আজ ৭ মার্চ। এক নজরে দেখে নিন ইতিহাসের এ দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

মার্চ ৭, ২০১৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। স্বাধীনতার মহাকাব্য রচিত হওয়ার দিন। ১৯৭১ সালের এইদিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ভাষণের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল রাজনীতির এক মহাকাব্য। বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে দেখেছিল একটি পাতাঝরা বসন্ত বিকাল কিভাবে বদলে দিতে পারে ইতিহাসের মোড়। একজন মানুষ দিনে দিনে নিজেকে চালকের আসনে এনে একটি আন্দোলনকে জনগণের প্রাণের দাবিতে রূপান্তরিত করতে পারেন, এমন উদাহরণ বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। একটি ভাষণ একটি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে যেভাবে উজ্জীবিত করেছিল, তার তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গে হতে পারে না। এই দিনে দীর্ঘদিনের শোষণ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল একটি কণ্ঠ। অন্যায়, অগণতান্ত্রিক আচরণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতিকে পরিপূর্ণভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের দিনে আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।
বাঙালির জাতীয় জীবনের জন্য মার্চ মাসটি নানা দিক থেকেই গুরুত্ববহ। বলা বাহুল্য, রাজনৈতিক তাৎপর্যের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের টানা কয়েকটি তারিখ ইতিহাসেও অমলিন হয়ে আছে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যখন বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, বাংলার মানুষের অধিকার চাই।' এ বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট করতে চাইলেন বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় চাই পূর্ণ স্বাধীনতা। স্বতন্ত্র ভূমি। অনেকেই ভাষণটিকে একটি 'এপিক স্পিচ' হিসেবে মন্তব্য করেন।
স্মর্তব্য যে, এর আগে থেকেই দেশে ও বিদেশে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলে আসছিল, অচিরেই শেখ মুজিবুর রহমান অখ- পাকিস্তানের প্রতি অনাস্থা ব্যক্ত করে পৃথক আবাসভূমির দাবিতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন। এ আশঙ্কায় পাকিস্তানের সামরিক সরকার ভীত হয়ে পড়ে। বিচলিত হয়ে পড়ে পাকিস্তানের প্রভু ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশও। ৭ মার্চের ভাষণের আগে ৬ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তার এক বার্তায় শেখ মুজিবকে সংযত থাকতে অনুরোধ করেন। অথচ তত দিনে এটা সর্বতোভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ শাসনের অধিকার রয়েছে। ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরে সব বাধা অবিলম্বে দূর করার কথা স্পষ্ট করে বলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়করা। কিন্তু অখ- পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এ আহ্বান কিছুতেই মেনে না নিয়ে তার বিপরীতে বাঙালির ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি সর্বাত্মকভাবে পাকিস্তানি শাসকদের সব ধরনের অন্যায়ের মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়। কেননা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যেই পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধ যে আসন্ন, তা তিনি বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। সে যুদ্ধে তিনি উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন, আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে তাকে, এও যেন তার কাছে স্পষ্ট ছিল। বোধহয় সে কারণেই দক্ষ সমরনায়কের মতো নির্দেশনা দেন তিনি, '... প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে... আমি যদি হুকুম দেবার না পারি, তোমরা সব কিছু বন্ধ করে দেবে।' আর এ ভাষণই পরবর্তীতে শ্রেষ্ঠ ভাষণের মর্যাদা লাভ করে।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, আজকের বাংলাদেশও যেন নতুন এক সংগ্রামের মুখোমুখি। অশুভশক্তি আমাদের বাঙালি জাতির ওপর জেঁকে বসার পাঁয়তারা অব্যাহত রেখেছে। আবার আশার কথা যে, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকার এদের রুখে দিতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরিরা নতুন করে যাতে একাত্তরের বর্বরতাকে জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে না পারে সে জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যেন এ দেশে মৌলবাদী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তার জন্য দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এদের মূলোৎপাটনের সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হবে। আমরা মনে করি, এ লড়াইয়ে জয়ী হবে বাঙালি জাতিসত্তা। এ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আমাদের পথনির্দেশক হোক- এটাই প্রত্যাশা।

১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে ঢাকা শহরের প্রথম সাপ্তাহিক ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর আত্মপ্রকাশ।

১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে তৃতীয় পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামের আহ্বান জানিয়ে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে শিশুসাহিত্যিক বিমল ঘোষের (মৌমাছি) মৃত্যু।

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা বিস্ফোরণে দুই শতাধিক ব্যক্তি হতাহত হন।

১৮৩৫ : ব্রিটিশ রাজ ভারতে সরকারি অফিসে ফরাসি ভাষা বিলোপ করে ইংরেজি ভাষা প্রচলন করে।

১৮৬১ : ঢাকা শহরের প্রথম সাপ্তাহিক ‘ঢাকা প্রকাশ’-এর আত্মপ্রকাশ।

১৮৭৬ : আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল তাঁর তৈরি টেলিফোন পেটেন্ট করেন।

১৯১৭ : জ্যাজ রেকর্ড প্রথম বাজারে বিক্রি শুরু হয়।

১৯৭১ : রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে মুক্তি সংগ্রামের আহ্বান জানান।

পড়া হয়েছে ৬৭১ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ