শয়তানের বাইবেল! 

জানুয়ারি ৩, ২০১৮, ৪:০৬ অপরাহ্ণ

স্টকহোম জাদুঘরে সংরক্ষিত বই :শয়তানের বাইবেল

জ্ঞানের আঁধার বই রহস্যের জট খুলে দেয়। সামনে নিয়ে আসে জানা অজানা তথ্য। তবে কোডেক্স গিগাস নামক বইটি কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্ববাসীকে রহস্যের মায়াজালে ডুবিয়ে রেখেছে । বইটি মধ্যযুগীয় বৃহত্তম পাণ্ডুলিপি হিসেবে পরিচিত।

তবে এ বইটি যে নামে সর্বাধিক পরিচিততা শুনলে যে কেউ আৎকে উঠবে। এর আরেক নাম শয়তানের বাইবেল।

বইটি কি শয়তান লিখিত? কি আছে এ শয়তানের বাইবেলে! ল্যাটিন ভাষায় পুরো ভালগেইট বাইবেলের পাশাপাশি অনেক ঐতিহাসিক নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এতে।

স্রষ্টার বিপক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পদ্ধতির বর্ননা দেয়া আছে বইটিতে। ভয়ঙ্কর রোগের অভিশাপ ও মুক্তি, আত্মাকে বশীকরণ ও লালন-পালন, কালা জাদুর মন্ত্র সহ নানান বিষয়ে সমাধান দেওয়া আছে এতে। কিভাবে ডাইনি চেনা যায় তার বর্ণনা রয়েছে এখানে। এমনকি চোর ধরার কলাকৌশলও আছে এ বইতে।

বইটির এমন নামকরণের পেছনে রয়েছে অদ্ভুত এক পৌরানিক কাহিনী। হারম্যান নামে বোহেমিয়ার (বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র) বেনেডিক্ট পোডলাজাইসের আশ্রমে একজন সন্ন্যাসী ছিলেন। একদিন তিনি আশ্রমের নিয়ম ভঙ্গ করে বসেন। নিয়ম ভঙ্গের পাপ হিসেবে তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হয়। শাস্তি হল একটা বদ্ধ কুঠুরীতে তাকে আজীবন নিঃসঙ্গ অবস্থায় কাটাতে হবে।

শাস্তি চলাকালে একদিন তিনি আশ্রমগুরু কে তার পাপের শাস্তি লাগবের জন্য প্রস্তাব দেন। গুরু হারমেইনকে পাল্টা শর্ত ছুড়ে দেন যে, এক রাতের মধ্যে তার অর্জিত জ্ঞান যা আছে তা দিয়ে মানুষের কল্যাণে তাকে একটা বই লিখতে হবে। যে বইতে সৃষ্টিকর্তা আর মঠের গুণগান থাকবে, থাকবে মানুষের বিভিন্ন উপকারী তথ্য। হারম্যান সব শর্ত মেনে নিয়ে এক সন্ধ্যায় লিখতে বসেন।

তিনি মাঝ রাত আবধি এসে দেখতে পান মাত্র অর্ধেক পাতা লিখতে পেরেছেন। হতাশায় হারম্যান ওই মাঝ রাতে নিজের রক্ত দিয়ে শয়তান কে একটা চিঠি লিখে বসেন। চিঠিতে তিনি শয়তানের কাছে এই বলে সাহায্য কামনা করেন যে, শয়তান যদি তাকে এই বই লিখে দেয় তবে তিনি তার আত্মা শয়তান কে সপে দেবেন। সাড়া দেয় শয়তান। স্ব-শরীরে হাজির হয় শয়তান। শুরু হয় কোডেক্স গিগাস লেখা।

উষার আগেই লেখা শেষ হয়ে যায় এই বিশাল বইটি। নিজেকে প্রমান দেবার জন্য নিজ হাতে শয়তান তার ছবি বইটির ২৯০ নং পৃষ্ঠায় এঁকে রেখে যায়। শয়তানের সাহায্যে লিখা বলেই একে শয়তানের বাইবেল বলা হয়।

বইটি ১৪৭৭-১৫৯৩ পর্যন্ত ব্রোমভ মনাষ্টরিতে ছিল। বইটির প্রতি মোহ দেখে সম্মানস্বরুপ প্রাগের সন্ন্যাসীরা প্রাগ সম্রাট রুডলফ কে বইটি উপহার দেয়।

১৬৪৮ সালে প্রাগের সাথে ৩০ বছরের যুদ্ধ শেষে বিজয়ী সুইডিশ সৈন্যরা এই বই লুঠ করে ১৬৪৮ সাথে ষ্টকহোমে সুইডিশ রয়াল লাইব্রেরীতে নিয়ে যায়। ৭ ই মে ১৬৯৭ সালে সুইডেনের রাজ প্রাসাদের লাইব্রেরীতে এক মারাত্মক আগুন লাগে। আগুনে বইটির কিছু পাতা পুড়ে যায়। কিছু পাতা বাতাসে উড়ে যায়। এই পৃষ্টাগুলো আর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এটি সুইডেনের জাতীয় গ্রন্থাগার স্টকহোমে সংরক্ষিত রয়েছে।

পড়া হয়েছে ২০৪ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ