‘লোকটা ঢাকাটা রে এতিম বানাইয়া চইল্যা গেল’

ডিসেম্বর ৩, ২০১৭, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

তেজগাঁও লেভেলক্রসিং ধরে সাতরাস্তার সংযোগ সড়কের পাশে চায়ের দোকানে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেশ বড়সড় এক জটলা। কী হয়েছে এখানে—প্রশ্ন করতেই কিছুটা অবাক দৃষ্টি নিয়ে জটলার ভেতরের একজন বলে উঠলেন, ‘আপনি কি এই দ্যাশে থাকেন না? মেয়র আনিসুল হক মারা গেছেন শুনেন নাই।

লোকটা ঢাকাটা রে এতিম বানাইয়া চইল্যা গেল। এই যেই রাস্তা দিয়া আসছেন; এই রাস্তা, এই আইল্যান্ড, বাগান—এইগুলা সবটাই তো আনিসুল হক করছেন। ’ আরেকজন বললেন, ‘আ রে ভাই, খালি কি এই রাস্তা, এইখানের ট্রাকস্ট্যান্ডে যে অনাচার ছিল, যে অসামাজিক পরিবেশ ছিল, সেইটা বন্ধ করছে কে—এই আনিসুল হক। খালি কি এইখানে? গাবতলী রেও তো মানুষ বানাইয়া রাইখ্যা গেছে। ইস, সেই মানুষটা এইভাবে চইল্যা গেল!’পরে কাকলীর মোড় দিয়ে বনানী হয়ে উত্তরার দিকে যাওয়ার পথে বাসের যাত্রীদের মুখে একই প্রতিধ্বনি ফুটে ওঠে। বাসযাত্রী উত্তরার বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম আশপাশে তাকিয়ে বলেন, ‘এইখানটায় তো মনেই হয় না যে আমরা বাংলাদেশে আছি। আগে তো কল্পনাও করতে পারিনি এই দূষিত ঢাকায় এমন পরিবেশ থাকবে; সবটা না পারলেও আনিসুল হক যা করে গেছেন, সেটাও অনেক দিন ঢাকাবাসীর মনে থাকবে। ’

কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে নামতেই যাত্রীছাউনিতে বসা একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুমানা সাবরিনার আলাপের বিষয়েও ছিলেন আনিসুল হক। ‘তাঁকে আমাদের মতো তরুণ প্রজন্মের আইডল মনে হয়েছে।

ভদ্রলোক এই নগরীর অন্ততপক্ষে একটা অংশকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছিলেন। সফলও হয়েছিলেন। এই যে আমরা এখানে বসে আছি—পেছনে জিডিটাল ডিসপ্লে বোর্ড, এত চমৎকার ফুটপাত রীতিমতো বিদেশ বিদেশ এক আমেজ। রুচি না থাকলে যত বড়ই নেতা হোক, এমন আধুনিকতার পরিচয় কজন দিতে পারেন?’নিজ বাড়ির কাছাকাছি দীর্ঘকালের এক অসাধ্য সাধন করে গেছেন মেয়র আনিসুল হক। বনানী ২৭ নম্বর সড়কের (গোরস্তানসংলগ্ন) জমি দখলকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী মোনেম খাঁর বাড়ির অংশবিশেষ ভেঙে দেন আনিসুল হক। যার সুবাদে এখন ওই সড়কটির চেহারা পাল্টে গেছে; আগের চেয়ে কয়েক গুণ প্রশস্ত হয়েছে সড়কটি। পুরো এলাকার মানুষ যেমন এর সুফল পাচ্ছে; তেমনি ওই সড়ক ধরে গুলশান-বনানীসহ আশপাশের অনেক এলাকার পরিবহন চলাচল সুবিধা বেড়েছে।

গুলশান-বনানী এলাকায় চালু করা ‘ঢাকার চাকা’ মানেই যেন আনিসুল হক! তাঁর সুবাদেই ঢাকায় গণপরিবহনের যোগ হয় এমন যাত্রী পরিষেবা। নিয়মিত ওই বাসে যাতায়াতকারী মাহমুদুল হক বলেন, ‘অনেক আগে একসময় ঢাকায় কিছু এসি গণপরিবহন চালু হয়েছিল। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এই প্রথম আবার এমন আধুনিক যাত্রীসেবা চালু হয়েছে সদ্যঃপ্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগেই। ’

ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবরে গতকাল শুক্রবার অন্য দিনগুলোর মতোই ছিল প্রাতর্ভ্রমণকারী মানুষের ঠাসাঠাসি ভিড়। সেখানেও সবারই গল্প-আড্ডা-আলোচনার অনেকটা অংশ জুড়েই শোনা যায় আনিসুল হকের নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরের আড্ডায়ও ছাত্র-ছাত্রীদের মনে দাগ কেটে গেছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র। রওনাক নামের এক ছাত্র বলেন, ‘বয়সের তুলনায় লোকটা চেহারায়, মেধায়, কথায় ও কাজে অনেক স্মার্ট ছিলেন। এই সময়ে এমন স্মার্ট লোকেরই নগর পিতা হওয়া দরকার। ’

এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণের অংশ হলেও সেখানে থাকা রিকশাচালক আলাউদ্দিন বলেন, ‘সকালে ঘরতন বাইর অইয়্যাই খুবর হুনলাম মেয়র আনিসুল হক মইর‌্যা গেছে গা। মনডাই খারাপ অইয়া গ্যাছে। বেডায় তো ভালোই আছিল। অনেক ভালো ভালো কাম করছে। ’

কালের কন্ঠ

পড়া হয়েছে ৬৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ