‘নির্বাচন না হলে তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় আসতো’

জানুয়ারি ৩০, ২০১৮, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে; নির্বাচন না হলে অসাংবিধানিক তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় আসতো বলে মন্তব্য করেছেন সরকার ও বিরোধীদলের কয়েকজন সংসদ সদস্য।

বর্তমান সংসদের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তারা এ কথা বলেন।

আলোচনা শেষে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আজ আমরা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত পার করছি। এ সময়ে ২০১৪ সালে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য আমি সকল সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি বলেন, তার জীবনে সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিক্রমায় এ পর্যন্ত যত সংসদ গঠিত হয়েছে, তার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ সবচেয়ে অর্থবহ ও কার্যকর। এ সংসদে এ পর্যন্ত যত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে।

এর আগে, দশম জাতীয় সংসদের ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ প্রথমে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেন।

এসময় তিনি সংসদের কোরাম-সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন: অনেকে পত্রিকায় লেখেন সংসদে কোরাম হয় না। সংসদে উপস্থিতি থাকে না। আমি এ কথা বলতে চাই, সংসদের কোরাম সবসময় থাকে। লবি ইজ দ্য পার্ট অব দ্য হাউস। মাননীয় মন্ত্রীরা অনেক সময় এই সংসদের ভেতরে তাদের অফিসে কাজ করেন। যদি এমনটাই হয় যে সংসদে হয়ত এমপি সাহেবরা কম, তারা লবিতে থাকেন। তারা মন্ত্রীর রুমে গিয়ে তাদের এলাকার কাজ করেন। মন্ত্রী সাহেবরা তাদের রুমে বসে থাকেন। তার অর্থ এই নয়, এই সংসদে তারা থাকেন না। তারা আছেন, ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিচক্ষণতা, প্রাজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে ২০১৪ সালে সাংবিধানিক সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে এখন আফসোস করছে, হতাশায় ভুগছে।

‘ওই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। যারা প্রশ্ন তুলেছেন তাদের মধ্যে একজন ড. কামাল হোসেন, অথচ তিনিও একবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। আইপিইউ এবং সিপিএ-তে এই সংসদের সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গণতান্ত্রিক দেশের প্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও তারা কিভাবে এই সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বোধগম্য নয়।’

তিনি বলেন: সেদিন বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে সংলাপের আহবান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যুর পর সহানুভূতি জানাতে প্রধানমন্ত্রী তার বাসায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না; বিএনপির এমন বক্তব্যের জবাবে সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে পস্তাচ্ছে। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো পথ নেই। ‘নো খালেদা জিয়া, নো ইলেকশন’ এই ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। তারা না এলে নির্বাচন হবে না—এটা কোনো কথা হতে পারে না। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা-কর্মী নির্বাচনে যেতে চান

পড়া হয়েছে ১০৮ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ