এই রাশিয়ায় বিস্মিত পশ্চিমারা

অক্টোবর ২২, ২০১৫, ৬:১১ অপরাহ্ণ

২০০৮ সালে রাশিয়া-জর্জিয়া যুদ্ধের সময় রুশ সামরিক শক্তির দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছিল। আমেরিকান প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত জর্জিয়া বাহিনীকে মোকাবিলা করতে গিয়ে নিজেদের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা দেখতে পেয়েছিল ক্রেমলিন। এরপর আর বসে থাকেনি। সামরিক শক্তির খোলনলচে পাল্টে ফেলার লক্ষ্যে তিনধাপে সংস্কার কাজ শুরু করে রাশিয়া। ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে আগের চেয়ে অনেক ভয়ঙ্কর এবং আধুনিক সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে দেশটি। এই পরিবর্তিত সামরিক শক্তির একটা অংশ দিয়েই সিরিয়ায় বিদ্রোহী এবং আইএসকে কোণঠাসা করছে রাশিয়া; যা মস্কোকে আবারো বিশ্ব রাজনীতির চালকের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। ফলে পুরনো রাশিয়াকে নতুন চেহারায় চিনতে ভুল করায় মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য হারানোর পথে রয়েছে আমেরিকা এবং পশ্চিমারা।
সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা দূর করতে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) ১৯৩০ সালে প্রথম সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। তারপর দীঘদিন চুপচাপ। এরপর ২০০৮ সালে এসে সংস্কারের সবচেয়ে পদক্ষেপ নেয় ক্রেমলিন। এটি তিনধাপে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব বাড়াতে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ময়দানের যুদ্ধে আরো ক্ষিপ্র করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের কলাকৌশলের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তৃতীয় ধাপে পরিবর্তিত পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে সবচেয়ে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়। কিন্তু আমেরিকা এবং পশ্চিমারা শুধু তৃতীয় ধাপের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপে রুশ সেনাকে কোন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে তাদের ঠিক কতটুকু উন্নতি হয়েছে, এ সম্পর্কে কেনো ধারণাই ছিল না পশ্চিমা বিশ্বের।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের (ইসিএফআর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বপ্রথম রুশ সেনাবাহিনীতে একটি পিরামিড স্ট্রাকচার গঠন করা হয়। যেখানে পরিকল্পনা প্রণেতা থাকবেন হাতেগোনা কয়েকজন এবং অফিসারদের বড় একটি অংশ মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন। এ ছাড়া সেনা সদস্যদের বেতন পাঁচগুণ বাড়ানো হয়। এর পাশাপাশি আধুনিক ব্যবস্থার সূচনাসহ যুগোপযোগী বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়। রুশ বাহিনীতে এসব পরিবর্তন আনার পরই আজকের দুনিয়ার সবচেয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে সমর্থ হচ্ছে তারা; যা একইসঙ্গে ময়দানের যুদ্ধে সব শাখার সেনার মধ্যে গতি সঞ্চার করেছে।
সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন আনতে এতদিন যে সামরিক শিক্ষা দেয়া হতো, তাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে যে সামরিক শিক্ষা প্রচলিত রয়েছে, তার আদলেই রাশিয়ার সামরিক শিক্ষার আধুনিকায়ন করা হয়। ফলে সেনাবাহিনীর নৈতিক এবং সামগ্রিক আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। শিক্ষা সংস্কারের পর ময়দানের লড়াইয়ে সেনাদের কীভাবে পরিচালিত করা হবে, সে বিষয়েও সংস্কার আনা হয়। অতীতে বড় ইউনিট হয়ে লড়াই করলেও সংস্কার অনুযায়ী, বড় ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ইউনিটে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনার পরামর্শ দেয়া হয়। এর ওপর ভিত্তি করে পুরনো ২৩টি বড় ইউনিটকে ভাগ করে ৪০টি নতুন ব্রিগেড করা হয়। নতুন ইউনিটে বিভক্ত করা ছাড়াও বারবার সামরিক মহড়া করানো হয়। কারণ মহড়ার মাধ্যমেই সেনা সদস্যরা নিজেদের দক্ষতা এবং ক্ষিপ্রতা বাড়ানোর সুযোগ পায়।
ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রতিবেদন মতে, রুশ সেনাবাহিনীর সংস্কার এখনো অব্যাহত থাকলেও এরই মধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছে ক্রেমলিন। কিন্তু রুশ বাহিনীর এ সংস্কার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্বের। গতানুগতিক শক্তির সঙ্গে আধুনিক সরঞ্জামের সংমিশ্রণে রাশিয়া যে সামরিক শক্তি গড়ে তুলেছে, তা সত্যিকার অর্থেই পশ্চিমাদের সতর্কবার্তা দিয়েছে। যার মানে হলো, সময় এসেছে রুশ সেনাবাহিনীকে সমিহ করার। অতীতে রুশ বাহিনীকে সামরিক শক্তির দিক থেকে অবজ্ঞা করা হলেও তাতে বড় ধরনের পরিবর্তনই এনেছে ক্রেমলিন। যে পরিবর্তন এবং সংস্কার রাশিয়াকে আবারো বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আর সিরিয়ায় হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য দিয়েই কাজ শুরু করেছে রাশিয়া; আর রাশিয়ার বর্তমান শক্তি দেখে বিস্মিত আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্ব। কারণ শুরুতেই সেখানে কোণঠাসা করে ফেলেছে তাদের।

সংবাদসূত্র : দ্য ডিপ্লোম্যাট

 

jjdin

পড়া হয়েছে ৩৮৩৩ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ