গার্ডিয়ান এর বাছাই করা বছরের সেরা যত ছবি

ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ

নানা ঘটনার নানা আঙ্গিক। আর রঙ-বেরঙে সেইসব ঘটনা ফুটে ওঠে আলোকচিত্রীর ক্যামেরায়। ২০১৬-কে বিদায় জানাতে বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যম সেই রকম কিছু ছবি দিয়ে বছরের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

অসাধারণ ৩১টি স্থিরচিত্রের সমন্বয়ে এমনই একটি ফটোফিচার প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান, যেখানে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলায় পানি থেকে শাপলা তুলে আনার এই ছবিটিও।

আলোকচিত্রী জাকির হোসেন চৌধুরী জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে যান চৈতি নামের এই মেয়েটিকে, যে পানি থেকে শাপলা তুলতে খুব ভালোবাসে। শাপলার সঙ্গে সাঁতার কেটে খেলতে তার খুব ভালো লাগে। সেই খেলার এক পর্যায়ে এমন ছবিটি তোলেন জাকির হোসেন।

আসুন দেখে নেই গার্ডিয়ানের তালিকার বাকি ৩০টি ছবি থেকে বাছাই কিছু ছবি:

জ্বলন্ত কায়ারাহ তেলক্ষেত্রে সাইকেল আরোহী কিশোর (২১ অক্টোবর)

আলোকচিত্রী কার্ল কোর্ট এ ছবিটি সম্পর্কে বলেন, “ইরাকের কায়ারাহতে তেলক্ষেত্রে আগুন লেগেছে শুনে আমি কয়েক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে সেখানে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে মনে হলো পরিবেশটা খুবই ভয়ানক; যেন যে কোনো সময় যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। আমার সঙ্গে থাকা স্থানীয় সহকারীও যখন একই কথা বললেন, তখন দু’জনে মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম ১০ মিনিটের বেশি আমরা এখানে থাকব না। তাই আমি স্টপওয়াচে সময় বেঁধে ছবি তোলা শুরু করি।

মাটি থেকে কয়েকশ’ ফুট উঁচুতে ওঠা কালো ধোঁয়ার ছবি তুলছিলাম আমি। তার সঙ্গে আকাশে ছড়ানো আগুনের আলো মিলে সিনেম্যাটিক ইফেক্ট তৈরি করছিল। আশপাশে কোনো জনপ্রাণী নেই।

ঠিক সেই সময় ছেলেটি তার লাল বাইকে চড়ে এলো, একটু থেমে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে আমাকে কয়েক সেকেন্ড দেখল, তারপর চলে গেল। আমার ক্যামেরায় তা ধরা পড়ল। তখনই আমি বুঝলাম, খুব গুরুত্বপূর্ণ এক ছবি তুলেছি আমি। আমি ১০ মিনিট শেষে আমার এয়ার কণ্ডিশনড গাড়িতে করে নিরাপদে ফিরে এলাম। কিন্তু ছেলেটার আয়ু হয়তো এই যুদ্ধ আর ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে অনেকটাই কমে গেল।”

ওভাল অফিসে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওবামা আর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাক্ষাৎ (১০ নভেম্বর)

অনেক আগে থেকে আবেদনপত্র জমা দিয়ে আরও জনা ত্রিশেক সাংবাদিকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে ছবিটি তোলেন ফটোসাংবাদিক উইন ম্যাকনামি। ছবিটি তোলার সময়ের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম পরিবেশটা বেশ গা ছমছমে হবে। কিন্তু গিয়ে দেখলাম তার উল্টো। দু’জনই বেশ সাবলীলভাবে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলছেন। যেন ওবামা ট্রাম্পকে মেনে নিয়ে তাকে সাহায্য করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ছবিটা তোলার সময় আমি তাদের আশপাশের জিনিসগুলো দেখছিলাম। মাঝ বরাবর একটি পোর্ট্রেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের ওপর থেকে তাদের দেখছেন। ট্রাম্পের বামে মার্টিন লুথার কিংয়ের কাঁধ পর্যন্ত একটি ভাস্কর্য আর আরেকটি ভাস্কর্য আব্রাহাম লিংকনের, ওবামার ডান পাশে। ভাবছিলাম, এই প্রয়াত নেতারা বেঁচে থাকলে আমেরিকার বর্তমানের রাজনৈতিক অবস্থা দেখে কী ভাবতেন।”

হাওয়াইয়ে আয়রনম্যান সাঁতারুদের সঙ্গে সামুদ্রিক কচ্ছপ (৮ অক্টোবর)

হাওয়াইয়ের কাইলুয়া কনা এলাকায় অনুষ্ঠিতব্য ‘আয়রনম্যান সাঁতার প্রতিযোগিতা’র ছবি তোলার জন্য দু’ঘণ্টা ধরে পানির নিচে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ফটোগ্রাফার ডোনাল্ড মিরালে। এমন সময় তিনি দেখলেন একটা গ্রিন সি টার্টলকে এগিয়ে আসতে।

মিরালে বলেন, “সাঁতার প্রতিযোগিতার আগে আমি ধারেকাছে মাছসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীকে এর আগে ঘুরতে দেখেছি। কিন্তু সামুদ্রিক কচ্ছপেরা সাধারণত ভীড় এড়িয়ে চলে। বিশেষ করে ২ হাজার মানুষের এত বড় দলের কাছে এদের আসার কথা নয়। আমি কয়েকটা ছবি তুললাম। প্রতিযোগিতা শুরুর মিনিট দুই আগেই কচ্ছপটা সাঁতরে দূরে চলে যায়।”

এনএফএল ফুটবলে জাতীয় সঙ্গীত প্রতিবাদ (২ অক্টোবর)
খেলার আগে জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ানোর বদলে হাঁটু মুড়ে এভাবে বসে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ ও কৃষ্ণাঙ্গ নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান এই ফুটবল খেলোয়াড়রা। আর বেশি কাছে যাওয়ার অনুমতি না থাকলেও কর্তৃপক্ষের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে মাত্র কয়েক ফুট দূর থেকে এই ছবিটি তুলে ফেলেন বার্তা সংস্থা এপি’র আলোকচিত্রী মার্সিও স্যানচেজ।

অভিনব এই প্রতিবাদে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দলের সদস্যদের মধ্যেই ছিল বিভেদ। কিন্তু বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সম্পূর্ণ পক্ষে ছিলেন স্যানচেজ। তিনি বলেন, “আমি আবেগুপ্লুত হইনি। কারণ তাহলে আমি এমন একটি ঘটনাকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারতাম না।”

স্যানচেজ নিজেও কৈশোরে হন্ডুরাস থেকে আসা একজন অভিবাসী। বৈষম্যের শিকার তিনিও হয়েছেন কমবেশি। তবে ঘটনার গুরুত্বকে তিনি আবেগের ওপর স্থান দিয়েছেন, যেন তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকতে পারে।

জাপানের রাস্তায় বিশাল গর্ত আর তার অসাধারণ সংস্কার (৮ ও ১৫ নভেম্বর)
জাপানের ফুকুওকা প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর হাকাটা। সেখানের একটি প্রধান সড়ক ভেঙ্গে একই দিনে বড় বড় দু’টি গর্ত তৈরি হয়। এরপর দু’টি মিলে হয়ে যায় প্রায় ২০ বর্গমিটারের বিশাল এক গর্ত। স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা।

এত বড় গর্তের ছবি একসাথে তুলতে কাছাকাছি এক ভবনের ৮তলায় একটি ঘর ভাড়া নিলেন ফটোগ্রাফার মারিনা ইমাসাতো। তার জানালা দিয়েই বামদিকের ছবিটি তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি যা দেখছি তা সত্যি। দেখে মনে হচ্ছিল সেখানে বিশাল উল্কাপিণ্ড আঘাত করেছে।”

তবে অজ্ঞাত কারণে ভেঙ্গে পড়া রাস্তাটা মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সারিয়ে নেয়া হয়। তখন একই জানালা থেকে একই ভঙ্গিতে নতুন রাস্তার আরেকটি ছবি তোলেন মারিনা, যেখানে আগের ভয়াবহ গর্তের কোনো নামগন্ধ নেই।

ক্যালে শরণার্থী শিবির উচ্ছেদ (২৬ অক্টোবর)
দেখে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া বা ইরাকের ছবি মনে হলেও এটি আসলে ফ্রান্সে তোলা। ফ্রান্সের ‘জাঙ্গল ক্যাম্প’ নামে পরিচিত ক্যালে শরণার্থী শিবির থেকে শরণার্থীদের উচ্ছেদ এবং অন্যান্য বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরের অংশ হিসেবে টানা কয়েকদিন ধরেই ক্যাম্প ভাঙ্গার কাজ চলছিল। এ মাঝেই পুরো ক্যাম্পে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে শরণার্থী অধিবাসী এবং নিরাপত্তাকর্মীরা এক অন্যকে দোষ দিচ্ছিল।

ওই সময়টাতেই জ্বলন্ত ক্যাম্পের ছবিটি তুলেছিলেন এটিয়েন লরেন্ট। তিনি বলেন, “আমার মতে, এই ছবিটি একটি সমাপ্তি বোঝায়, উপসংহার নয়। কেননা এই মানুষগুলো কোথায় যাবে, সেই সমস্যার সমাধান এখনো অনেক দূরে।”

সুপার বোউলে বিয়ন্সে (৭ ফেব্রুয়ারি)

সুপার বোউলের মতো বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোতে থাকে তারকাদের ছড়াছড়ি। কিন্তু তাদের আশপাশে থাকা অসংখ্য পারফর্মার, ব্যানার, স্মোক মেশিনের ধোঁয়া, রঙবেরঙের লাইটের কারণে তারকাদের স্পষ্ট করে ফ্রেমবন্দী করাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সেই কঠিন কাজটিই অনেক কষ্টে ভীড়ের মধ্যে একটা টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে করতে সফল হন ফটোগ্রাফার মার্ক জে রেবিলাস। এক ফাঁকে তুলে ফেলেন বিয়ন্সের ছবি তার ‘ফর্মেশন’ গানে পারফর্ম করার সময়। “ছবিতে বিয়ন্সে নিখুতঁভাবে বাকি নৃত্যশিল্পীদের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের সবার চেহারায় কড়া চাহনি। সেটাই আমার ভালো লেগেছে,” বলেন মার্ক।

ট্রাম্পের কোলে ছুটন্ত শিশু (২৯ জুলাই)
কলোরাডোতে নির্বাচনী প্রচারণা র‌্যালিতে ভাষণ দেয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোলে দুই মা তাদের দুই বাচ্চাকে তুলে দেন ছবি তোলার জন্য। সম্পর্কে ভাইবোন শিশু দু’টি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় প্রার্থী ছোট ছোট বাচ্চাদের কোলে নিয়ে ছবি তুলবেন – এটা একটা প্রথা।

তবে ট্রাম্প এই বাচ্চাদের কোলে নিতেই মেয়েশিশুটি কোনো মতে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভয় চেপে ছুটে পালাতে চাইলো। কিন্তু ছেলেটি আর ধৈর্য্য ধরে রাখতেই পারল না। চিৎকার করে কান্না শুরু করল। তখন ট্রাম্পও মুখ বাঁকিয়ে কান্নার ভঙ্গি করে ফেললেন। আর তখনই সুযোগ বুঝে মজার এই ছবিটি তুলে ফেলেন আলোকচিত্রী এপি’র স্টেসি স্কট। দেরিতে পৌঁছানোর কারণে র‌্যালির ছবি অত ভালো তুলতে না পারলেও এটা দিয়েই ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছেন তিনি।

ব্রাসেলস বিমানবন্দর হামলায় আহত দুই নারী (২২ মার্চ)
ব্রাসেলস বিমানবন্দরের মেইন হলে থাকা অবস্থায় ভয়াবহ এক বিস্ফোরণ শুনতে পান কেতেভান কারদাভা। এরপর আরেকটি। পরপর দু’টি ভয়াবহ বিস্ফোরণের মাঝে দাঁড়িয়েও ভাগ্যজোরে কোনোরকম ক্ষতি ছাড়াই বেঁচে যান তিনি।

“ডানদিকে তাকিয়ে আমি দেখতে পাই নরকের দৃশ্য। কেউ দাঁড়িয়ে নেই। সব কাচ ভেঙ্গে চুরমার। লোকজন রক্ত আর ধুলোয় মাখামাখি হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। কারও হাত, কারও পা উড়ে গেছে,” বলেন কারদাভা।

“স্বভাবসুলভভাবেই আমি পকেট থেকে আমার ইউফোন বের করে প্রথম ছবিটা তুলি সকাল ৮.০৩ মিনিটে। তার ৬০ সেকেন্ড পর ৮.০৪ মিনিটে আমি আমার ১২তম ছবিটা তুলে শেষ করি। এরপর বিপদের কথা বলে সেনা সদস্যরা আমাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।”

কারদাভার তোলা ছবিগুলো নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ানসহ বড় বড় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। যাদের ছবি তিনি তুলেছিলেন, পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেন তিনি। এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

রিও অলিম্পিকসে বোল্ট (১৪ আগস্ট)
ছবিটি ক্যামেরন স্পেনসার ক্লিক করেছিলেন উসাইন বোল্টের সেমিফাইনাল প্রতিযোগিতার সময়। বোল্টের সর্বশেষ অলিম্পিক ছিল এটি। তাই স্বাভাবিকভাবেই তার মাঝে অনেক বেশি চাপ কাজ করছিল।

আর সেটা তুলে ধরতেই ছুটে যান ফটোগ্রাফার স্পেনসার। ওই সময় আসলে তিনি হাই জাম্পের ছবি তুলছিলেন। কিন্তু বোল্টের দৌঁড় শুরু হতে যাচ্ছে শুনে আর অপেক্ষা করতে পারেননি তিনি। স্লো শাটার স্পিড নিয়ে তৈরি হয়ে যান।

দৌড় শুরু হতেই স্পেনসার অপেক্ষা করতে থাকেন বোল্টের কাছে আসার আসতেই শাটার চাপলেন তিনি। চোখের পলকেই গায়েব হয়ে গেলেন বোল্ট। কিন্তু ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে গেলেন স্পেনসার। সেখানে ছুটন্ত বোল্ট আটকে গেছেন তার দাঁত বের করা দুষ্ট হাসি নিয়ে। “অনেকেই বলেছেন, এটা অলিম্পিকের সেরা ছবি। অনেক বড় প্রশংসা এটি,” বলেন স্পেনসার।

হিলারির সঙ্গে সমর্থকদের সেলফি উন্মাদনা (২৫ সেপ্টেম্বর)

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর মূল প্রচারণায় প্রায় ৫শ’ সমর্থক অংশ নিতে পারেননি। তাই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন তাদের সঙ্গে কাছাকাছি আরেকটি কক্ষে দেখা করতে যান।

হিলারি সেখানে বলেন, চাইলে তিনি একটা গ্রুপ সেলফিতে অংশ নিতে পারেন। ওই সময় সবাই নিজ নিজ ফোন বের করে হিলারিকে পেছনে রেখে তার সঙ্গে সেলফি তুলতে থাকেন। আর সেই ছবিই তোলেন হিলারির প্রচারণা শিবিরের বারবারা কিনে।

দামেস্কে বিমান হামলা (১১ সেপ্টেম্বর)
সিরিয়ার দামেস্কের প্রান্তের এক শহর দুমা। সেখানকার অধিবাসী মোহাম্মদ বাদরা তুলেছেন তার প্রতিবেশীর এই ছবিটি। ঘরে বসা অবস্থায় আশপাশে বিমান থেকে গুচ্ছবোমা ফেলার ভয়াবহ শুব্দ শুনতে পান তিনি। এক ফাঁকে বের হয়ে ভূগর্ভস্থ কক্ষে আশ্রয় নিতে ছুটে যান। সাথে নেন ক্যামেরাটা।

বের হতে না হতেই আবারও বোমা বিস্ফোরণ। তখনই থেমে আশপাশটা দেখে নেন। প্রতিবেশী আবু সৌভিকে দেখেন বাড়ি পুড়ে যাচ্ছে, তিনি চিৎকার করছেন, কিন্তু বাড়ি থেকে তাকে সরিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। নিজেই চেষ্টা করছেন ছোট কাপ দিয়ে পানি ঢেলে আগুন নেভাতে। এই ছবিটি তুলে প্রশ্ন রেখেছেন বাদরা: “আমার ঘরটা কবে পুড়বে? আমি কখন মারা যাবো? আমি কি আমারই ভবিষ্যতের ছবি তুলছি?”

অস্কার পিস্টোরিয়াস আদালতে হাঁটলেন নকল পা ছাড়াই (১৫ জুন)
প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে চলা মামলার শুনানিতে হাজির হন খেলোয়াড় অস্কার পিস্টোরিয়াস তার নকল পায়ে হেঁটে হেঁটে। কিন্তু চা বিরতির পর তার আইনজীবী আদালতে অনুরোধ জানান যেন তাকে সেই পা খুলে হাঁটতে দেয়া হয়, যেন তিনি বোঝাতে পারেন, প্রেমিকা রিভা স্টিনক্যাম্পকে গুলি করার সময় তিনি নিজেই নাজুক অবস্থায় ছিলেন।

আদালত অনুমতি দিলে ফটোগ্রাফার সিফিউই সিবেকো তার চেয়ারটা ছেড়ে দেন অস্কারকে পা খোলার জন্য। আর সেই ফাঁকেই অস্কার হাঁটার সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন তিনি।

আলেপ্পোর সেই বাকহারা শিশু (১৭ আগস্ট)

সিরিয়ার আলেপ্পোতে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলার পর উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে বসানো হয় ধুলো আর রক্তে মাখামাখি ৫ বছরের আহত ওমরান দাকনিশকে। ওই অবস্থায় তার স্তব্ধ চেহারা আর হতবাক দৃষ্টির ছবি তোলেন মাহমুদ রাসলান।

ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল (১৭ আগস্ট)
লস অ্যাঞ্জেলেসের ঠিক বাইরেই লেগেছিল ভয়াবহ আগুন। দাবানলের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর থেকে বারবার পানি ঢেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না। সেই অবস্থা দেখতে ছুটে যান নোয়া বার্জার।

কাছাকাছি গিয়ে দেখতে পান দাবানলে পোড়া গাছপালা অঙ্গার হয়ে উড়ছে। সেই উড়ন্ত জ্বলন্ত অঙ্গারের ছবি তোলেন নোয়া।

কুর্দি যোদ্ধা আর শুভ্র পায়রা (২৬ ফেব্রুয়ারি)
তুরস্কের সিজার শহরে রাসায়নিক গ্যাস হামলায় ৭০ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার খবরে সেখানে ছুটে যান সাংবাদিক কাগদাস এরদোগান। কিন্তু সরকারের কারফিউ থাকায় শহরে ঢুকতে পারেননি। ফলে পাশের শহর নুসায়বিনে পরিচিত এক কুর্দি বিদ্রোহী দলের কাছে কিছুদিনের জন্য আশ্রয় নেন তিনি।

ওই অবস্থায় সরকারের বোমা হামলা থেকে কয়েকবার বেঁচে ফিরেছেন কাগদাস। এমনই অবস্থায় এক সকালে তিনি ছবিটা তোলেন। ছবির এই কুর্দি যোদ্ধা রকেট প্রোপেলড গ্রেনেড লঞ্চার ধরে থাকা অবস্থায় পোষা কবুতরগুলোকে খাবার দিচ্ছিলেন। “এটা আমার জীবনের সবচেয়ে শান্ত সময়গুলোর একটি,” বলেন এই সাংবাদিক।

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের জাহাজডুবি (২৫ মে)
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত অভিবাসী নিয়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে ছোট জাহাজটি ডুবে গেলে ইতালির নৌবাহিনীর জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। প্রায় ৫শ’ মানুষকে ডুবন্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার করা হলেও ৭ জন মারা যায়।

জাহাজটি ডোবার সময় এই ছবিটি তোলেন একটু দূর দিয়ে যাওয়া একটি জাহাজে থাকা মারিনা মিলিটারে।

১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন ডেভিড ক্যামেরন (১৩ জুলাই)
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার গণভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ডেভিড ক্যামেরন। ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় ক্যামেরন পরিবার এভাবেই শেষ মুহূর্তে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। আর এই আবেগঘন মুহূর্তের ছবিটি তোলেন অ্যান্ডি রেইন।

ঘুমন্ত ইঁদুর (অক্টোবরের শেষদিকে)
কর্নওয়ালের কোথেল এস্টেটের ন্যাশনাল ট্রাস্ট রেঞ্জার হওয়ার সুবাদে সেখানকার সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয় জেমস রবিনসের। সেই এস্টেটে ৬০ ডরমাউস বাক্স রাখা হয়েছে এই সংরক্ষিত প্রজাতির ইঁদুরের বিশ্রাম ও নিরাপদ প্রজননের জন্য। এগুলোর প্রতি ৪ মাসে একবার লক্ষ্য রাখেন জেমস।

তো হেমন্তের এমনই এক উজ্জ্বল ঠাণ্ডা দিনে প্রথম ডরমাউস বাক্সটা খোলেন জেমস। খুব কম ডরমাউসকেই বাসায় পাওয়া যায়। কিন্তু প্রথম বাক্সতেই গুটি মেরে একটিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখলেন তিনি। আর সাথে সাথেই সঙ্গে আনা ক্যামেরাটা দিয়ে তুলে ফেললেন এই ছবিটা।

কিউবায় রোলিং স্টোনস কনসার্ট (২৫ মার্চ)
কিউবায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফর কাভার করতে গিয়েছিলেন জো র‌্যাডল। এর ফাঁকেই চলে গেলেন দেশটিতে আয়োজিত রোলিং স্টোনস ব্যান্ডের প্রথম কনসার্টে। সেখানে পারফর্মেন্সের পাশাপাশি তিনি ভক্তদের আনন্দ-উন্মাদনাও ক্যামেরাবন্দী করতে থাকেন। এমনই একটি অসাধারণ মুহূর্ত এটি।

চ্যানেল আই

পড়া হয়েছে ২৬৭ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ