সাহিত্যের হাওয়াই সংগঠন মন্ত্রে চলে,কোন মন্ত্র?--মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু এর ব্লগ » সাহিত্যের হাওয়াই সংগঠন মন্ত্রে চলে,কোন মন্ত্র?

সাহিত্যের হাওয়াই সংগঠন মন্ত্রে চলে,কোন মন্ত্র?

লিখেছেন : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু       ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪১


০টি মন্তব্য   ১২৯ বার পড়া হয়েছে




কে বা কারা এর পেছনে নাটের গুরু? যদিও এই সব সাংগঠনিক কর্ম সাহিত্য চর্চার নামে নতুন নয়. তবে ২০১১,২০১২,২০১৩,২০১৪, ২০১৫ এ কারা করেছে ফেসবুক সংঠনের মাধ্যমে পদক সন্মাননার শুরু।অনলাইন সংগঠন জমানোর জন্য পদক, সন্মাননা,পদ,উত্তরীয় মূল মন্ত্র। মুরব্বীরা অতিথি হবেন,কেউ কেউ নগদ কিংবা বিকাশে যাতায়ত খরচ নিবেন।ফুলের তোড়া নিবেন,গলার মাফলার,চাদর,উত্তরীয়ও নিবেন।আবার উনিশ বিশ হলেই ঝেড়ে দিবেন।অনুষ্ঠানে লেখার মুল্যায়নে গত বাঁধা পজেটিভ আর নেগেটিভ ভাষণ ,আর তিনি কবে কোথায় কার কি করেছেন কিংবা তুলেছেন সেই ফিরিস্তি।

যারা ফেসবুকে তিন চার বছর পুর্বে বেশ চমক দেখিয়েছেন, তারা এখন ঝিমিয়ে।নতুন সংগঠন করছে এখন।তাইপুরাতন সংগঠনের গায়ে লাগে।
শর্টকাট সন্মাননা নিয়ে প্রতিবাদ বরাবর করেছি, বলি কম।কোন কোন সংঠন আমাকে নক করেছে ভুলে যাইনি। উদ্দেশ্য আর প্রদেয় জানা আছে সব।গ্রুপে কবিতা নির্বাচকদের অভিজ্ঞতার ঝুলি,তা আর বলতে, পুরো প্যানেলের নামের তালিকা থাকলেও সিলেক্টর এক জন কিংবা দুই জন। তারা কারা ,বাংলা একাডেমির অভিধান বিশেষজ্ঞ,বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী।বইয়ের সংখ্যা তাদের ছাড়িয়েছে শতাধিক,প্রকতি প্রদত্ত জ্ঞানের ভান্ডার তারা।

অনেক প্রবীণ ,নবীন দেরকে ,যারা লেখে তাদের, ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে দিচ্ছে। তারা ,সাহিত্যাকাশের তাঁরা বিজ্ঞ জ্ঞানী গুনি বুদ্ধিজীবী, হিবিজিবি গং।

অথচ ফেসবুকে যারা লেখেন ,ফেসবুকে না লেখলে গুরুপের দোকানে মাছিও বসবেনা।প্রকাশকে কাছে নিজ খরচে ঝুক্কিহীন বই প্রকাশ করতে যাবেনা। ফেসবুক , এই লাইনে আমি বেশ পুরানো,উপরে থু থু দিলে নিজের গায়ে পড়ে।এক সংগঠন ভেঙ্গে চারটা পাঁচটা গ্রুপ, শুধু একক ক্ষমতা প্রদর্শন এর নিমিত্তে।

I am the best.আমার মাথায় সব ঘিলু,বাকী সবার মাথায় কাউ ডাং।সাথে আর্থিক পাওয়ার !সংগঠনের হোতা। (সব গুলোর নয় ,)ওহ মাই গড কবে না, কবি সংঠন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়। নতুন নতুন ঘোষনায় নতুন হাওয়াই সংঠন,একটা ব্যানারে একটা সংঠন। শুধু দুই থেকে চারটা পদবীর জন্য সংগঠনে র জন্ম।

হউক,আপত্তি নেই।আপত্তি কর্মে। আমরা কিছু লোক নাক দিয়ে দুধ পড়াদের নির্বাচক বানিয়ে নির্বোধ হয়ে যাচ্ছি। গতানুগতিক কিছু কমেন্ট কিংবা লাইকের মাঝে সেরা হয়ে যাচ্ছি।ক্লাস পরীক্ষার মতো প্রতিযোগীতায় যাচ্ছি,এর নাম দিচ্ছি সাহিত্য চর্চা।নতুন যারা লেখছে তাদের খিস্তি মারছি ইচ্ছে মতো,আবার তাদের হাতেই তুলে দিচ্ছি পদক। সাহিত্য সাধনার ফসল। প্রতিযোগীতার নয়। কবিতার মঞ্চে চালাচ্ছি "বুকটা ফাইট্টা যায়।কিংবা লুঙ্গি ডান্স।"

যারা সাহিত্যের প্রসারের নামে নানা স্কীম চালু করেছিল, এট লিষ্ট নিজেকে সেরা প্রমান করা ছিলো আসল ধান্দা,মূল মন্ত্র ।ধান্দার বাজার মন্দা হওয়ায় এখন তারাই নানা কথা বলে নতুনদের। যারা শুরু করে তাদের লাগে ।আপফসোস সাহিত্য অঙ্গন টাও নাটক, সিনেমা,অভিনয়,সংগীত শিল্পী আঙ্গনের মতো রাজনীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় পুর্ণ। প্রয়োজনে কাউকে বুকে টেনে নেয়া,প্রয়োজন শেষে লাত্থি মারা এখানেও বেশ মার্কেট পেয়েছে।

সমঝোতা এখানে হয় খুব কম বা হয়না।হলেও লোক দেখানো।অহংকারের শেষ নেই এখানে। দু একটা ভালো কিংবা সুন্দর সমঝোতার ঘটনা উদাহরন নয়।সাহিত্য সাংস্কৃতির প্রতিভা হচ্ছে আগুনের মতো, চেপে রাখা যায়না,হা ওয়ার দোলা পেলেই জ্বলে বেশি। তাই কবি,সাহিত্যিক,শিল্পী এক জায়গায় নিবন্ধিত হতে পারেনা। এরা ছুটে নামের আশায়, যশের আশায়,প্রকাশের আশায়,বিকাশের প্রত্যাশায়।প্রচারের মাঝে আনন্দ পায়,উৎসাহ পায়।কে প্রথম ব্রেক দিলো এটা ধর্তব্যে থাকেনা।বাবা,মা ভাই বোন বন্ধু হলেও টেক্কা দিয়ে,বেইমানি করে নিজেকে এগিয়ে নিতে চায়,শত্রুর সাথে আপোষ করে কেউ ।শুনেছি অনেকে লাজ, লজ্জা,ভালোবাসার কুরবানীও দেয় প্রতিষ্ঠার জন্য ।সে যাই হোক,লেখা নিয়ে শুরু করেছিলাম,সাংগঠনিক বা সংগঠন প্রসঙ্গে,সন্মাননা আর পদক ছিলো উদ্দ্যেশ্যে বিধেয় মাঝে।

লেখা লেখকের সন্তান,তার কাছে সেরা।তার লেখাকে মন্দ বললে কষ্ট পায়। একটা পত্রিকায় হাজারের অধিক বার পাঠিয়েও প্রকাশ করা যায়না।আমি আজও পাঠাই।যদি কোন দিন প্রকাশ হয়।কিন্তু এখন অল্পতেও প্রকাশ হচ্ছে আর নবীনদের , প্রবীনদের কাউকে গায়ে আগুন দিচ্ছে।পদকের হিড়িক যে গ্রুপে বেশী তাদের অনুষ্ঠানে দর্শক তত বেশী।বাহ কি মন্ত্র !মন্ত্রে চলে সাহিত্য! মন্ত্রের বিস্তারিত কিংবা সংক্ষেপখুঁজে নিন,বুঝে নিন,নাইলে বাদ দেন।

বলি নাই,লাইক কিংবা কমেন্টস করেন।কারন,সুন্দর,দারুন,অনন্য,ভালো, খুব ভালো,সেই রকম,জোশ,বেশ,সুনির্মান ইত্যাদীর সাথে আট বছরের সখ্যতা।

৪-১২-২০১৭ ইং
সিঙ্গাপুর




মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু,সিঙ্গাপুর
ব্লগ লিখছেন ২ বছর ২ মাস ২৩ দিন, মোট পোষ্ট ৯৩টি, মন্তব্য করেছেন ০টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


বাবর আলী, মুখোশের আড়ালে মুখোশ!

ইলিশ গুঁড়ি সন্ধ্যায় কফির চুমুক

কবি বেঁচে থাকে কবিতার মাঝেই

বাঁচাও,বাঁচাও,বাঁচাও

ইচ্ছে হয়
 

মন্তব্য সমূহঃ

মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন