠ

পড়া হয়েছে ১৩১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ