স্বর্গের মতো সুন্দর পৃথিবীর সেরা সাত স্থান

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

সুজন মেহেদীঃ প্রতিদিনের জীবন আর চারপাশের পরিস্থিতি আর ব্যস্ততায় মানুষ যখন ক্লান্ত, তখন প্রকৃতির কাছে গেলে মানুষের স্বস্তি মেলে। কোন কোন মুহুর্তে সেটিকেই স্বর্গ বলে মনে হয়। পৃথিবীর সৌন্দর্যের মানুষ স্বর্গ খোঁজার চেষ্টা করেছে সবসময়। সম্প্রতি স্বর্গ খোঁজার এক জরিপে বিশ্বের সাতটি স্থানকে স্বর্গের মতো বলে উত্তর দিয়েছে ভ্রমণপিপাসুরা।

তাদের উত্তর দেয়া স্থানের ছবি তুলে অবাক হয়েছে বিবিসি-ও। স্থানগুলোর বর্ণনা তুলে ধরেছে তারা কল্পিত স্বর্গের মতই।

টিউলিপ বাগান, নেদারল্যান্ডস

ছবিই বলে দেয় কতটা অসাধারণ আর মনমুগ্ধকর নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ ফুলেরএই বাগানটি। এখানে রয়েছে নীল, লাল, গোলাপি আর হলুদের সমাহার।

টিউলিপ

নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ বাগান

বিচিত্র রঙেরসব ফুল। সাহিত্যে নোবেল জয়ী বিখ্যাত ইংরেজ কবি টি এস ইলিয়টের প্রিয় ফুল ছিল এইটিউলিপ। তবে নেদারল্যান্ডসে টিউলিপ আসার পেছনে রয়েছে একটি ইতিহাস। ১৬ শতকেবাইরের কোনো দেশ থেকে এখানে নিয়ে আসা হয় এই টিউলিপ গাছগুলো। এখানকার সবচেয়ে বেশি টিউলিপের বাগান রয়েছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের লেইডেন এবং ডেন হেল্ডার শহরের মধ্যবর্তী স্থানে।

প্রতি বছর ৩০ কোটি টিউলিপ ফোটে নেদারল্যান্ডসে। বছরে ১০ হাজারেরও বেশি পর্যটক আসে এগুলো দেখতে। মার্চ থেকে আগস্ট থেকে ধরা হয় টিউলিপ ফোটার সময়।

টিউলিপ

বিমান থেকে তোলা টিউলিপ বাগানের ছবি

ভ্রমণপিপাসুরা মন্তব্য করেছেন ‘টিউলিপ বাগানকে মনে হয় বাচ্চাদের বইয়ে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম’।

বার্সেলোনা গির্জা, স্পেন

দেশটির সবচেয়ে নামকরা স্থপতি অ্যান্টনি গোদি নকশা করেছিলেন এই গির্জাটির। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটিএকটি। অসাধারণ কারুকার্য খচিত এই স্থাপনাটি নিয়ে আছে অনেক গল্প আর রহস্য।

বার্সেলোনা গির্জা

বার্সেলোনা গির্জা

১৮৮২ সালে শুরু হয় এটির নির্মাণ কাজ। ১৯২৬ সালে গোদি যখন মারা যায় তখনএটির এক-চতুর্থাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর স্পেনের গৃহযুদ্ধের কারণে থেমে থাকে এর কাজ। এখনো শেষ হয়নি একে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া। স্থাপত্যবিদরা ২০২৬ সালে গোদির মৃত্যুর শততম বার্ষিকীতে এর কাজ শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩০ লাখ পর্যটক আসে এই স্থাপনাটি দেখতে।

লাস লেক, ইংল্যান্ড

ইংরেজি লাস (lush) শব্দের অর্থ মাতাল। সত্যিই এখানকার হ্রদগলোর নিখুতসৌন্দর্য যে কাউকে মাতাল করে দেবে। ইংল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিতএই স্থানটি মূলত হ্রদে ঘেরা জাদুকরী একটি উপত্যকা। দেখতে পটে আঁকা কোনোশিল্পীর শিল্পকর্মের মতো। আসলেই মাতাল করে দেয়।

লাস লেক

লাস লেকের মাতাল করা সৌন্দয্যে ছুটে আসে লাখো পর্যটক

প্রতি বছর ১ কোটি ৬০ লাখ পর্যটক আসে এর সৌন্দর্যে মাতাল হতে। এই পুরো এলাকাটি একটি পার্ক। এখানকার সবচেয়ে সুন্দর হ্রদ হচ্ছে লেক ক্রুজ। কর্মব্যস্ত শহরবাসীর জন্য স্থানটি স্বর্গীয় পরশ বুলিয়ে দিতে পারে।

আই ট্রিক (চোখের ভুল) লেটিসভাটন হ্রদ, নরওয়ে

চোখের দেখাতে তৈরি হয় ভ্রম। প্রথমবার দেখার পর চোখ মুছে আবার দেখতে হয়। দেখতে বিভ্রান্তিপূর্ণ মনে হলেও প্রকৃতি এটি এমন করেই সাজিয়েছে। নরওয়েরফারো দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ৬ কিলোমিটার লম্বা এই স্থানটি পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বীপ হ্রদ হিসেবে। এখানকার সবচেয়ে বড় হ্রদ এটি।

লাস লেক

হৃদের একটা অংশকে মনে হয় পাহাড়ের ওপর

দেখতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশ মিটার উঁচু মনে হলেও এটি আসলে ৩০ মিটারের বেশি উঁচু হবে না। তবে সাগরের পানি প্রবেশ করে এই হ্রদটিতে। একটি মধ্যমে একটি আগ্নেয়গিরির সাথে সংযুক্ত এই হ্রদটি। এছাড়াও অনেক কারণেই এই দ্বীপটি আকর্ষণের কেন্দ্র। এখানে আছে অসাধারণ সুন্দর সব পাখি, মনমুগ্ধকরভাবে তৈরিউপকূলীয় বাঁধ আর নানা রঙের ঘাসে সাজানো মাঠ।

পালপিট রক, নরওয়ে

এটি নরওয়ের আরো একটি মনোহর স্থান। স্থানটি দেখতে অনেকটা ভাষণ দেয়ারডেস্কের মতো। নিচে স্বচ্ছ পানি আর তার থেকে প্রায় ৬০৪ মিটর উঁচু এইস্থানটি। এর দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ২৫ মিটার করে।

পালপিট রক

পালপিট রক যেন বক্তৃৃতার মঞ্চ

প্রত্নতাত্বিকদের ধারণা এই স্থানটি প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বরফ যুগে তৈরিহয়েছিল। এখানে গেলে যেকোনো দর্শণার্থী পেতে পারে হলিউডের কোনো অ্যাডভেঞ্চার সিনেমার স্বাদ। তবে পর্যটকদের কিছুটা হতাশ করেছেন ভূতাত্বিকরা। তারা জানিয়েছেন, আর খুব বেশিদিন টিকে থাকবে না নরওয়ের পালপিট রক।

নিউসোয়ানস্টেইন প্রাসাদ, জার্মানি

এই প্রাসাদটি দেখে আপনার মনে হতেই পারে, ‘আমি যদি রাজকুমার হতাম, তবে আমার জন্য এমন একটি প্রাসাদ তৈরি করতাম।’

castle

প্রাসাদটি ভেতর ও বাইরে অভূতপূর্ব কারুকাজমন্ডিত

নিউসোয়ানস্টেইনের এই প্রাসাদটি দেখলে সত্যিই মনে হবে, এখানে রূপকথার কোনো রাজা-রানী বাস করে। সিনড্রেলার রাজপ্রাসাদের মতোও মনে হতে পারে এটিকে। এর রোমাঞ্চকর নির্মাণশৈলী দেখে মনে হতে পারে, সুন্দরী কোনো রাজকুমারী এর ভেতর অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

১৮৬৯ সাল থেকে এখানে বাস করতেন দেশটির বাভারিয়ার রাজা দ্বিতীয় লুডউইগ। ১৮৮৬সালে তার মৃত্যুর পর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। প্রতি বছরপ্রায় ১৩ লাখ দর্শণার্থী আসে এর সৌন্দর্য দেখতে।

আয়না ভবন, পোল্যান্ড

আয়না ভবন

পোলান্ডের আয়না প্রাসাদ দেখে চমকে দেখে যেতে হয়

দেখতে আয়নার ভেতরে দেখা কোনো দৃশ্যের মতো মনে হলেও এটি আসলে বাস্তব। ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে এমনভাবেই। দেখতে আঁকাবাঁকা বা উলট পালট কোনো বাড়ির মতো মনে হতে পারে ৪ হাজার বর্গমিটারের এই ভবনটি।

এটাও রূপকথার কোনো গল্পের প্রাসাদের মতো। এর নকশাটা এমন যে, যে কেউ হঠাৎ দেখলে চমকে যেতে পারেন। নানা রঙের বাহার, অভাবনীয় স্থাপত্য শৈলী, প্রকৃতির সাথে ভবনের বৈপরীত্য ও সম্মিলন একে লাখো পর্যটকের দর্শণীয়তে পরিণত করেছে। মনে হয় যেন স্বর্গেরই কোন প্রাসাদের সামনে দাড়িয়ে, আরো কিছু চমক লাভের অপেক্ষায়।

-independent tv

পড়া হয়েছে ১৭৬৭ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ