সন্তানের কাছে যেমন ছিলেন স্টিফেন হকিং

মার্চ ১৮, ২০১৮, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

পদার্থবিজ্ঞানী  স্টিফেন হকিং পারিবারিক জীবন কিভাবে অতিবাহিত করছেন? কিভাবে কেটেছে তার সংসার? সন্তানের কাছে স্টিফেন হকিং কেমন ছিলেন? এরকম নানা প্রশ্ন উঁকি দিয়েছে পাঠকের মনে। আর একজন বিখ্যাত ব্যক্তির মৃত্যুর পর এ রকম প্রশ্ন দেখা দেওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   

ব্যক্তিগত জীবনে স্টিফেন হকিং দুই বিয়ে করেন। প্রথম বিয়ের দুই বছর আগে মোটর নিউরোন রোগে আক্রান্ত হন তিনি।

জানা যায়, মোটর নিউরোন রোগটি ধরা পড়ার ২ বছর পর ১৯৬৫ সালের ১৪ জুলাই স্টিফেন হকিংসের সঙ্গে বিয়ে হয় ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী জেন উইলডের। যদিও রোগটি ধরা পড়ার এক বছর আগে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে হকিংয়ের সঙ্গে জেনের প্রথম পরিচয় হয়। বিয়ের পর স্টিফেন ও জেন দম্পত্তির ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান- রবার্ট, লুসি, টিম। তবে হকিংসের অসুস্থতার কারণে এই তিন সন্তানকে আগলে রাখতে হতো জেনকেই। আবার হকিংসের সেবা যত্নেও করতে হতো তাকে।

এদিকে, পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসতে থাকলে স্টিফেন হকিংসকে সার্বক্ষণিক দেখা শুণা করার জন্য একজন নার্স নিয়োগ করা হয়। ১৯৯৫ সালে জেনের সাথে হকিংয়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আর সেই বছরের সেপ্টেম্বরে হকিং তার নার্স এলিনা মেসনকে বিয়ে করেন। দশ বছর সংসারের পর ২০০৬ সালে এলিনার সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে স্টিফেনের সাথে প্রথম স্ত্রী জেনের সম্পর্ক ভালো হতে শুরু করে।

হকিংসের ছোট ছেলে টিম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বাবার কথা কিছুই বুঝতাম না। আমার বাবা তার নিজস্ব ভঙ্গিতে কথা বলতেন। আমার পক্ষে বাবার আধো আধো কথা বোঝা খুব কঠিন ছিল। তবে বাবার সাথে জোড়া লাগানো কথা বলার যে বক্স ছিল সেটা কখনোই আমার কাছে বাধা হিসেবে ছিল না। বরং বক্সটি আমাদের মধ্যে একটা ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, বাবা ভয়েস সিনথেসাইজারের মাধ্যমে কথা বলতেন। আমি যখন এটা বুঝতে পারলাম, তখন আর বাবার সাথে কথা বলতে কোনো সমস্যা হতো না। তিনি বলেন, এটা আমার পরিবারের জন্য মর্মস্পশী বিষয় হলেও আমরা শুরু থেকেই বাবার সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পেরেছিলাম। বাবা দাবা খেলায় বেশ দক্ষ ছিলেন। তাই সময় পেলেই বাবার সাথে দাবা খেলতে বসে যেতেন বলেও জানান টিম।

গত ১৪ মার্চ ক্যামব্রিজে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন স্টিফেন হকিং।মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্যের তাত্ত্বিক ব্যাখায় কৃষ্ণবিবর ও বিকিরণতত্ত্বের ব্যাখা দিয়ে তিনি এ সময়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর স্থানটি দখল করে নেন।

 

পড়া হয়েছে ১৫৪ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ