জেনে নিন জেট ল্যাগ কি এবং প্রতিরোধের উপায়

মে ২২, ২০১৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ

সাবেরা খাতুনঃ যারা নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণে যান তাদের কাছে জেট ল্যাগ বিষয়টি পরিচিত। একে “টাইম জোন চেঞ্জ সিনড্রোম” বা “জেট ল্যাগ ডিজঅর্ডার” ও বলে। পূর্ব থেকে পশ্চিমে বা দূরের কোন দেশে গেলে এই অসুবিধা দেখা দেয়। লম্বা ভ্রমণে টাইম জোনের পরিবর্তনের ফলে আমাদের শারীরিক কার্যক্রমের ছন্দ নষ্ট হয়। ফলে ক্ষুধা, ঘুম, হরমোন নিঃসরণ ইত্যাদি ব্যাহত হয়। জেট ল্যাগে আক্রান্ত হওয়ার শারীরিক লক্ষণগুলো হচ্ছে ঘুমের ব্যাঘাত, মাথাব্যথা, বিরক্তি, বমিবমি ভাব,  মাংসপেশীর ব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি। সাধারণত জেট ল্যাগ কাটিয়ে উঠতে কারো হয়তো একদিন লাগে, আবার কারো হয়তো কয়েকদিন লেগে যায়।

জেট ল্যাগ হওয়ার কারণ হচ্ছে – অনেকগুলো টাইম জোন অতিক্রম করা, পূর্ব দিকে ভ্রমণে যাওয়া, ডিহাইড্রেশন, বিমানে ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল সেবন, ঘুমের অভাব, চাপ অনুভব করা ও ৬০ বছর বয়সের বেশি বয়সে বিমানে ভ্রমন করা ইত্যাদি। জেট ল্যাগ একটি অস্থায়ী সমস্যা। কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে জেট ল্যাগ সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাস করা যায় যেমন –

১। ভ্রমণে যাওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই আপনার ঘুমের ধরণের পরিবর্তন করুন। এর ফলে আপনার দেহ ঘড়ি নতুন টাইম জোনের সাথে অভ্যস্ত হবে। যদি আপনি পূর্ব দিকের ভ্রমণে যান তাহলে স্বাভাবিক ঘুমের সময় হতে ১ ঘন্টা আগে ঘুমাতে যান। আর যদি পশ্চিমে যান তাহলে ১ ঘন্টা পরে ঘুমান। এছাড়াও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে একটু বেশি করে ঘুমিয়ে নিন। এতে ক্লান্তি দূর হবে।

২। আপনি যদি দিনের বেলায় গন্তব্যে পৌঁছান তাহলে কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে কাটান। দিনের আলোর সংস্পর্শ নতুন সময় অঞ্চলে আপনার ব্রেইনকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তার অর্থ এই নয় যে আপনাকে সরাসরি সূর্যের আলোর নীচে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। ছায়াযুক্ত কোন স্থানে বা ঘরে থাকুন যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রবেশ  করছে।

৩। পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য বিমানে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এতে বিমানের শুষ্ক বাতাসের কারণে আপনার শরীরে পানিশূন্যতা সৃষ্টির ঝুঁকি কমবে।

৪। বিমানে একটানা বসে না থেকে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে শরীরে রক্ত  চলাচল ঠিক থাকবে এবং পেশীর ব্যথার ঝুঁকি কমবে।

৫। ভ্রমণে যাওয়ার কয়েকদিন আগে থেকেই এবং বিমানে ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিন। কারণ এগুলো ঘুমের ব্যঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

৬। লম্বা সময় বিমানে থাকতে হলে ঘুমিয়ে নিতে পারেন একটানা বেশ কিছুক্ষণ। ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য চোখে আইমাস্ক ও কানে এয়ারপ্লাগ লাগিয়ে নিতে পারেন।

৭। বিমানে উঠার পরই আপনার ঘড়ির সময় গন্তব্যস্থানের সময়ের সাথে মিলিয়ে নিন। এর ফলে আপনি মানসিকভাবে প্রস্তুত হবেন নতুন টাইম জোনের জন্য।

৮। গন্তব্যে পৌঁছার পর আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। অধিক প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান। চর্বিযুক্ত ও বেশি খাদ্য গ্রহণ এড়িয়ে চলুন।

প্রিয় লাইফ

পড়া হয়েছে ১৮৬৩ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ