বাবর আলী মাবো--মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু এর ব্লগ--আপন ভূবন ব্লগ - আপন প্রতিভার সন্ধানে 



প্রথম পাতা » মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু এর ব্লগ » বাবর আলী মাবো

বাবর আলী মাবো

লিখেছেন : মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু       ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বিকেল ৫:৪২


০টি মন্তব্য   ১৫৪ বার পড়া হয়েছে



মাবো,শব্দটি দেখে অন্তত সিঙ্গাপুরে যারা আছেন, ছিলেন,ভাবছেন,বাবর আলী মাল খাইয়া টাল।তাই মাবো।

মাবো, শব্দটি চাইনীজরা মদ্যপানের পর মাতলামি করলে বলে। মাবো।

নোয়াখালী আমার দেশে,আমার গ্রাম সেনবাগে শুনতাম, বাঁডবাইরা ধইচ্চে। মানে আগের দিনে রাতের আঁধারে পথে পথ ভুলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মানুষ চলে যেত।

আমার আব্বা যখন ছোট, চার/ পাঁচ বছর বয়স তখন, আমার এক ফুফু যিনি এখন ওপারে।বেঁচে নেই, তার কোলে ছিলেন, তারা বর্তমান সেনবাগ সরকারী কলেজ এলাকায়,যা ছিলো ধান ক্ষেত,বিল,জলাশয়,যার নাম ছিলো হাসকা জলা, তো এই জায়গা দিয়ে নজর পুর থেকে শীত কালে হাতে বোম, মানে মোটা চেরাগ বাতি, আগুন জ্বালিয়ে আমার আব্বা আর ওই ফুফু এবং সাথে অন্য দুচার জন মহিলা ছিলেন,সবাই তাদের অতি পরিচিত জমিনের আড়াআড়ি পথ ভুলে ওস্তা তোলা, বড়াই গ্রামের কাছাকাছি জমিনে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন,পরে কেউ এসে তাদের উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দিয়ে যান।

এবার আসি বাবর আলী মদ্যপান না করেও কেন মাবো!

সকালের ঘুম ভাঙ্গলো মোবাইলের ট্রুং ট্রুং এ, ৫ টা,৬ টা,৭ টা। শরীর উঠছেনা।কাঁপছে। অবশেষে,শরীর টেনে বাথরুমের সামনে। ইয়া লম্বা লাইন। পেটের ভেতর তখন উলট পালট।মিসাইল প্রস্তুত হলেও লাজ লজ্জায় শব্দ হীন বায়বীয় হাওয়ায় পরিনত করতে সক্ষম হয় বাবর আলী।চাপ কিছুটা হালকা হয়।

এ যাত্রায় ত্যাগের আশা ত্যাগ করিয়া ধৌত করিবার অভিপ্রায়ে গোসলখানায় প্রবেশ। ঝর্ণা ছাড়িয়া নিন্মচাপের তরল মিশ্রণে কিছুটা স্বস্তি। দ্রুততায় যখন ডেস্কার রোডের বাসমতি হোটেলে তখন কিউ জটলা, সবার তাড়া।

ভাত,করলা,ডাল,কচু,দুইখান সিদ্ধ রুটি লাল প্লাস্টিকে পুরিয়া সরকারী সাইকেলের কাছে দাঁড়াইয়া মোবাইলের ডাটা অন।দুর্ভাগ্য সাইকেল কোম্পানী মেসেজে ক্ষমা চাইলো।সাইকেল বলিল, দু:খিত আমার শরীর ভালো না। অন্য কোথাও চেষ্টা করুন। এ পাশ ও পাশ তাকায় বাবর আলী।না আজ সময় দৌড়াইতেছে বেশ জোরে।আর সাইকেল ও দেখা যাইতেছেনা। কিছুদুর পার হইয়া জালান বাশারের কাছে একে একে তিনটি সাইকেল তাদের অপারগতা, এপোলজি মেসেজে প্রকাশ কররিলো।

পাওয়া গেলো একখানা, লক খুলিতেই পেডেলে চাপ,আহা ইহার অবস্থাও ভালো নহে।চলিতেই চায় না। যাক চাপাচাপিতে পেটের মিসাইল গুলি নিস্তেজ হইয়াছে।সাইকেল আসিয়া পার্ক হইলো লেভেন্ডার, মালাবার মসজিদ সংলগ্ন বাস স্টপে।দ্রুততায় বাবর আলী প্রবেশ করিলো তেত্রিশ নম্বর বাসে।পকেটে হাত দিয়ে বেকুব হইলো।বাস কার্ড ভুলিয়া গিয়াছে।মানিব্যাগ খুলিয়া দেখে দশ ডলারের নোট।বাস পাইলট মুচকি হাসিয়া কহিলেন খুচরা চাই, নোট অচল।কার্ড পাঞ্চ নয়তো রেজগি চাই।বাবর আলী জানিতে চায়,নাই কি উপায়? পাইলট হাসিয়া কহিলো, প্লিজ গেট ডাউন নেক্সট স্টপিজ,স্যার।বাবর আলী নিরাশ হইয়া নামিয়া যায়।

সরকারী সাইকেল পাঞ্চ করিয়া আবার যাত্রা শুরু।মিনেট বিশেক পর এই সাইকেলও অপরগতা প্রকাশ করিয়া জানায়,আর পারিতেছিনা ভাই।অন্য কাউকে দেখ,আমার প্রান যায় যায়। বাবর আলী আবার সাইকেল বদলায়।

হঠাৎ মনে পড়ে আরে, ভাত করলা,কচু,ডাল,রুটির বস্তা কই।নিশ্চই ভুলিয়াছে বাস স্টপে। কি আর করা বাস কার্ড নাই,খাবার নাই,অগত্যা ডেস্কার রোডের উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা শুরু। পাক্কা পঁচিশ মিনিটে বাসস্টপে আসে। সাইকেল আছে অনেক, খাবারের পোটলা উধাও। বাবর আলী মুচকি হাসে বেতন হয় নাই।খাবার রিজিকে নাই। সন্দেহ জাগে সাইকেলে হয়তো খাবার রাখে নাই।পানি পানের সময় হয়তো বাসমতির টেবিলে রহিয়া গিয়াছে। হোটেলের সামনে সরকারী সাইকেল পার্ক করিয়া রেস্টুরেণ্টের ভাই ব্রাদারের কাছে জিজ্ঞাসা করে।উত্তর, না ভাই,এই খানে খাবারের কোন প্যাকেট দেখি নাই। বাবর আলী এইবার ঢাকা রেস্টুরেন্টে যায়।ততক্ষনে ডায়াবেটিক তাহার রঙ দেখাইতে শুরু করিয়াছে। নাস্তা সারিয়া, সামান্য মধ্যাহ্ন ভোজনের সামগ্রী লইয়া, ডেরায় যায়।বাস কার্ড লইয়া নীচে নামে।কিছুক্ষন হাঁটে।আরেকটি সাইকেল জোটে।

বাস স্টপে অনেক্ষন বসে। সেই সাইকেল এখনো আছে শুধু বাস্কেট খালি।খাবার নাই।বাস লেট।অন্য একটি বাসে চড়িয়া,কিছু দূর আসিয়া নামিয়া যায়,কারন এই বাস গন্তব্যের নয়,ইস্ট কোষ্টে যাইবে।তাহার গন্তব্য ক্রিসেন্ট রোড,বারো, চৌদ্দ,একশ ছিয়ানব্বই যাবে।

অপেক্ষা, অবশেষে একশ ছিয়ানব্বই আসিলো।যাত্রা পথে সকালে তেলাওয়াত,সন্ধ্যায় ফেরার পথে হিন্দি নব্বইয়ের দশকের গান শোনে।মাঝে রাজকাপুরের জোকার এর গান শোনে।আজ শোনল, জোকারের গান,কর্ম ক্ষেত্রে পৌছিতে অধীনস্থ পাঞ্জাবী ঘড়ি দেখলো, যদিও বাবর আলী মোবাইলে খাদ্য হারানোর বার্তা পৌছাইয়া ছিলো।

দীর্ঘ একটা নি:শ্বাস নিয়া নিজেই কহিলো।বাবর আলী আইজকা তুই মাল না খাইয়া মাবো।

সিঙ্গাপুর
৭-২-২০১৮ ইং




মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু,সিঙ্গাপুর
ব্লগ লিখছেন ২ বছর ২ মাস ২২ দিন, মোট পোষ্ট ৯৩টি, মন্তব্য করেছেন ০টি,          



এই ধরনের আরো কিছু পোস্ট.


বাবর আলী, মুখোশের আড়ালে মুখোশ!

ইলিশ গুঁড়ি সন্ধ্যায় কফির চুমুক

কবি বেঁচে থাকে কবিতার মাঝেই

বাঁচাও,বাঁচাও,বাঁচাও

ইচ্ছে হয়
 

মন্তব্য সমূহঃ

মন্তব্য করতে লগিন করুন।

ইমেইল: পাসওয়ার্ড: রেজিস্ট্রেশন করুন