জিহ্বার রোগে দুশ্চিন্তা

নভেম্বর ৯, ২০১৫, ৬:২০ অপরাহ্ণ

জিহ্বায় নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। অ্যাপথাস আলসার, টিউবারকুলাস আলসার, সিফিলিটিক আলসার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের আলসার জিহ্বায় দেখা যেতে পারে। আবার সাধারণ প্রদাহ থেকে শুরু করে জিহ্বায় বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ দেখা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো রোগীদের দুশ্চিন্তা এবং রোগ নির্ণয়ে যদি কোনো ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয় তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে পড়ে। এক সময় বার বার রোগীর অ্যাপথাস আলসার হতে থাকে যদিও প্রাথমিকভাবে রোগটি ছিল না।
জিহ্বার একেবারে পেছনে কিছু অসম উঁচু জায়গা দেখা যায় যাকে লিংগুয়াল ফলিকলস্ বলা হয়। লিংগুয়াল ফলিকলসগুলোকে এক সঙ্গে লিংগুয়াল টনসিল বলে। অনেক রোগীকে এ লিংগুয়াল টনসিল নিয়েও দুশ্চিন্তা করতে দেখা যায়। উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠায় অনেক সময় রোগীর রাতে ঘুম আসে না। অনেকের জিহ্বা স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে বড় হয়ে থাকে, যা ম্যাক্রোগ্লসিয়া নামে পরিচিত। জিহ্বা বড় থাকলে অনেক সময় জিহ্বার পাশে দাঁতের দাগ বসে যেতে দেখা যায় বা কোনো দাঁত ধারালো থাকলে জিহ্বার ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এসব সমস্যা থেকে সহজেই আরোগ্য লাভ করা যায়।
জিহ্বার ফলেট প্যাপিলার প্রদাহ যা ফলেট প্যাপিলাইটিস নামে পরিচিত তা থাকলে রোগীর খাদ্য গ্রহণে সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে ঝালজাতীয় খাদ্য। ফলেট প্যাপিলার প্রদাহ যখন জিহ্বার পিছনে একদিকে হয় আবার অন্য পার্শ্ব পুরোপুরি স্বাভাবিক তখন রোগীরা আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু এ ধরনের সমস্যা আমাদের দেশে কম নয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী চললে এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা যায়। জিহ্বার ঘা বা আলসার কোনোভাবেই ভালো না হলে বা দীর্ঘদিন হলে বায়োপসি করে রোগ নির্ণয় করা হয়। কিন্তু জিহ্বা কেটে বায়োপসি করার আগে অবশ্যই রোগীর শরীরে অন্য কোনো রোগ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা একান্ত জরুরি। বিশেষ করে যাদের বয়স একটু বেশি তাদের ডায়াবেটিস আছে কিনা তা দেখে নেয়া ভালো। আবার কেউ যদি বিষণ্নতায় ভোগেন তার চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে দ্রুত।

জিহ্বার ক্যান্সার
ক্যান্সার তখনই সৃষ্টি হয় যখন শরীরের কোষ বিভাজন অনিয়ন্ত্রিতভাবে হতে থাকে স্বাভাবিকরূপে। জিহ্বার ক্যান্সারও একইভাবে হয়ে থাকে। মানবদেহে জিহ্বার দুটি অংশ রয়েছে। একটি হল ওরাল টাং বা জিহ্বা যা আমরা সচরাচর সহজেই দেখতে পাই জিহ্বার এ অংশ হল জিহ্বার সামনের তিন ভাগের দুই ভাগ। জিহ্বার অন্য অংশকে জিহ্বার বেস বলা হয় অর্থাৎ জিহ্বার পিছনের তিন ভাগের এক ভাগ। জিহ্বার ক্যান্সার সাধারণত মুখ এবং ওরোফেরিংস (মুখের পিছনে গলার অংশ) কে আক্রান্ত করে থাকে। জিহ্বার পিছনের এই অংশে ক্যান্সার হলে তাকে ওরোফেরিনজিয়াল ক্যান্সার বলা হয়। জিহ্বায় যে ধরনের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তা হলো স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা। স্কোয়ামাস সেল মুখের লাইনিংকে আবৃত করে রাখে। স্কোয়ামাস সেল কারসিনোমা বলা হয় এই কারণেই যে, ক্যান্সারের শুরু হয় এ সেল বা কোষ থেকে।
জিহ্বার ক্যান্সারের কারণ : (ক) ধূমপান, (খ) তামাক পাতা সেবন, (গ) অতিরিক্ত এলকোহল সেবনের কারণে।
জিহ্বার ক্যান্সার কাদের হতে পারে? : (ক) পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে, (খ) যাদের মুখের স্বাস্থ্য খুবই খারাপ থাকে, (গ) চল্লিশ বছরের উপরে বয়স হলে, (ঘ) ধূমপান বা এলকোহল সেবনের কারণে মুখের মিউকাস মেমব্রেনের ক্রমাগত প্রদাহের কারণে, (ঙ) যাদের ক্রমাগত মুখের আলসার হয়ে থাকে, (চ) জেনেটিক কারণেও হতে পারে।
জিহ্বার ক্যান্সার হলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। যথাসময় চিকিৎসা গ্রহণ করলে জিহ্বার ক্যান্সার থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব।

জিহ্বার ক্যান্সারের লক্ষণ
যদি জিহ্বায় দীর্ঘদিন যাবৎ সাদা অথবা লাল প্যাঁচ বা দাগের মত থাকে যা কখনোই ভাল হচ্ছে না। (২) গলায় ক্ষত সহজে ভাল হচ্ছে না। (৩) জিহ্বায় কোন ক্ষত চিহ্ন যা কোনভাবেই ভাল হচ্ছে না। (৪) জিহ্বার ফুলাভাবের সাথে ব্যথা হলে। (৫) জিহ্বায় কোনো গোটা বা পি- দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যমান থাকা। (৬) কোনো কিছু গিলতে অসুবিধা হওয়া। (৭) জিহ্বা নড়াতে অসুবিধা বা অবশভাব। (৮) গলার স্বরের পরিবর্তন জিহ্বার নড়াচড়ার সমস্যার কারণে। (৯) কথা বলার সময় বা চিবানোর সময় ব্যথা হলে। (১০) কোনো কারণ ছাড়া জিহ্বা থেকে রক্তপাত হলে। (১১) মুখের অবশভাব কোনভাবেই নিরাময় না হওয়া এবং (১২) খুব কম ক্ষেত্রে কানে ব্যথা।
উপরের লক্ষণগুলো কারো জিহ্বায় থাকলেই যে, জিহ্বায় ক্যান্সার হয়েছে তা বলা ঠিক হবে না। তবে বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় এনে রোগ নির্ণয় করতে হবে।
– ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন
মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ, মোবাইল : ০১৮১৭৫২১৮৯৭, ই-মেইল : dr.faruqu@gmail.com

পড়া হয়েছে ১৪১৫ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ