যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচতে হত্যা

জানুয়ারি ২১, ২০১৮, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কেরানীগঞ্জের তারানগর ইউনিয়নের বেউতা বিল থেকে দুই হাত-পা ও মাথাবিহীন অবস্থায় উদ্ধার লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম মফিজুর রহমান। বাড়ি সাভারের ভাকুর্তায়। পেশায় তিনি স্বর্ণকার ও কবিরাজ। ভাকুর্তা ইউনিয়নের কাইসারচর গ্রামে তার অলংকার তৈরির দোকান রয়েছে। স্বর্ণকারের পাশাপাশি তিনি কবিরাজি করতেন।

যৌন নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে তার কাছে চিকিৎসা নেয়া এক নারী রোগীর পরিকল্পনায় খুন হন তিনি। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ১০ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় খুনিরা। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় ওই নারীসহ তিনজন। অভিযুক্ত তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

শনিবার সকালে ঢাকা জেলা (দক্ষিণ) ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান এসব তথ্য জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকার, ডিবির ওসি মো. শাহজামান, মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের, ডিবির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

ডিবির ওসি মো. শাহজামান জানান, ৮ মাস আগে কেরানীগঞ্জের বেউতা এলাকার এক গৃহবধূ চিকিৎসার জন্য সাভারের ওই কবিরাজের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে ওই কবিরাজ নানাভাবে প্রলোভন ও জোর দেখিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচতে কবিরাজকে হত্যার পরিকল্পনা করেন গৃহবধূ। এজন্য নজরুল ইসলাম নজু ও সালাহ উদ্দিনের সহায়তা চান। তিনজন মিলে ৩১ ডিসেম্বর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কবিরাজকে হত্যা করেন তারা। রাত ২টার দিকে তিনজন মিলে লাশ টুকরো করেন। পরে সালাউদ্দিন ও নজরুল অটোরিকশায় করে মরদেহের টুকরোগুলো ডোবা-নালায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে দেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক নাজমুল হাসান জানান, ২ ডিসেম্বর বেউতার ওই খামার থেকে দুই হাত-পা ও মস্তকবিহীন অজ্ঞাতনামা পুরুষের দেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই পুলিশ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করে। ৫ জানুয়ারি মামলাটি তদন্তের ভার দেয়া হয় ডিবিকে। এরপর ১৭ জানুয়ারি স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে নিমতলী ব্রিজের নিচ থেকে হলুদ কাপড় মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, সভার থানা থেকে জানানো হয়, মফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছে মর্মে তার বড় ভাই শাহিন আহমেদ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ওই জিডির সূত্র ধরে নিখোঁজ ব্যক্তির মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করা হয় ওই গৃহধূকে। তার দেয়া তথ্যমতে গ্রেফতার করা হয় অপর দুই খুনি

নজরুল ইসলাম ও সালাউদ্দিনকে। গ্রেফতার হওয়া তিনজনই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। গৃহবধূর বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

যুগান্তর

পড়া হয়েছে ১৩৬ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ