খালেদা জিয়ার ‘শাঁখের করাত’ রায়

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮, ৫:১৯ অপরাহ্ণ

প্রভাষ আমিন

হঠাৎ করেই একটি রায়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি। ঠিক হঠাৎ করে বলা যাবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি চলছে ১০ বছর ধরে। আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময়ই বোঝা যাচ্ছিল, মামলাটি শেষ পরিণতির দিকে এগুচ্ছে। বিচারক যখন রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন, তখন পুরনো মামলা হলেও সবাই চমকে ওঠেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তো বলে বসেন, তড়িঘড়ি করে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় হচ্ছে। কিন্তু ১০ বছর বিচার কাজ চলার পর রায় ঘোষণাকে আর যাই হোক তড়িঘড়ি বলা যাবে না। বেগম খালেদা জিয়া দোষী না নির্দোষ, সে রায় আদালত দেবেন। তবে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এতিমখানাটি কোথায়? যে এতিমখানাকে ঘিরে এত মামলা-মোকদ্দমা, সেই এতিমখানার কোনও অস্তিত্ব নেই। এতিমখানার জন্য টাকা এসেছে, তবে এতিমখানা হয়নি। মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘যেন-তেন’ রায় তারা মানবেন না। এখন প্রশ্ন হলো, ‘যেন-তেন’ রায় মানে কী? বেগম জিয়ার সাজা হলে নিশ্চয়ই সেটি মির্জা ফখরুলদের কাছে ‘যেন-তেন’ মনে হবে।আগেই বলেছি, মামলাটি সত্য না মিথ্যা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি খালেদা জিয়া আসলেই দোষী; তা নির্ধারণ করবেন আদালত। তবে সরকারের মন্ত্রী এবং জোটসঙ্গীরা বলছেন– ‘বেগম জিয়াকে কারাগারে যেতেই হবে’, ‘শিগগিরই খালেদা জিয়া কারাগারে যাচ্ছেন’– ইত্যাদি আগাম কথা বলে বিতর্কের ঢেউ তুলেছেন। তারা কিভাবে জানলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। বেগম জিয়ার সাজা হতে পারে, নাও তো হতে পারে।

রায় যাইহোক, এটি একটি ‘শাঁখের করাত’। আসতেও কাটবে, যেতেও কাটবে। এই করাত শুধু বিএনপি নয়, একই ধারে কাটবে আওয়ামী লীগকেও। প্রথমে সরকারি দলের বিপদের কথা বলি। সরকারি দল তৈরি হয়ে বসে আছে। রায়ে খালেদা জিয়ার শাস্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে খালেদা জিয়া এবং তার পরিবার দুর্নীতিবাজ এটা প্রতিষ্ঠায়। ইতিমধ্যেই তারেক রহমান এক মামলায় সাজা পেয়েছেন। এই মামলায়ও মায়ের সঙ্গে তারেক রহমানও আসামি। সরকারের এই প্রস্তুতিকে আরও একটু বেগবান করেছে বিএনপিই। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারার ‘ঘ’তে বলা ছিল, ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি বিএনপির কোনও পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তড়িঘড়ি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সে ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির তাড়াহুড়ো দেখে মনে হচ্ছে, তারা ধরেই নিয়েছেন বেগম জিয়ার সাজা হচ্ছে। তাই রায়ের পর যাতে এই ধারাটি ব্যবহার করে বেগম জিয়াকে দল থেকে মাইনাস করা না যায়, বিএনপিতে ভাঙন ধরানো না যায়; তাই ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রায়ে যদি বেগম জিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে সরকারি দলের এতদিনের প্রস্তুতি মাঠে মারা যাবে। তখন উল্টো মাঠ গরম করার সুযোগ পাবে বিএনপি। তারা তখন বলবে, সত্যের জয় হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম এটা রাজনৈতিক মামলা, খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্যই এ মামলা করা হয়েছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। আর যদি বেগম জিয়া দোষী সাব্যস্ত হন তাহলেও সরকারি দল খুব একটা সুবিধা পাবে বলে মনে হয় না। কারণ শাস্তি হয়ে গেলে বেগম জিয়া জনগণের সহানুভূতি পেয়ে যেতে পারেন। মানুষের মনস্তত্বটাই এমন।

ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল যখন ম্যাচ ফিক্সিঙের দায়ে অভিযুক্ত হলেন, তখন সবাই ছি ছি করলো। কিন্তু যেই তাকে নিষিদ্ধ করা হলো, তিনি কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাইলেন; সবাই তার পক্ষে চলে গেলেন। বাবা-মাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ঐশীও জাতীয় ভিলেন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত, অমনি সবাই তাকে বাঁচানোর দাবিতে উঠেপড়ে লাগলেন। তাই আমার ধারণা সাজা ঘোষণার পর তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগণের সহানুভূতি পেয়ে যেতে পারেন।

এবার দেখা যাক, রায়ে বেগম জিয়ার সাজা হলে কী হতে পারে। যেহেতু বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা হবে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তার মানে রায়ে সাজা হলে, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, সেটা কোন কারাগার? এখানে তিনটা বিকল্প হতে পারে। এক. খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসাকেই সাবজেল ঘোষণা করা। দুই. ওয়ান-ইলাভেন সরকারের মতো কোনও ভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা। তিন. কাশিমপুর বা অন্য কোনও কারাগারে রাখা।

যাইহোক, খালেদা জিয়াকে রাখার মতো কারাগার প্রস্তুত করতে সময় লাগবে। তেমন প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সাজা যাইহোক, আর যে কারাগারেই রাখা হোক; পূর্ণ সহানুভূতি কিন্তু খালেদা জিয়াই পাবেন। তবে ওয়ান-ইলাভেনের সময়কার স্মৃতিচারণ করে বেগম জিয়া নাকি তার আইনজীবীদের বলেছেন, তার বিশ্বাস শেখ হাসিনা তাকে কারাগারে নেবেন না। সরকারের হাতে আরেকটা বিকল্প আছে, বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে সাজা দিলেও সেদিনই বিশেষ ব্যবস্থায় হাইকোর্ট থেকে জামিনের ব্যবস্থা করা। তাতে ‘খালেদা জিয়া দুর্নীতিবাজ’ এই ক্যাম্পেইন যেমন চালাতে পারবে, তেমনি কারাগারে যেতে না হলে বেগম জিয়া হয়তো স্বস্তি পাবেন, তবে সহানুভূতি পাবেন না। আর বেগম জিয়াকে কারাগারে না নিলে সরকার নিজেদের মহানুভব প্রমাণ করতে পারবে, যা রাজনীতিতে তাদের বাড়তি স্কোর দেবে। তবে সরকারের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ রায় হলো, খালেদা জিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা, কিন্তু কারাদণ্ড না দিয়ে অর্থদণ্ড দেওয়া। তাতে সাপ মরবে, কিন্তু লাঠি ভাঙবে না। সরকার খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ বলতে পারবে, কিন্তু কারাগারে পাঠিয়ে সহানুভূতি আদায়ের সুযোগ দেবে না। আরেকটা বিকল্প হতে পারে, বেগম জিয়াকে বেকসুর খালাস দিয়ে তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া। তাতেও সরকারের ক্যাম্পেইন জোরালো থাকবে, সহানুভূতিও পাবেন না খালেদা জিয়া।

এই রায় শুধু যে সরকারের জন্য বিপজ্জনক তাই নয়, বিএনপির জন্যও ‘শাঁখের করাত’। রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপিতে সাজ সাজ রব, ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সব প্রস্তুতিই বেগম জিয়ার সাজা হবে ধরে নিয়ে। সাজা হলে যে বিপর্যয় হতে পারে তা সামাল দেওয়ার নানামুখী চেষ্টা চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে, ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়েছে, জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। রায়ের পর কী প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে তা নিয়ে সন্দিহান সবাই। প্রথম কথা হলো, বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে। এখন শীর্ষ নেতাও যদি কারাগারে চলে যান, দল ভয়ঙ্কর নেতৃত্বশূন্যতায় পড়বে। তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে যৌথ নেতৃত্বে দল চালানোর একটি ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি রায়ে সাজা হয়ে গেলে খালেদা জিয়াকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এই চেষ্টা ঠেকাতে ইতিমধ্যেই বিএনপির গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছে। তবুও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল ভাঙার একটা ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যায়। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো, রায়ের পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী হবে? বিএনপির সিদ্ধান্ত হলো নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদ করা। কিন্তু সরকারের যে কঠোর অবস্থান, তাতে তারা বিএনপিকে মাঠেই নামতে দেবে না। সেক্ষেত্রে বিএনপি গোপন সহিংসতার পথ বেছে নিতে পারে। তাতে তাদের ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। বিএনপি কোনও সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখালেই, পুলিশ চড়াও হবে। মামলা, ধরপাকড়ের আরেকটা প্রবল ঢেউ বিএনপিকে ভাসিয়ে নিতে চাইবে। সেই ঢেউ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা কি বিএনপির আছে? আবার ধরপাকড়ের ভয়ে সংযত থেকে রাস্তায় নামতে না পারারও আরেকটা বিপদ আছে। দলের চেয়ারপারসনের সাজা হওয়ার পরও যদি বিএনপি মাঠে নেমে প্রতিবাদ জানাতে না পারে, তাহলে তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নটা আরও বড় হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি যদি বিএনপি বিপুল জনসমাবেশ ঘটাতে পারতো, তাহলেই শুধু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় থেকে তারা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারতো। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় তা সম্ভব বলে মনে হয় না, তেমন কিছু করার সুযোগ দেবে না সরকার। বিএনপি মাঠে থাকতে পারুক আর না পারুক; বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হলে, বিপুল সহানুভূতি হয়তো দলটি পাবে। কিন্তু সেই সহানুভূতিকে ক্যাশ করা বা ভোটের বাক্স পর্যন্ত টেনে নেওয়ার সক্ষমতা দলটির আছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকেরই।

বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কী নেবে না, তাও নির্ভর করছে ৮ তারিখের রায়ের ওপর। বেগম জিয়ার যদি সাজা হয়, তিনি যদি নির্বাচনে অযোগ্য হন; তাহলে তাকে ছাড়া বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু পরপর দুটি নির্বাচন বর্জন করলে নেতাকর্মীদের ধরে রাখাও কঠিন হবে। তাই আগামী নির্বাচনে না গেলে বিএনপির ভাঙন অনিবার্য হয়ে উঠবে। আর বিএনপি নির্বাচনে না গেলে রায় থেকে পাওয়া সম্ভাব্য সহানুভূতিও তাদের কোনও কাজে লাগবে না। সেই সহানুভূতিকে সরকার পতনের আন্দোলনে বদলে দেওয়ারও বাস্তবতা নেই।

তবে বিএনপি সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাবে, বেগম জিয়া বেকসুর খালাস পেলে। খালেদা জিয়ার সাজা হবে ধরে নিয়েই বিএনপির সকল প্রস্তুতি। চেষ্টা চলছে, রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দলের পুনর্জাগরণের। এখন বেগম জিয়ার সাজা না হলে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর এই প্রবল চেষ্টা মাঠে মারা যাবে। আবার খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে যারা নেতৃত্বে আসার বা দল ভাঙার স্বপ্ন দেখছেন, সাজা না হলে হতাশ হবেন তারাও।

খালেদা জিয়ার এই মামলার রায় সত্যি ‘শাঁখের করাত’। কাটবে সব দলকেই; কাউকে কম, কাউকে বেশি। বেশি বিপদে সরকারি দল। বেকসুর খালাস পেলে খালেদা জিয়ার ইমেজ বাড়বে, আর সাজা হলে সহানুভূতি বাড়বে। বিএনপির সুবিধা হলো, বেকসুর খালাস হলে তারা বলতে পারবে, সরকার এত চেষ্টা করেও খালেদা জিয়ার সততায় আঘাত করতে পারেনি। আর সাজা হলে বলতে পারবে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। রাজনীতি থেকে বিদায় করতেই অসুস্থ হওয়ার পরও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের হাতে আরেকটা অপশন আছে। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাও দ্রুতই পরিণতির দিকে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়া বেকসুর খালাস হলেও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজা হতে পারে। তখন সরকার বলতে পারবে, বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন। তারা মামলার মেরিট দেখে রায় দিয়েছেন।

এসবই ধারণার কথা। আর এইসব ধারণাকে ঘিরেই চলছে হিসাব-নিকাশ, চলছে কৌশলের খেলা। এ খেলায় কে জিতবে, কার হিসাব মিলবে; তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রায় যাই হোক, ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

banglatribune

পড়া হয়েছে ১২৫ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ