হায়! এগুলোও মানুষ তালাবদ্ধ করে রাখে?

ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭, ৪:৩২ অপরাহ্ণ

চোরের হাত থেকে বাঁচাতে বা অন্যের অনধিকার চর্চা ঠেকাতে মূল্যবান জিনিস, টাকা কিংবা গয়নাভর্তি সিন্দুকে তালা মারা হয়। তালাবদ্ধ রাখা হয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ বা বিপজ্জনক বস্তু, এমনকি জীব-জন্তুও।

কিন্তু এখানে দেওয়া ছবিগুলো দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে আর মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসবে- এমন কাজও মানুষ করে! পাঠকদের জন্য তেমনই কিছু ছবি তুলে ধরা হলো ইন্টারনেটের বিভিন্ন সূত্র থেকে-

এনার্জি লাইটও ছিঁচকে চোরের সহজ টার্গেট। তাই বোধহয় এক শ টাকার এই বাতি বাঁচাতে দেড় শ টাকার তালা মারা হয়েছে!

এটা একটা প্রেশার কুকার। দেখে বোঝা যাচ্ছে এর ভেতর খাবার আছে। কিন্তু কী এমন মহার্ঘ খাবার যা তালা দিয়ে রাখতে হয়? হয়তো এর মালিক ভেতরে খাবারের বদলে রেখেছেন স্বর্ণালংকার বা হীরে-জহরত। সবই সম্ভব আজকালকার যুগে, কী বলেন?

এই ছবির বিষয়ে আশা করি কেউ মন্তব্য করবেন না! এই জিন্সের প্যান্টের কী এমন মূল্য বা এতে কী এমন আছে যে তালা দিয়ে রাখতে হবে! কিন্তু ঘটনা হলো, ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে বেল্ট-বকলেসের স্থানে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে।

কার হেলমেট দরকার আর কে মাথায় দিয়ে আছে? এতে অবশ্য নারীর প্রতি পুরুষের অপরিসীম শ্রদ্ধা-ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে- এটা সত্য। কারণ, টাক মাথাওয়ালা পুরুষটি নিজে হেলমেট না পরে সঙ্গী নারীকে দিয়েছেন। আবার নারীটিও পুরুষটির প্রতি তার মমতা আর কর্তব্যবোধ ভুলে থাকেননি। তিনি তার এক হাত দিয়ে রোদের তাপ থেকে পুরুষটির মাথা বাঁচাতে চেষ্টা করছেন।

ছবির ভঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছে- তারা সম্ভবত স্বামী-স্ত্রী।

দিনকাল এতই খারাপ হয়েছে যে বেসিনে হাত ধোয়ার সাবানকেও এভাবে বন্দি করে রাখতে হবে?

টেবিলে বা হাজিরা খাতার সঙ্গে কলম আটকে রাখার এই তরিকা অবশ্য অনেক পুরনো। তবে আগে কলম বেঁধে রাখা হতো সুতো বা দড়ি দিয়ে আর এখন সেই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রীতিমতো স্টিলের শিকল। ৫ টাকার কলম বাঁচাতে কমপক্ষে দুই শ টাকার শিকল ব্যবহার করার এই দৃশ্য অবশ্যই অবাক করার মতো।

দেখতে সিন্দুকের মতো মনে হলেও এটা আসলে একটি রেফ্রিজারেটর। এতে নিজস্ব একটি ইনার লক ছাড়াও বাইরে ঝোলানো হয়েছে আরো ৪টি তালা। কে জানে ভেতরে কী আছে এর? ট্রাম্পের আত্মজীবনী না লাদেনের স্মৃতিকথা!

এই ছবি দেখে প্রশ্ন জাগে মনে, সাইকেল কি চালানোর জন্য না ঝোলানোর জন্য? তবে যেহেতু উন্মুক্ত ব্যালকনিতে সাইকেলটি রাখা হয়েছে তাই চুরি ঠেকাতে বুদ্ধিমান মালিক এভাবে বাহনটিকে ঝুলিয়ে রেখেছেন- এটা বোঝা যাচ্ছে। এটা একটি সৃষ্টিশীল আইডিয়া, বলতেই হয়।

গাড়ির পেছনে শেকল দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ইট বা ইটসদৃশ বস্তুটি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- কেন? এটা কি চোর ঠেকাতে, নাকি চলন্ত অবস্থায় গাড়িটি কোথায় যায় রাস্তার তার চিহ্ন রেখে যেতে, নাকি বদনজর ঠেকানোর কোনো সংস্কার (বা কুসংস্কার)?

না, এটা কোনো সাইকেল বা রিকশা নয়, রীতিমতো বিলাসবহুল প্রাইভেট কার। সাইকেল আটকানোর লক দিয়ে একে আটকে রাখা হয়েছে একটি লোহার খাম্বার সঙ্গে। অতিরিক্ত সতর্কতার অসাধারণ নজির। গাড়ির লক কেউ ভাঙতে পারলেও সহসাই গাড়ি নিয়ে ছুট লাগাতে পারবে না।

গাড়ির কারাগার বা পিঞ্জর? এটা কি জাদুঘরে রাখা বিশেষ কোনো গাড়ি? জানা যায়নি। তবে উন্মুক্ত স্থানে গাড়ি রাখা এবং নিরাপদে রাখার খাসা আইডিয়া বলা যায় একে। মোট কথা এই গাড়ি চুরি করতে চোর মহাশয়দেরকে যথেষ্ট হাঙ্গামা পোহাতে হবে।

টিস্যু নিয়ে এই কারবার? এরপর আর বলার কিছু থাকে না। মানুষ এমনও পারে? টয়লেট পেপারের রোল চুরি ঠেকাতে এই ব্যবস্থা! আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- মানুষ তুমি কোথায় যাচ্ছ?

পড়া হয়েছে ২৪৫ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ