আপনি যাই করেন না কেন, সব জানে গুগল!

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮, ২:১৭ অপরাহ্ণ

আপনি কিছু সময় একাকী কাটাতে চান। গোপনে গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। দূরে কোথাও নির্জনে গাড়ি থামালেন। দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন এবং গাড়িতে হেলান দিয়ে আয়েশ করে চোখ দিলেন অপূর্ব প্রকৃতির দিকে। আপনি কি আসলেই একাকী নিভৃতে সময় কাটাতে পারছেন?

ফক্স তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, এই যে আপনি গাড়ির দরকা খুলে নিভৃত কোনো স্থানে পা রাখলেন, সেটাও কিন্তু গুগল বুঝে ফেলেছে। কারণ, আপনার প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি করছে গুগল। আপাতত এই সমস্যাটি আমেরিকানদের চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সিলিকন ভ্যালি তাদের ওপর গোপনে নজরদারির ব্যবস্থা সাজিয়ে রেখেছে।

ফক্স নিউজের পলিটিক্যাল কমেন্টেটর টাকার কার্লসন একজন প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলেন কলাম্বিয়ায়। সেই প্রতিবেদন ঘুরে বেড়িয়েছেন। কার্লসন বোঝার চেষ্টটার করেছেন গুগল কীভাবে প্রতিবেদকের ওপর নজরদারি করছে।

কার্লসন পাঠিয়েছিলেন ফক্স নিউজ হেডলাইনস ২৪/৭ এর উপস্থাপক ব্রিট লার্সনকে। ওয়াশিংটনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাকে পাঠানো হয়। ফক্স নিউজ ব্যুরো থেকে তিনি গিয়েছিলেন নর্থ ক্যাপিটল স্ট্রিট, চিলড্রেন্স হসপিটাল এবং ওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথেড্রালে।

অতীতের আরেক প্রতিবেদনে কার্লসন বলেছিলেন, গুগল দুটো প্যাটেন্টের বিষয়ে আবেদন করেছিল। এর একটি হলো, তারা নিজস্ব সিস্টেমে আপনার বেডরুমে নজরদারি করতে পারবে। আপনি বা বাচ্চারা কী করছেন তা জানতে গুপ্তচরবৃত্তি চালাবে। ‘সার্ভিলেন্স ক্যাপিটালিজম’ এর ওপর ভিত্তি করে গুগল তথ্য পাঠায় আপনার কাছে। বিজ্ঞাপন ও পণ্য বিক্রির নানা কার্যক্রম পাঠানো হয় আপনার কাজ, অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে।

কার্লসন আসলে লার্সনকে পাঠান এই দেখতে যে, গুগল কীভাবে লার্সনের ব্যবহার করা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মাধ্যমে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচ্ছে।

দুটো ফোন নিলেন লার্সন। একটিতেও সিম কার্ড ভরা হয়নি। এমনকি এয়ারপ্লেন মোডে ছিল ফোন। সেই অবস্থায় একটি কালো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলেন লার্সন। সে সময় কেবল ওয়াই-ফাই চালু করা হয়েছিল ক্যাথেড্রালের ছবি তুলতে।

ঘোরাফেরা করে ফক্স নিউজ চ্যানেল ব্যুরোতে চলে আসলেন লার্সন। এরপর তিনি তার ফোন একটি যন্ত্রে সংযোগ করলেন। দেখতে চান, কী কী তথ্য গুগলে পাঠিয়েছে ফোন। এরপর কেবল বিস্ময় আর বিস্ময়।

লার্সন বলেন, আমি তাজ্জব বনে গেলাম। আমি কখন গাড়ি থেকে বের হয়েছি তাও জানে গুগল। আসলে ব্যবহারকারীরা কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে যায় নিরাপত্তার জন্যে। এটার কোনো দরকারই নেই। আপনি যতই সাইন আউট করেন, গুগল আপনার ভেতরে আছেই।

এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের জবাব দিয়েছে গুগল। তারা বলেছে, অবস্থান নির্দেশক তথ্যগুলো ব্যবহারকারী মুছে ফেলতে পারেন। কিন্তু প্রক্রিয়াটি বেশ কঠিন।

তবে সবকিছু বিচার করে কার্লসন মন্তব্য করেছেন, আপনি গুগলের ক্রেতা নন, উল্টো গুগলের পণ্য।
সূত্র : ফক্স নিউজ

পড়া হয়েছে ১৫৭ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ