আজ ৩ এপ্রিল এ দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী।

এপ্রিল ৩, ২০১৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ

 

মসটার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: মসটার পরিচিত তার পুরাতন টার্কিশ ব্রীজ ও বাড়িগুলোর জন্য। ইউনেস্কো মসটারের পুরাতন ব্রীজ এলাকাকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বলে ঘোষণা করেছে।
১৯৯২ সালের এ দিনে বসনিয়া হার্জেগোভিনা সাবেক ইয়োগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এক গণভোটে শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেন। এর আগে স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়া ইয়োগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হয়ে যায়। বসনিয়া হার্যেগোভিনার আয়তন প্রায় ৫১ হাজার ১২৯ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে ও পশ্চিমে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া এবং পূর্ব দিকে রয়েছে সার্বিয়া ও দক্ষিণ পূর্বে রয়েছে মন্টিনিগ্রো। ১৯৯১ সালের হিসেবে অনুযায়ী দেশটির শতকরা ৪৪ ভাগ জনগণ মুসলমান এবং বলকান অঞ্চলে তারাই সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্প্রদায়। কিন্তু বসনিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ায় সেখানকার মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় ইউরোপের অন্যতম বড় ট্রাজেডী। বসনিয়ার সার্বরা সার্বিয়ার সেনাদের সহায়তায় বসনিয়ার মুসলমানদের পাইকারীভাবে হত্যা করতে থাকে। বংশ নিধনযজ্ঞ চালানো ছাড়াও সার্বরা বসনিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করে। ৪৩ মাস ধরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, গণহত্যা ও বিভিন্ন পাশবিক বা নৃশংস নির্যাতন চালানোর ফলে আড়াই লক্ষ বসনীয় মুসলমান নিহত এবং প্রায় ১৫ লক্ষ মুসলমান শরণার্থী হয়। অবশেষে বিশ্ব সমাজের হস্তক্ষেপে ১৯৯৫ সালে ডেটন চুক্তির মাধ্যমে বসনিয়ার যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং সেখানে বসনীয় মুসলমান, সার্ব ও ক্রোয়াটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩ সদস্যের প্রেসিডেন্ট পরিষদ সরকার পরিচালনা করছে।
বসনিয়া হার্যে গোভিনায় গণহত্যা ও যুদ্ধ অপরাধে জড়িত অনেক সার্ব নেতা এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেক অপরাধী সার্ব কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের যথাযোগ্য শাস্তি বা মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় নি, বরং লোক-দেখানো অতি সামান্য শাস্তি বা কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। বসনিয়ায় মুসলমানদের ওপর গণহত্যাকে ইউরোপের তথাকথিত মানবাধিকারবাদী সরকারগুলো হয় নীরবে সহ্য করেছে বা গোপনে সমর্থন করেছে। বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইউরোপের বুকে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় কখনও মেনে নেয়া হবে না।

১৯৭৭ সালের এ দিনে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে পরাজিত তুরস্কের ওসমানী খেলাফত রাশিয়ার সাথে সান স্টেফানো চুক্তি স্বাক্ষর করে। সান স্টেফানো নামক স্থানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বলকান অঞ্চলে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের আওতাভুক্ত দেশগুলো দখলের জন্য এ হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। ১৮৭৭ সালে রাশিয়া সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও রুমানিয়াকে স্বাধীনতা এনে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই দেশগুলো তথা তুরস্কের প্রদেশগুলোর সাথে জোট বাধে। অটোম্যান বা ওসমানীয়দের দূর্বলতার কারণে রুশ সেনারা খুব দ্রুত তুরস্কের বলকান অঞ্চলে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে ওসমানীয় সরকার সন্ধির আহ্বান জানায়। এই সন্ধির ফলে সার্বিয়া ও রুমানিয়া ওসমানীয় সাম্রাজ্য থেকে পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায় এবং বুলগেরিয়া স্বায়ত্তশাসন লাভ করে।

১৯৪৬ সালের এ দিনে ইরানে প্রথমবারের মত আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। নাসির উদ্দিন শাহ কাজারের সময় তার বিচক্ষণ ও জনদরদী প্রধানমন্ত্রী আমির কাবিরের উদ্যোগে দারুল ফুনুন নামের এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আয়ত্ত্ব করা ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্দেশ্য। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিকে পদাতিক বাহিনী, ঘোড়-সওয়ার বাহিনী ও অন্যান্য সামরিক বিষয়সহ , চিকিৎসা ও অস্ত্রপচার, খনিজ বিদ্যা এবং ফার্মেসী বিষয়ে পড়ানো হত। দারুল ফুনুন থেকে পাশ করা ছাত্রদের অনেকেই ইরানের উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হতেন। পরে দারুল ফুনুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা ও সামরিক বিভাগগুলো আলাদা করা হয় এবং নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় একে পরিণত করা হয় একটি কলেজে । আমীর কবিরের অমর কীর্তি দারুল ফুনুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ইরানের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তরকারী ঘটনা ।

১৯৭৪ সালের এ দিনে তুর্কী এয়ারলাইন্সের এক বিমান দূর্ঘটনায় ৩৭৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান।
১৯৭৮ সালের এ দিনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কালাম শামসুদ্দিন ইন্তেকাল করেন।
১৯৯১ সালের এ দিনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম মারা যান।
* ১৫৮১ : চতুর্থ শিখ গুরু রামদাসের মৃত্যু।

* ১৭০৭ : দাক্ষিণাত্যের শিবিরে আওরঙ্গজেবের মৃত্যু হয়। একই দিনে যুবরাজ মুয়াজ্জেম আওরঙ্গজেবের উত্তরাধিকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ও বাহাদুর শাহ (প্রথম) নাম ধারণ করেন।

* ১৮৪৭ : বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের জন্ম।

* ১৮৬১ : রাশিয়ায় ভূমিদাস প্রথা বিলুপ্তি করা হয়।

* ১৮৭৮ : দীর্ঘ যুদ্ধ অবসানের পর রুশ-তুর্কি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

* ১৯০৬ : বিপ্লবী অনুশীলন সমিতির মুখপত্র ‘যুগান্তর’ প্রকাশিত হয়।

* ১৯২৪ : তুরস্কের জাতীয় পরিষদ কর্তৃক ৬৪৩ বছরের খেলাফত প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

* ১৯৪৯ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নস্তরের কর্মচারীরা ধর্মঘটের ডাক দেয়।

* ১৯৬৫ : শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বড় ভাই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু।

* ১৯৭১ : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু।

* ১৯৭১ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

* ১৯৭২ : বাংলাদেশ রাইফেলস প্রতিষ্ঠিত।

* ১৯৭৪ : তুরস্কের ডিসি-১০ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন নিহত হয়।

* ১৯৭৬ : বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করা হয়।

* ১৯৭৮ : জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা অনুমোদন করা হয়।

* ১৯৮৩ : বেলজিয়ামের কমিকস লেখক ও চিত্রকর এর্জের মৃত্যু।

* ১৯৯১ : এস্তোনিয়া ও লাতভিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে ভোট দেয়।

* ১৯৯২ : শিক্ষাবিদ, ভাষাবিদ ও গবেষক সুকুমার সেন মারা যান।

* ২০০৫ : ঢাকায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সদরঘাট-আশুলিয়া নৌপথ উদ্বোধন করা হয়।

পড়া হয়েছে ২৯৯ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ