নতুন করে লিখতে হতে পারে মানব প্রজাতির বিবর্তনের ইতিহাস

নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১২:০৬ অপরাহ্ণ

ঠিক কখন এবং কোথায় আধুনিক মানব প্রজাতির আবির্ভাব ঘটেছে? নৃবিজ্ঞানীরা এই প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছেন দশকের পর দশক ধরে। এ-সম্পর্কিত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা নিদর্শন থেকে মোটামুটি একটা ধারণাও করা গেছে।

আর তা হলো, ২ লাখ বছর আগে আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলে আধুনিক মানব প্রজাতি হোমো সেপিয়েন্সদের উৎপত্তি হয়েছে।কিন্তু সম্প্রতি জার্নাল নেচারে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়েছে তাতে আগের ওই অনুমান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ বলছে যে আধুনিক মানব প্রজাতি বা হোমো সেপিয়েন্সদের আবির্ভাব ঘটেছে আরো অন্তত এক লাখ বছর আগে!

নতুন করে আবিষ্কৃত এই ফসিল হয়তো হয়ে উঠতে পারে হোমো সেপিয়েন্সদের সবচেয়ে পুরনো কোনো নিদর্শন। যাদি আরো গবেষণায় তা নিশ্চিত হয়। আর এর ফলে এ-ও প্রমাণিত হবে যে, শুরুতে আমাদের প্রজাতির সবচেয়ে প্রাচীন সদস্যরা শুধু সাব-সাহারান আফ্রিকায় নয় বরং পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও বাস করত।

নতুন করে আবিষ্কৃত ফসিলগুলোর একটি হলো একজন মানুষের খুলি। ১৯৬১ সালে মরোক্কোর মারাকেশের পশ্চিমের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত হয় খুলিটি। সে-সময় গবেষকরা ওই খুলিটির বয়স নির্ধারণ করেন মাত্র ৪০ হাজার বছর; আমাদের ইউরোপীয় আত্মীয় নিয়ান্ডারথালদের বিলুপ্তির মাত্র কয়েক হাজার বছর আগের।

এর ৪০ বছর পর নৃবিজ্ঞানী জ্যাঁ-জ্যাক হাবলিন এবং জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটে থেকে আসা তার নেতৃত্বাধীন গবেষকদল পুনরায় সেখানে খনন করেন।

এবারের খননে তারা সেখানে পাঁচজন মানুষের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেন। তাদের সঙ্গে ছিল চকমকি পাথরের এক সেট ব্লেড। যা সম্ভবত রান্নার জন্য সৃষ্ট আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।ওই চকমকি ব্লেডের রেডিও কার্বন ডেটিং করে হাবলিন জানান, নতুন আবিষ্কৃত ওই হাড়গুলো ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার বছর আগেকার মানুষদের!

তখনো পর্যন্ত এর চেয়েও আরো বড় আবিষ্কারটি হয়নি। হাবলিন দেহাবশেষগুলোর চোখের গর্তগুলো আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে আবিষ্কার করলেন, তাদের চেহারা হোমো ইরেকটাস বা হোমো হেইডেলবারজেনেসিস এর মতো নয়। বরং তার নিজের মতোই! এই লোকগুলোর চেহারা আরেকটু ছোট এবং খুলি আরো গোল! একেবারে আধুনিক মানবদের মতোই!

আর তাদের মগজের খাঁচাটিও প্রাচীন কোনো মানব প্রজাতি এবং আধুনিক মানব প্রজাতির মাঝামাঝি কোনো প্রজাতির মানুষদের হবে হয়তো। তবে আধুনিক মানব প্রজাতিরই পূর্ব পুরুষের সঙ্গে বেশি মিল তাদের।

হাবলিন বলেন এ থেকে ধারণা করা যায় যে, আমাদের প্রজাতিরই পূর্ব পুরুষ হয়তো তারা।

তার মানে আফ্রিকা এবং অন্যান্য স্থানে যে হোমো সেপিয়েন্সদের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে হয়তো তাদের সকলেরই পূর্বপুরুষ ছিল মরোক্কো অঞ্চলের ওই মানুষেরা।

এই ধারণা যদি সত্যি বলে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে নতুন করে লিখতে হবে আধুনিক মানব প্রজাতির আবির্ভাবের ইতিহাস। হোমো সেপিয়েন্সদের আবির্ভাব সম্পর্কে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ধারণাটি হলো সাবা-সাহারান আফ্রিকার মধ্যবর্তী কোনো অঞ্চলে হয়তো হোমো সেপিয়েন্সদের আবির্ভাব ঘটেছিল। যেই অঞ্চলকে অনেক গবেষক ইডেন গার্ডেন নামে অভিহিত করেছেন। আর সেখান থেকেই হোমো সেপিয়েন্সরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু এখন নৃবিজ্ঞানী জ্যাঁ-জ্যাক হাবলিন এবং তার গবেষকদল বলছেন, হোমো সেপিয়েন্সরা হয়তো পুরো আফ্রিকাজুড়েই বাস করত।

হাবলিন বলেন, আফ্রিকায় কোনো ইডেন গার্ডেন নেই। আর যদি ইডেন গার্ডেন বলতেই হয় তাহলে পুরো আফ্রিকাকেই সেই ইডেন গার্ডেন বলতে হবে।

ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্বের সহযোগী অধ্যাপক সোনিয়া জাকরজেওস্কি বলেন, হাবলিনের আবিষ্কার অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিকদেরকেও নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে। মানুষের উৎপত্তি সম্পর্কে এতদিন তারা যেভাবে চিন্তা করত তাতে বদল আনতেই উৎসাহিত করবে।

সোনিয়া বলেন, হোমো সেপিয়েন্সদের বিবর্তন সম্পর্কে এতদিন যে বুঝ ছিল তা সত্যিই বদলে দিতে পারে এই আবিষ্কার। আর এই আবিষ্কার নিশ্চিতভাবেই হোমো সেপিয়েন্সদের বিবর্তন-সম্পর্কিত বর্তমান স্বীকৃত মডেলটি নিয়ে আমাদেরকে পুনরায় ভাবতে বাধ্য করছে।
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট

পড়া হয়েছে ৬১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ