ইরান-ইরাকে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ৪৪৫

নভেম্বর ১৪, ২০১৭, ১:৩৮ অপরাহ্ণ

ইরান ও ইরাকের উত্তর সীমান্তে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া খবরে অন্তত ৪৪৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে ইরানের সংবাদ মাধ্যম পার্সটুডে। নিহতদের মধ্যে ৪৩৮ জনই ইরানের নাগরিক। ৭ দশমিক ৩ মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি।

ইরানের স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এর মূল কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পটি মূল আঘাত হেনেছে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে। ওই অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেই নিহত হয়েছে ১২৯ জন। নিহতদের মধ্যে সারপোলে জাহহাব শহরে ৬৮ জন, কাসরে শিরিন শহরে ৩৮ জন এবং কেরমানশাহ শহরে ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছে।

ইরানের পার্সটুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির সুলাইমানিয়া প্রদেশে অন্তত ৩০ জন নিহত ও কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছে।

ইরানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক অধিদফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে কেরমানশাহ প্রদেশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম এলাকার কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভূমিকম্পকবলিত এলাকাগুলোতে জোরেশোরে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রেজা ফাজলিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আলমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, কুর্দি সরকার শাসিত সুলাইমানিয়া শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে হালাবজার কাছে ভূমিকম্প প্রচণ্ডভাবে আঘাত হেনেছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব অনেক হলেও সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বাগদাদের ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে।

বার্তা সংস্থা সিএনএনের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পে ইরাকে ৭ জন নিহত ও ৩ শতাধিক আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পরই কুর্দিস্থানে জরুরি অবস্থা জারি করে কুর্দিস্থান সরকার। সুলাইমানিয়ার অধিবাসীদের বাড়ি-ঘরের বাইরে অবস্থান করতে পরামর্শ দিয়েছে। ইরাকের আবহাওয়া অধিদফতরও ভূকম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অট্টালিকায় না থাকতে এবং লিফট ব্যবহার না করতে স্থানীয়দের সতর্ক করেছে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটার শক হয়েছে এবং ইরানের কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, ইলাম, খুজিস্তান, হামেদান, পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব আজারবাইজান, লোরেস্তান, তেহরান, কাজভিন, যানজান ও কোম প্রদেশ থেকে তা অনুভূত হয়।

এদিকে ইরান-ইরাকের পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কোস্টারিকায়ও শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার রাতে দেশটির রাজধানী সান হোসের নিকটবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ৬ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, সান হোসের ৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের ২০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সহায়তায় এগিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। প্রথমেই এ কাতারে সামিল হওয়ার প্রস্তাব দেয় তুরস্ক।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের সংকেত পেলেই ৪ হাজার তাবু ও ৭ হাজার কম্বলসহ ৯২ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের এ দুর্দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেছেন, জরুরি ত্রাণ সরবরাহের মাধ্যমে ইরানের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রস্তুত। ইরানের ভয়াবহ হতাহতের ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছে পাকিস্তান।

পড়া হয়েছে ৫১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ