উ. কোরিয়ায় ছোট ছোট পরমাণু বোমা ফেলবে যুক্তরাষ্ট্র

জানুয়ারি ১১, ২০১৮, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ছোট ছোট পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। আকারে ছোট হলেও এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কোনো হেরফের হবে না। যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র আবারও পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে- বিশ্বের চোখ থেকে এটি আড়াল করতেই ছোট আকারের পরমাণু বোমা তৈরি করছে পেন্টাগন। সর্বাধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির তৈরি ছোট ছোট এসব পরমাণু বোমা রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করবে দেশটি। একইসঙ্গে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে নৈতিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা শিথিল করবে দেশটি। এর মাধ্যমে বিশ্বে পরমাণু যুদ্ধে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি করতে চায় দেশটি। মার্কিন সরকারের সাবেক এক কর্মকর্তা সম্প্রতি এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিভাগের স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট জন উলফসথল মঙ্গলবার বলেন, হোয়াইট হাউসের নির্দেশনায় এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষের আইনজীবীরা। জানুয়ারির শেষ দিকে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক ভাষণে (ইউনিয়ন স্পিচ) যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষমতা পর্যালোচনা করবেন ট্রাম্প। গত আট বছরের মধ্যে এবারই প্রথম বার্ষিক ভাষণে পরমাণু অস্ত্র প্রসঙ্গ তুলবেন ট্রাম্প। খবর দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্সের।

উলফসথল বলেন, সহজেই ব্যবহার করা যায় এবং কম ধ্বংসাত্মক এমন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ট্রাম্পের প্রশাসন। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমে হামলা করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের যে নীতি রয়েছে তাও শিথিল করবে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউস প্রণীত নিউক্লিয়ার পোশচার রিভিউ (এনপিআর) নামে এমন একটি খসড়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করেছেন দাবি করে উলফসথল বলেন, নতুন ধরনের ছোট ছোট পরমাণু বোমাগুলো ট্রাইডেন্ট ডি৫ সাবমেরিনের ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত করা হবে। উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যেকোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে কৌশলগত এ বোমাগুলো ব্যবহার করা হবে। হোয়াইট হাউসের নতুন এ নীতিকে ওবামা আমলের চেয়ে আরও অধিক আগ্রাসী বলে বর্ণনা করেন উলফসথল। মার্কিন প্রতিরক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের ভূমিকা কমানোর চেষ্টা ছিল ওবামার। তিনি বলেন, ‘যারা এ নীতিটি প্রণয়ন করেছেন, তারা আসলে যেটা করার চেষ্টা করছেন সেটা হচ্ছে রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়াকে একটা স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা।’

হোয়াইট হাউসের নতুন এই প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এ নীতি পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলবে। কেননা প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। পরমাণু শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে ৭ হাজারের বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। বোমাগুলোর আকার বড় হওয়ার কারণে সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা মনস্তাত্ত্বিক বাধা সামনে চলে আসে। কেননা এমন একটি পরমাণু বোমা পুরো একটা দেশকে ধ্বংস করতে সক্ষম। পরমাণু হামলার ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক এ বাধা কমিয়ে আনতেই নতুন এ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পড়া হয়েছে ৬২ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ