সড়ক দুর্ঘটনায় পড়লে প্রথমেই যে কাজগুলো করতে হবে

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৮, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ

 

কর্মক্ষম হিসেবে প্রতিনিয়ত জীবন যাপন করার জন্য আমাদের শরীরের হাড়, জোড়া বা জয়েন্টকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের অসচতেনতার কারণে কিংবা শারীরিক বিভিন্ন রোগের কারণে, এমনকি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার কারণে আমাদের হাড়, জোড়া কিংবা জয়েন্ট আক্রান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে আরটিভির স্বাস্থ্য-বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সেভলন সুস্থ থাকুন’ অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন প্রখ্যাত ট্রমা ও অর্থোপ্লাস্টি সার্জন ডা. মো. আমজাদ হোসেন।
প্রশ্ন: হঠাৎ দুর্ঘটনায় হাড় ভেঙে গেলে কিংবা জয়েন্ট ছুটে গেলে কী চিকিৎসা নিতে হবে?
উত্তর: জয়েন্ট ছুটে যাওয়া একটি ইমার্জেন্সি বিষয়। প্রথমেই তাকে খুব দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। যেভাবেই হোক জয়েন্টকে বসাতে হবে। আর হাড় ভেঙে গেলে প্রথম দেখতে হবে এটা ওপেন ফ্র্যাকচার কিনা অর্থাৎ হাড় মাংস ভেদ করে বের হয়ে আসছে কিনা, রক্তপাত হচ্ছে কিনা। এরকম হলে কাদা মাটি বা ময়লা এগুলো ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেখান থেকে পরবর্তীতে ইনফেকশন হতে পারে। এরকম মুহূর্তগুলোতে রোগীকে যেভাবেই হোক সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে ছোটোখাটো রক্তপাত হলে সেটা চাপ দিয়ে রাখলেই রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আর বড় রক্তপাত হলে সাথে থাকা যেকোনো কাপড়চোপড় দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এভাবে কোনোভাবেই রোগীকে দেড়-দুই ঘন্টার বেশি রাখা যাবে না। এর মধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেই হবে।

প্রশ্ন: কেউ যদি হাইওয়ের মধ্যে দূর্ঘটনায় পড়ে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে, সেক্ষেত্রে আমরা কিভাবে বুঝবো যে তার মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে?
উত্তর: কেউ মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে থাকলে তার চার হাতপা দুর্বল হয়ে যাবে এবং অবশ হয়ে যাবে। এরকম পরিস্থিতিতে অন্তত তিনজন মিলে কাঠের গুড়ি যেভাবে ধরে সেভাবে করে রোগীকে ধরে যাতে কোনোভাবেই মোচড় না খায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নাইলে দেখা গেলো কারো মেরুদণ্ডে হালকা ভেঙে গেল আর ওই মোচড়ে পুরোটাই ভেঙে যেতে পারে। এই সময়গুলোতে তাই আলতো করে ধরে নিয়ে যেতে হবে। এবং রোগীকে বসানো যাবে না। যেখানে সোজা করে শোয়ানো যায়, যেমন অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ট্রাকে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন: হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ে ব্যথা বা পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা অনুভব করলে কি করা উচিত?
উত্তর: এই ব্যাপারটি অনেক মানুষেরই হয়ে থাকে। এটা কিন্তু কোনো রোগ না। এটার জন্য ব্যায়াম করলেই হবে। আর বিশেষ করে পায়ের ব্যায়াম করতে হবে। নরম জুতা পড়তে হবে যেহেতু শহরে মাটি আর ঘাসে হাটার চল নেই বললেই চলে। আর খালি পায়ে পাকা জায়গায় একেবারেই হাটা যাবে না। এইসব ক্ষেত্রে ইনজেকশন দেয়া বা ঔষধ নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন: অনেকেই হাঁটুর ব্যথা, কোমরের ব্যথা কিংবা গোড়ালির ব্যথার কথা বলে থাকেন তখন তার চিকিৎসা পদ্ধতিটি কি রকম হওয়া উচিত?
উত্তর: এক্ষেত্রে প্রথমেই রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় আনতে হবে। আর ক্যানসার অথবা যক্ষ্মা আক্রান্ত কিনা সেদিকটা খেয়াল রাখতে হবে। আর এখন প্রচুর পরিমাণে এমআরআই হচ্ছে, অনেক ডাক্তার দরকার মনে না করলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এমআরআই করতে দিচ্ছেন যা করা একদমই উচিত নয়। বরং এটা করার আগে এক্সরে, রক্ত পরীক্ষার মতো মৌলিক টেস্টগুলো করে দেখা উচিত। rtv

পড়া হয়েছে ১৭১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ