বিদেশে অর্থ পাচারের কথা স্বীকার এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের  

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
দুদক কার্যালয়ে প্রবেশকালে এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বেসরকারি এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম ফজলার রহমানকে টানা সাত ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান ব্যাংকের সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে এবি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাই দুদকের কাছে বিদেশে অফশোর কোম্পানি খুলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭০ কোটি টাকা পাচারের ঘটনা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, একজন আন্তর্জাতিক দালালের খপ্পরে পড়ে তারা সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সিঙ্গাপুর ও দুবাই ভিত্তিক পিজিএফ ( পিনাকল গ্লোবাল ফান্ড) কোম্পানিতে ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন।

এবি ব্যাংকের এই অর্থ দেশের বাইরে স্থানান্তরের আগে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমতি নেননি বলেও স্বীকার করেন।

এমনকি ওই অর্থ দেশ থেকে স্থানান্তরের আগে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনও নেননি তারা। টাকা দেশ থেকে চলে যাওয়ার পর পর্ষদের অনুমোদন নিয়েছেন।

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক বলেন, সিঙ্গাপুরের এক দালাল ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলে ৮০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা বলে তাদের উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে যখন ২০ মিলিয়ন ডলার চলে যায় তখন তারা জানতে পারেন, যে কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করেছেন সেটি আসলে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, ভুয়া প্রতিষ্ঠান জেনেও এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমডিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যাংকে গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে।

দুদক ওই প্রতিবেদন পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। ওই অভিযোগ সম্পর্কিত নথিপত্র চেয়ে এরই মধ্যে ব্যাংকের বর্তমান এমডির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সিঙ্গাপুর ও দুবাইভিত্তিক কোম্পানি পিজিএফের বিনিয়োগ প্রস্তাব, চুক্তি ও এ সংক্রান্ত পর্ষদ সভার নথিসহ সংশ্লিষ্ট দলিল রয়েছে দুদকের কাছে।

দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানতে পারে, গত দুই বছরে তিন ধাপে দেশ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল পিজিএফ ৮ কোটি ও এবি ব্যাংক ২ কোটিসহ ১০ কোটি ডলার যৌথভাবে বিনিয়োগ করে ওই অফশোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এজন্য এবি ব্যাংক থেকে পিজিএফের কাছে ২ কোটি ডলার পাঠানো হয়। কিন্তু পরে আর সিঙ্গাপুরে অফশোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়নি।

এদিকে দুদক এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এমডি ছাড়া আরও সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দিয়েছে।

ব্যাংকের আরেকজন সাবেক এমডি শামীম আহমেদ চৌধুরী এবং ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড ট্রেজারি শাখার প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ ওই সাত কর্মকর্তাকে আগামী ২ জানুয়ারি দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

অন্য কর্মকর্তারা হলেন ব্যাংকের হেড অব কর্পোরেট মাহফুজ উল ইসলাম, হেড অব অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) মোহাম্মদ লোকমান, ওবিইউর কর্মকর্তা মো. আরিফ নেয়াজ, কোম্পানি সচিব মাহদেব সরকার সুমন ও প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা এমএন আজিম।

যুগান্তর

পড়া হয়েছে ৮৩৫ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ