ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী, কোথায় থাকবেন জানেন না!

মার্চ ৮, ২০১৮, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
 
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মানিক সরকার। সদ্য প্রাক্তন হওয়া এই রাজনৈতিক ব্যক্তির সাধারণ জীবনযাপনের কথা অনেকেই জানেন। ২০ বছর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের। একইসঙ্গে রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠন সিপিএম’র সভাপতিও তিনি। গেলো ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছে সিপিএম। ২০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর এবার ছাড়তে হচ্ছে এই দায়িত্ব। নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব শপথ নেবেন আগামী ৯ মার্চ শুক্রবার। মানিক সরকার চান তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর বাংলো ছেড়ে যাবেন। কিন্তু ২০ বছরে একটু একটু করে সাজানো সংসার কি এক কথায় তুলে নিয়ে যাওয়া যায়? বাড়ি ভর্তি বইয়ের কী হবে?
মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী পাঞ্চালি ভট্টাচার্য জানান, বেশ কিছু বই তারা দিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সরকারের বীরচন্দ্র স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে। লেনিন রচনাবলী, দাস ক্যাপিটাল, কার্ল মার্কসসহ অনেক বই দিয়েছেন সিপিএমের দলীয় লাইব্রেরিতে। আর বাংলাদেশের কয়েকটি প্রকাশনার বেশ কিছু বই রেখেছেন নিজেদের কাছে। আগরতলার কৃষ্ণনগরে পাঞ্চালির বাপের বাড়ির একটি ঘরে ঠাঁই পাচ্ছে সেসব গ্রন্থ।
২০ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরও মানিক সরকারের নিজের কোনো বাড়ি নেই। নেই নিজেদের কোনো গাড়ি। সদ্য প্রাক্তন হওয়া এই মুখ্যমন্ত্রী এখন পরিবার নিয়ে থাকবেন কোথায়? আপাতত পার্টি অফিসের একটা ছোট্ট গেস্ট রুমই হবে ঠিকানা। দলের সভাপতি হিসেবে পার্টি থেকে ব্যয় নির্বাহের জন্য দেয়া হয় কিছু টাকা। সেটা দিয়েই চলবে তার প্রতি মাসের খরচ। এমনটাই জানালেন মানিক সরকারের স্ত্রী পাঞ্চালি।
ভারতের প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন পাঞ্চালি ভট্টাচার্য। মানিক সরকারের স্ত্রী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর বাংলো ছেড়ে যাওয়াটা তো কিছুটা কষ্টেরই। এখানকার স্টাফরা কান্নাকাটি করছে। বাংলোর গাছগুলোর কথা খুব মনে পড়বে।’
নির্বাচনের ভোটে পরাজিত হবার পরই মানিক সরকার জানিয়ে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবার আগেই বাংলো ছাড়তে চান। তাই বাড়ি ছাড়ার জন্য জিনিসপত্র গোছানো নিয়ে ব্যস্ত পাঞ্চালি ভট্টাচার্য। অবশ্য জিনিসপত্র বলতে তেমন কিছুই নেই তাদের। মানিক সরকারের নিজের কোনো মোবাইল ফোনও নেই। সরকারি যা ব্যবহার করতেন তার সবই রেখে যাচ্ছেন।
এখন কিভাবে সময় কাটবে জানতে চাইলে পাঞ্চালি বলেন, ‘এখন ওর দিকে একটু বেশি নজর দিতে পারব। অবশ্য ওকে নিয়ে আগেও ব্যস্ততা ছিলই। কখন ফিরবে, কখন খাবে, নজরতো রাখতেই হত। তৃণমূল স্তরে আমি মেয়েদের নিয়ে কাজ করি। আমাদের সংগঠন ‘চেতনা-ইনস্টিটিউট অব উইমেন স্টাডিজ’-এর সামাজিক কাজ চলছে। সে কাজে আরও জোর দেব।’
নির্বাচনে পরাজিত হবার পর দলীয় নেতাকর্মীরা যখন কান্নাকাটি করছেন তখন মৃদু হেসে মানিক সরকার বলেছিলেন, ‘কী হয়েছে? কিছুই হয়নি। ভোটে তো হারজিত আছেই। রাত হয়েছে। কাল কথা হবে।’ সেই মৃদু হাসির মাঝেও যেন কিছুটা চাপা কষ্ট ছিল। পরদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাংলোর সামনে সবাইকে সাহস দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা তো আন্দোলনের মধ্যেই আছি। দোষ-ত্রুটি আছে। কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে।’
কোনোদিন সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি মানিক সরকারের স্ত্রী পাঞ্চালি। রিকশা করে যাতায়াত করেছেন, বাজার করেছেন। নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঘোরেননি। আরও পাঁচজন সাধারণ নারীর মতোই সংসার সামলেছেন। এই জীবনযাত্রাই তাকে করে তুলেছে অনন্য। চলতি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যা বেমানান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটা হয়তো অলীক কল্পনা। কিন্তু ত্রিপুরার মানিক সরকারের পরিবারতো এমনই। অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে গরিব মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মানিক। কিন্তু রাজনীতিতে তিনি মানুষের মাঝে হয়ে আছেন রোল মডেল।rtv

পড়া হয়েছে ১৩১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ