মিসরে জুমার নামাজে বোমা গুলি : নিহত ২৩৫

নভেম্বর ২৫, ২০১৭, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
*সন্ত্রাসী হামলা : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি

মিসরের উত্তরাঞ্চলীয় সিনাই প্রদেশে মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলি ও বোমা হামলায় অন্তত ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আল-আরিশের কাছে বির-আল-আবেদ শহরের আল-রাওদাহ মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পরে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা করে সন্ত্রাসীরা। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি, সিএনএন ও এএফপির।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, মুসল্লিরা নামাজরত অবস্থায় সন্ত্রাসীরা প্রথমে সংঘবদ্ধ বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর একদল বন্দুকধারী অতর্কিত গুলি চালায়।

এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি।

দেশটির মাসরিয়া টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালিদ মুজাহিদ দাবি করেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি সন্ত্রাসী হামলা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা ৪টি গাড়িতে এসেছিল। কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালায় তারা। বোমা হামলার পর মসজিদে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় মুসল্লিদের দিগি¦দিক পালাতে দেখা যায়। বোমা ও গুলির আঘাতে বেশিরভাগ লোকই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও অনেকে মারা গেছেন।

মিসরের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ‘নীল টিভি’র খবরে বলা হয়, সিনাইয়ের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা। হামলার শিকার মসজিদটি যে এলাকায় অবস্থিত সেটি সুফিবাদী ইদ আল জারিরির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। মনে করা হয়, এই ইদ আল জারিরিই সিনাইয়ে সুবিবাদের প্রতিষ্ঠাতা।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজনের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো লিখেছে, মানুষ যখন ছুটে পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপরও গুলি চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা কয়েকটি ছবিতে মসজিদের মেঝেতে সারি সারি মৃতদেহ এবং রক্তমাখা জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের হাসপাতালে নিতে মসজিদের প্রবেশপথে দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্সের সারি।

দেশটির কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে হামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। এরপরই তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

এদিকে ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে দেশটির অত্যন্ত গোলযোগপূর্ণ একটি প্রদেশ এ সিনাই। ২০১৪ সালে এখানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জঙ্গি দলগুলোর উত্থান হয়। এরপর থেকে সুন্নি মুসলমান ও খ্রিস্টানরা তাদের টার্গেটে পরিণত হয়। তখন থেকে মিসরে একের পর এক জঙ্গি হামলায় শত শত পুলিশ, সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে আইএসসংশ্লিষ্ট সিনাই প্রদেশ জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায়। তবে শুক্রবারের হামলা ছিল এসব হামলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

এদিকে পবিত্র স্থান মসজিদে এ ধরনের হামলাকে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব বরিস জনসন। এক টুইটবার্তায় তিনি এ নিন্দা জানান।

মিসরে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত জন কাসন আরেক টুইটে হামলাকে ‘শয়তানের কাজ’ বলে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, মসজিদ ও গির্জায় হামলা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।

জর্দানের রাজা আবদুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে মাহমুদ আব্বাস বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মিসরীয়দের পাশে আছি।

পড়া হয়েছে ৩০ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ