ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বান্দরবানের নীলাচল পর্যটনে

আগস্ট ২৮, ২০১৫, ৬:১৮ অপরাহ্ণ

ঈদে আনন্দ উপভোগ করার জন্য সবাই মুখিয়ে আছে। কে কিভাবে ঈদের ছুটি কাটাবেন তার ছকও অনেকে করেছেন। অনেকেই বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করে ঈদের আনন্দ করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন।

যারা দুরে আকর্ষনীয় পরিবেশে দর্শনীয় কোন জায়গায় গিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে আগ্রহী তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বান্দরবানের নীলাচল, লামা মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, নীলগিরি, কোয়ান্টাম, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈল প্রপাত, মিলনছড়ি, চিম্বুক, সাঙ্গু নদী, মাতামুহুরী নদী, তাজিলডং, কেওক্রাডং, জাদিপাই ঝরণা, বগালেক, প্রান্তিক লেক, ঋজুক জলপ্রপাত, নাফাখুম জলপ্রপাত, আলীকদমের আলী সূড়ং, চিংড়ি ঝিরি ও পাতাং ঝিরি। হরেক রকমের গাছগাছালীতে পরিপূর্ণ, সবুজ ছায়া পরিবেষ্টিত, লেক, পাহাড়, আর নীল আকাশের সমাহার যেখানে মিশে আছে।

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বান্দরবানের নীলাচল পর্যটনে

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি ঝেড়ে নতুন জীবনশক্তি আহরণে যারা আগ্রহী তাদের জন্য বান্দরবানের নীলাচল, লামা মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স আদর্শ জায়গা। এখানে আকাশে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে প্রকৃতির অনাবিল সৃষ্টি পাহাড়। তার উপর ভালবাসার চাদর বিছিয়ে দিয়েছে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘপুঞ্জ। আর চারদিক থেকে জড়িয়ে রেখেছে মেঘলা লেকের স্বচ্ছ নীল জলধারা। লেকের দুই পাড়ে সবুজ পাহাড়ের বেষ্টনি। একদিকে নগরসভ্যতার কোলাহলমুক্ত অনাবিল প্রশান্তিময়, অন্যদিকে নির্জনতার অমিয় সুধাপান। উন্নত বিশ্বে ছুটির দিনে শহর ছেড়ে অনেক দূরে গিয়ে নিঃশব্দ প্রকৃতির সংস্পর্শ পেতে ব্যাকুল লোকের সংখ্যা প্রচুর।

ভ্রমণ মানুষের ক্লান্তি দুর করে কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ক্লান্ত শরীর ও মনকে প্রশান্তি দিতে কে না চায়! আমাদের দেশেও ভ্রমণ পিপাসু অসংখ্য মানুষ আছে। অনেকে বহু টাকা খরচ করে ভারত, নেপাল এমনকি নিউজিল্যান্ডের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে যান। কিন্তু এদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই স্রষ্টা কি রূপে সাজিয়েছেন প্রিয় বাংলাদেশকে। বিশেষভাবে বান্দরবান জেলার নীলগিরি, কোয়ান্টাম, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈল প্রপাত, মিলনছড়ি, চিম্বুক, সাঙ্গু নদী, মাতামুহুরী নদী, তাজিলডং, কেওক্রাডং, জাদিপাই ঝরণার কথা বলতে হয়। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে প্রকৃতির রূপ লাবণ্যকে আরো আকর্ষণীয় করতে বান্দরবান জেলা প্রশাসন থেকে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্রকে নবরুপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

বান্দরবান জেলা শহেরর নিকটবর্তী পর্যটন কেন্দ্র। এটি জেলা সদরের প্রবেশ মুখ টাইগার পাড়ার পাশাপাশি অবস্থিত। নীলাচল বান্দরবান জেলা প্রশাসন সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ পর্যটন কেন্দ্রটি পরিচালিত হয় । এ পর্যটন কেন্দ্রের উচ্চতা প্রায় ১৭০০ ফুট। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে এই পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। পাহাড়ের উপর নির্মিত এ পর্যটন কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত।

বান্দরবান শহরের বাস ষ্টেশন থেকে জীপ, ল্যান্ড ক্রু জার, ল্যান্ড রোভার ভাড়া নিয়ে যেতে হবে অথবা বান্দরবান শহরের সাঙ্গু ব্রীজের কাছে টেক্সি ষ্টেশন থেকে টেক্সি ভাড়া নিয়ে নীলাচল যেতে পারেন । জীপ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার ৬শত-৭শত টাকা, টেক্সি ৩শত টাকার মত নিয়ে থাকে।

বান্দরবান জেলার বৃহত্তর উপজেলা লামা শহর থেকে সাড়ে ৭কি.মি দূরে মিরিঞ্জা পাহাড়ে অবস্থিত পর্যটন মিরিঞ্জা। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২২শত ফুট উচ্চতায় আবস্থিত মিরিঞ্জা। পাহাড় আর মেঘের মিলনের অপরুপ দৃশ্য দেখা যাবে এখানে। প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা। পিকনিকের রান্না করার সুযোগ রয়েছে। প্রায় ৩৩একর জায়গায় নির্মিত পর্যটন মিরিঞ্জা সহজেই সকলের মন কেড়ে নেবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া থেকে জীপ, বাস ও প্রাইভেট গাড়ীতে করে আসা যাবে। দূরত্ব ১৭ কি.মি। চকরিয়া হতে মিরিঞ্জা পর্যটনের ভাড়া ৪৫-৫০ টাকা। রাতে থাকার সু-ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকলে ভাল। তবে লামা শহরে মাঝারি ধরনের হোটেল রয়েছে। প্রতিরুমের ভাড়া পড়বে ৩শত থেকে ৮শত টাকা পর্যন্ত। ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস স্থল লামা যে কোন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের মন কাঁড়বে।

পড়া হয়েছে ১৮০০ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ