সেপ্টেম্বর ২, ২০১৫, ৭:১৬ পূর্বাহ্ণ
░░ ইতিহাসের পাতায় ২ সেপ্টেম্বর ░░

 

▒ ১৯৪৫ সালের এই দিনে ভিয়েতনাম স্বাধীনতা লাভ করে। দেশটির জনগণ এই দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসাব পালন করে। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বৃটিশরা ভিয়েতনামে উপনিবেশ স্থাপন করে। কিন্তু ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর কাছে ফরাসীরা পরাজিত হওয়ার পর প্যারিসের দুর্বলতার সুযোগে জাপান ভিয়েতনাম দখল করে। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্ত ও জাপান আত্মসমর্পন করার পর হোশি মিনে ভিয়েতনামের ক্ষমতার হাল ধরেন এবং আজকের এই দিনে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর কিছু দিন পর তিনি প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন।তবে ১৯৪৬ সালে আবারও ফ্রান্স ও এরপর যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে ব্যাপক হামলা চালালে দেশটির জনগণ দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা পরাজিত হলে ভিয়েতনাম আবারও স্বাধীনতা লাভ করে।

▒ ১৮০১ সালের এই দিনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ওসমানীয় ও বৃটিশ সেনাদের ব্যাপক যুদ্ধের পর অবশেষে ফরাসী বাহিনী পরাজিত হয়ে মিশর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এখানে উল্লেখ করা যায় নেপোলিয়ান যখন মিশর দখল করে তখন তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বৃটিশরা মিশরে তাদের সামিরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হুমকির মুখে বলে মনে করতে থাকে। এ কারণে বৃটিশরা মিশর থেকে ফরাসী বাহিনীকে বিতাড়ন ও তাদের অগ্রাভিযান রোধের জন্য তুর্কী উসমানিয় শাসকদের সাথে জোট গঠন করে। নেপোলিয়ান ফ্রান্সে ফিরে গেলে তার অনুপস্থিতিতে মিশরে ফরাসী বাহিনীর দখলদারিত্বেরও অবসান ঘটে।

▒ ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাপান বিনা শর্তে আত্ম সমর্পন করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে জাপান মিত্র বাহিনীর কাছে বারবার পরাজিত হচ্ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করলে দেশটি শেষ পর্যন্ত আত্ম সমর্পন করলে মিত্র বাহিনী দেশটি দখল করে নেয় এবং একজন মার্কিন জেনারেল দেশটির নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে। ১৯৫১ সালে ৪৯টি দেশের সাথে জাপানের শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং এর এক বছর পর দেশটি আবারও স্বার্বভৌমত্ব ফিরে পায়।

▒ হিজরী ৪২৮ খ্রীস্টাব্দের এই দিনে ইরানের খ্যাতনামা চিকিৎসক, গণিতবিদ, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ আবু আলী সিনা ৫৮ বছর বয়সে ইরানের হামেদান শহরে পরলোক গমন করেন। তিনি তরুণ বয়সেই কোরআন শরীফ মুখস্ত করেন এবং এরপর যুক্তিবিদ্যা, জ্যামিতি ও জ্যোতিশাস্ত্রের উপর পড়ালেখা করেন। জানা যায়, মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি এসব বিষয়ে পান্ডিত্য অর্জন করেন। পূর্ব ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে তিনি চিকিৎসক ও দার্শনিক হিসাবেই বেশী পরিচিত। ইবনে সিনার গবেষণালব্ধ জ্ঞান বহু শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞানী মানুষের চিন্তা ও গবেষণার খোরাক যুগিয়েছে।তার অসংখ্য গ্রন্থের মধ্যে শেফা বা আরোগ্য, দর্শনের ক্ষেত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বইএর কথা উল্লেখ করা যায়।

▒ হিজরী ৭৩২ সালের এই দিনে তিউনিসিয়ার খ্যাতনামা মুসলিম সমাজ বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ ও ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন জন্ম গ্রহণ করেন। তার সমগ্র জীবন তিন অংশে বিভক্ত। তিনি তার জীবনের প্রথম পর্যায়ে জ্ঞান বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ, দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা এবং তৃতীয় পর্যায়ে গবেষণা ও লেখালেখি করে কাটিয়ে দিয়েছেন। ইতিহাস সংক্রান্ত বই লিখে তিনি অমর হয়ে আছেন।

পড়া হয়েছে ২৬৫ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ