চাকরি খুঁজছে প্রার্থীকে

ডিসেম্বর ১২, ২০১৭, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

ধানমণ্ডির ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে রিক্রুটমেন্ট ফেয়ারে বসুন্ধরার স্টল

‘শিক্ষাজীবন এখনো শেষ হয়নি। এখনই ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

কারণ সম্মান-সম্মানীর বিচার না করেও কোনোমতে একটি চাকরি জোগাড় করাটা যেন জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে হবে- ভাবনাটাই ক্লান্তিকর। এ অবস্থায় চাকরির জন্য মেলার আয়োজন আমাদের মতো শিক্ষার্থী ও বেকারদের জন্য বড় সুযোগ বলে মনে করি। ‘কথাগুলো বললেন বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুনাঈদ জাহিদ। ‘ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট ফেয়ার-২০১৭’-এ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের স্টলে চাকরির জন্য কারিকুলাম ভিটা (সিভি) জমা দিতে এসে এই প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

ইউআইইউর বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সাহা ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তিনি বললেন, ‘চাকরি নিয়ে খুব একটা শঙ্কিত নই। আর পূর্বযোগ্যতা অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফাঁকে খণ্ডকালীন চাকরি করেছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনামাফিক নিজেকে তৈরি করছি।

আর চাকরির অফার নিয়ে এমন মেলার আয়োজন আমাদের ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করবে নিঃসন্দেহে। জব ফেয়ারে চাকরির খোঁজে আসা অন্য অনেকের মধ্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সদ্য সাবেক শিক্ষার্থী নাতাশা করিম একজন। ইউআইইউর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চাকরির বাজারে তো বড় মাপকাঠি হয়ে উঠেছে পূর্বপরিচিতি। প্রতিষ্ঠানে জানাশোনা কেউ না থাকলে তো সিভিই জমা নিতে চায় না। সে ক্ষেত্রে চাকরির অফার নিয়ে এমন মেলা বেকার শিক্ষিতদের জন্য বড় সহায় হবে বলে বিশ্বাস করি। ‘

ইউআইইউর উদ্যোগে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজস্ব ক্যাম্পাসে গতকাল সোমবার শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই চাকরি মেলা। এতে বসুন্ধরা গ্রুপ ছাড়াও অংশ নিয়েছে কোকা-কোলা, নাভানা, আইডিএলসিসহ দেশের ৪৪টি শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কম্পানি। প্রতিষ্ঠানগুলোর সবারই কর্মী প্রয়োজন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪টি মেলাতেই আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের উপব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল জাহিদ বললেন, ‘চাকরিতে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগে নানা সীমাবদ্ধতা থাকে। এর ফলে আমাদের উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ নিয়ে প্রায়ই সংকটে পড়তে হয়। আর এটা শুধু অভিজ্ঞতার জন্যই নয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞানেরও অভাব থাকে অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থীর। তাই প্রয়োজন কর্মোপযোগী শিক্ষা। এই মেলায় আমরা প্রত্যাশার সেই কর্মী পাব বলে আশা করছি। মেলা শুরুর দিনেই অনেক ট্যালেন্ট ছাত্র-ছাত্রী আসছে। চাকরি পাওয়ার পূর্বশর্ত নিয়ে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসা রয়েছে। আমরা সেসব জিজ্ঞাসার সমাধান দিচ্ছি। আর আগতদের প্রায় সবারই বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ পাচ্ছে। ‘

মেলায় অংশ নেওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ বললেন, ‘ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক অনেক শিক্ষার্থী আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এখান থেকে প্রতিবছর অনেক ছাত্র-ছাত্রী ইন্টার্নিও করেন আমাদের প্রতিষ্ঠানে। পরবর্তী সময় তাঁদের কেউ কেউ আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেন। এই মেলা থেকেও বেশ কিছু কর্মী নিয়োগ দেওয়ার আশা রয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানের। ‘

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইউআইইউর কেয়ার কাউন্সিল সেন্টারের পরিচালক মুঞ্জুরুল হক খান বললেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা এই মেলার নাম দিয়েছি ন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট ফেয়ার। এই জব ফেয়ারে যে ৪৪টি প্রতিষ্ঠান স্টল দিয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই কর্মী প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের চাহিদার বিষয়টি আমাদের আগেভাগেই নিশ্চিত করেছে।

দুই দিনব্যাপী মেলার আজ শেষ দিন। মেলা শুরুর দিনেই গতকাল বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী ভিড় জমান একেকটি প্রতিষ্ঠানের স্টলে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা, সমাপনী দিনে আরো ব্যাপক সংখ্যায় চাকরিপ্রার্থী মেলায় আসবে। আর প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী এখান থেকে নিয়োগ দিতে পারবে।

 কালের কন্ঠ

পড়া হয়েছে ৩৯ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ