বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগকেই যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন

নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সদ্য পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ‘বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগকেই তিনি যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন।’

সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তার একজন ঘনিষ্ঠভাজনের মাধ্যমে তিনি শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তর প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন। তবে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমে তিনি আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রটি জানায়, এর আগে পদত্যাগপত্র সঙ্গে নিয়ে ১০ নভেম্বর সকালে এসকে সিনহা সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান। পদত্যাগপত্রটি দেশে যথাযথ স্থানে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত তার ঘনিষ্ঠভাজন ব্যক্তিটিও ছিলেন। ওইদিনই প্রধান বিচারপতি কানাডার উদ্দেশে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেন।

জানা যায়, এসকে সিনহা ৫ নভেম্বর কানাডা থেকে সিঙ্গাপুর আসেন। এর আগে তিনি আসার বিষয়ে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার আগে প্রধান বিচারপতি নিজেই টেলিফোনে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এদিকে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে যুগান্তরের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ মুঠোফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত এসকে সিনহার একজন ঘনিষ্ঠভাজন ব্যক্তি শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, ৫ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে আসার পর প্রধান বিচারপতি ওঠেন পার্ক রয়েল হোটেলে। হোটেলের ১৫০৭ নম্বর কক্ষটি তার নামে বুক করা ছিল। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

সূত্রটি আরও জানায়, পদত্যাগের আগে তার সঙ্গে নানা বিষয়ে দীর্ঘ আলাপও করেন এসকে সিনহা। আলোচনাকালে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তাকে নিয়ে নানা ঘটনা ঘটে গেছে এবং সরকারও তাকে স্বপদে ফেরাতে চায় না। এ অবস্থায় দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হবে। আসলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রবল চাপের কারণে তিনি নিজেও এখন মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত। তাই এ মুহূর্তে পদত্যাগের সিদ্ধান্তটাই সঠিক বলে তার কাছে মনে হচ্ছে।

নানা কথার ফাঁকে ওই ব্যক্তির কাছে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এসকে সিনহা। তিনি বলেন, সব সময় বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার কাজ করেছেন। তার সময়েই দেশের যুদ্ধাপরাধী দলের শীর্ষ নেতারা চ‚ড়ান্ত দণ্ড পেয়েছেন। দণ্ড কার্যকরও হয়েছে তার আমলে। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দুশ্চিন্তা থাকাও অস্বাভাবিক নয়। তার নিজের কাছেও অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। তবে তিনি যেহেতু কোনো অন্যায় করেননি তাই এসব চিন্তা ক্ষণিকের জন্য মাথায় এলেও পরক্ষণে তা ঝেড়ে ফেলেন।

এসকে সিনহা মনে করেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকারের কাছে ভুল বার্তা গেছে। আসলে তিনি বিচারপতিদের মর্যাদা ও একটি সুন্দর রাষ্ট্র চেয়েছেন। এজন্য ওই রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সেটা ভিন্ন ভাবে নিয়েছে।

সূত্র জানায়, এসকে সিনহা দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। ব্যয়বহুল দীর্ঘ চিকিৎসায় বর্তমানে তিনি শতভাগ ক্যান্সারমুক্ত। এখন ফলোআপের জন্য তিনি মাঝে মাঝে সিঙ্গাপুরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে যান।

জানা গেছে, প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেয়ার আগে থেকেই সিঙ্গাপুরে গেলে এসকে সিনহা তার ঘনিষ্ঠভাজন জনৈক রঞ্জিত সাহার কাছে থাকেন।

রঞ্জিত সাহা ১৯ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন। প্রথমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সিঙ্গাপুরে গেলেও রঞ্জিত সাহা পরে ভারতীয় পাসপোর্ট নেন। তবে তার স্ত্রী এখনও বাংলাদেশি পাসপোর্টই ব্যবহার করেন। রঞ্জিত সাহা সিঙ্গাপুরে একটি আইন সেবা প্রতিষ্ঠানে (ল’ ফার্ম) কাজ করেন।

এদিকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কমিউনিটি নিউজ পোর্টালে নানা খবর প্রকাশিত হচ্ছে। যা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মন্তব্য। আর চায়ের টেবিলে আমজনতার আলোচনাও সরগরম। তবে সেসব তথ্যের সত্যতা বা সূত্র প্রশ্নবিদ্ধ। যুগান্তর

পড়া হয়েছে ৪৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ