উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে হারতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

মার্কিন এক সাবেক কমান্ডার সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে গেলে পরাজিত হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সঙ্গে যুদ্ধ বেধে গেলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তর কোরিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যাবে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সেনা রয়েছে। ফলে সেখানে যুদ্ধের রসদ সরবরাহে ঘটবে বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জ্যা-মার্ক জোয়াস যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে এ সতর্কতা দিয়েছেন। বেশ কিছুদিন আগে তিনি এমন সতর্কবার্তা দিয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি লিখেছিলেন। তার সেই চিঠি এখন ফাঁস হয়ে গেছে। তা থেকেই জানা যায় এমন সব কথা। জ্যা-মার্ক আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ঘাঁটিগুলোতে গতানুগতিক বা রাসায়নিক হামলা হতে পারে।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, জ্যা-মার্ক ওই চিঠিটি লিখেছিলেন এক কংগ্রেস সদস্যদের কাছে। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন নিউজউইকের হাতে আসে। নিউজউইক জানায়, কংগ্রেস সদস্যদেরকে উদ্দেশ করে জ্যা-মার্ক বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শাসনযন্ত্রের বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক অভিযান চালানো হলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ হতাহত হবে। উদ্ধার অভিযান সংকটে পড়বে। ১ লাখের বেশি বেসামরিক মার্কিনি কোরীয় উপদ্বীপে আছেন। তাদেরকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে এসব মার্কিন নাগরিক কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে জমায়েত হবে। তারা চাইবে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হোক। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে উত্তর কোরিয়া যে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না এমনটা বলা যায় না। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী কোরিয়ার ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন জ্যা-মার্ক।

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য প্রায় ২৮ হাজার ৫০০। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হয় তা হবে সর্বাত্মক। ব্যাপক রক্তপাতের। কারণ দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের দিকে তাক করা আছে উত্তর কোরিয়ার বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র। নিরস্ত্রীকরণ এলাকা থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল মাত্র কয়েক মাইল দূরে। ওদিকে এমন যুদ্ধ শুরু হলে তা বিপর্যয়কর হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের (সিএফআর) মতে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে সদস্য রয়েছে ১১ লাখ। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বলছে, উত্তর কোরিয়ার হাতে রয়েছে ভয়াবহ সব পরমাণু অস্ত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গিয়ে আঘাত করতে সক্ষম। লেফটেন্যান্ট জ্যা-মার্কের চিঠির খবরটি এমন এক সময়ে বেরিয়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।

যুগান্তর

পড়া হয়েছে ৬৬ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ