প্রথম কারা গার্মেন্টের যাত্রা শুরু নারায়ণগঞ্জে

ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে চালু হওয়া এ গার্মেন্টে ৩০০ বন্দি কাজের সুযোগ পেয়েছে।

কারাগারে থেকেই বন্দিরা সংশোধন হবে, প্রশিক্ষিত হবে এবং পরবর্তী জীবনে সমাজে সঠিকভাবে পুনর্বাসিত হবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নারায়ণগঞ্জে যাত্রা শুরু করেছে দেশের প্রথম কারা গার্মেন্ট ‘রিজিলিয়ান্স’।

গতকাল বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান নারায়ণগঞ্জ কারাগারে একটি গার্মেন্ট ও জামদানি পণ্য উৎপাদনকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। প্রথম অবস্থায় ৫৪টি নিট মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া এই গার্মেন্টে ৩০০ কারাবন্দি কাজের সুযোগ পেয়েছে। কারাগারের ভেতর ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই গার্মেন্টের পাশেই রয়েছে জামদানি উৎপাদন কেন্দ্র। কেন্দ্রটিতে ১০টি তাঁতের সাহায্যে তৈরি করা হচ্ছে জামদানি পণ্য।গার্মেন্ট ঘুরে দেখা গেছে, বন্দিরা যে যার মতো কাজ করছে। পাশের জামদানি উৎপাদন কেন্দ্রেও ঠক ঠক শব্দ শোনা যাচ্ছে। তাঁদের সবাই ড্রেসকোড মেনে একই ড্রেস পরেছে। দেখে মনে হয়নি তারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিংবা কারাবন্দি। বন্দিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা যে অপরাধ করেছে তার জন্য অনুতপ্ত।

বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে যেন তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে এই জন্যই পোশাক কারখানায় কাজ করছে। তা ছাড়া এখানে কাজ করলে বেতনও পাওয়া যাবে। নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বর্তমানে কয়েদির সংখ্যা ২১০০ জন।নারায়ণগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক রাব্বী মিঞা কালের কণ্ঠকে জানান, যেহেতু নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে নিট গার্মেন্টের জন্য প্রসিদ্ধ। আর বন্দিরা অপরাধ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেনি, তারা কোনো না কোনোভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তারা কারা অভ্যন্তরে অলস থেকে যেন বড় কোনো অপরাধীর সংস্পর্শে এসে আরো বড় অপরাধী না হয়। তাদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যেই এ পোশাক কারখানা স্থাপন করা হলো। গার্মেন্টটির নামকরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো কিছু ডি ফর্ম থেকে রি ফর্ম হওয়া মানে ইংরেজিতে রিজিলিয়ান্স। সে জন্যই এ নাম দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কারা গার্মেন্ট থেকে উৎপাদিত পণ্য যাতে বিক্রয় করা যায় কিংবা বিদেশে রপ্তানি করা যায় সে ব্যাপারে আমরা বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি।

জানা গেছে, বন্দিদের সংশোধন করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গার্মেন্টটি তৈরিতে অবদান রেখেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, ক্রাউন সিমেন্ট, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ, লাফার্জ সিমেন্ট ও মেট্রো গার্মেন্ট এ কারখানা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে।

জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ কালের কণ্ঠকে জানান, ঝড়ে একটি গাছ নুয়ে পড়ে যেমন পরবর্তী সময় সংগ্রাম করে আবার দাঁড়িয়ে যায় তেমনি কারাবন্দিরাও যেন এই গার্মেন্টে কাজ করে মুক্ত জীবনে ফিরে গিয়ে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে পারে সেই ধারণা থেকেই রিজিলিয়ান্স গার্মেন্টের যাত্রা শুরু।

আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত কারাবন্দিদের মধ্যে যাদের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে তাদের পর্যায়ক্রমে এই গার্মেন্টে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। আর প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবে যেসব বন্দিরা যাবজ্জীবন মেয়াদে জেল খাটছে তারা। তাদের মধ্যে কোনো এক্সপার্ট থাকলে তাদের নেওয়া হবে নতুবা বাইরের কোনো প্রশিক্ষক এনে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এই গার্মেন্টে যারাই শ্রম দেবে তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।

এ কারা গার্মেন্ট ও জামদানি পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিকেএমইএ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, যদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সরাসরি বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা যেতে পারে। তাহলে ২০১৮ সালের মধ্যেই ছোট এই কারখানা থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। যেখানে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের যদি কারাগারের ভেতরে কারখানা পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় তবে দেখা যাবে যে পণ্যটি আমরা ১২ ডলার বিক্রি করতে পারি সেগুলো তাদের কাছে ১৪ ডলারে বিক্রি করতে পারছি। কারখানাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনেই ৯০ হাজার পিস ব্ল্যাক পলো টি-শার্টের অর্ডার দিয়েছেন তিনি, যা আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই উৎপাদনে যাবে।

কালের কন্ঠ

পড়া হয়েছে ১২৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ