আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ এক হয়ে চলতে চাই

মে ২৫, ২০১৮, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকলেও সেগুলো বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

শুক্রবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ছাড়াও বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ এক হয়ে চলতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু একে একে আমরা সব সমস্যার সমাধান করেছি। এখনও কিছু কথা আছে। কিন্তু সে কথা এখন বলে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, যে কোনো সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারব।

অনুষ্ঠানে কবিগুরু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধু ভারতের নয়, বাংলাদেশেরও। দুই দেশের জাতীয় সংগীত তারই লেখা। আমাদের হাসি-কান্নার সঙ্গে মিশে রয়েছেন কবি।

তিনি আরও বলেন, একসময়ে বাংলাদেশে রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ হয়েছিল। রবীন্দ্র সাহিত্যও নিষিদ্ধ হয়েছিল। আমাদের শিক্ষক-ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় না দিয়ে পারেনি বাংলাদেশ। প্রয়োজনে নিজেদের খাবার ভাগ করে খাওয়াব। আমরা চাই দ্রুত তারা দেশে ফিরে যাক। বাংলাদেশ ভবনে নির্মিত হয়েছে আধুনিক থিয়েটার, প্রদর্শনী কক্ষ ও বিশাল লাইব্রেরি।

এ ভবনের ৪৫০ আসনের প্রেক্ষাগৃহটি বিশ্বভারতীতে থাকা প্রেক্ষাগৃহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।

আর এর লাইব্রেরিতে রয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক সম্পর্কিত গ্রন্থ।

এ ছাড়া ভবনের প্রবেশদ্বারের দুই প্রান্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুর‌্যাল স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

বিকালে শেখ হাসিনা কলকাতা ফিরে এসে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন।

সন্ধ্যায় হোটেল তাজ বেঙ্গলে কলকাতা চেম্বার নেতারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে যান।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে কলকাতায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে কলকাতা থেকে ১৮০ কিলোমিটার উত্তরে বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে যান।

সেখানে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে নরেন্দ্র মোদি এবং অতিথি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সমাবর্তন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

আগামীকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী আসানসোলে যাবেন। সেখানে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন। পরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেবেন।

আসানসোল থেকে কলকতা ফিরে শনিবার বিকালে নেতাজি জাদুঘর পরিদর্শন করে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।যুগান্তর

পড়া হয়েছে ১১৩ বার

( বি:দ্রঃ আপনভূবন ডটকম -এ প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও, কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। কপিরাইট © সকল সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আপনভূবন ডটকম )

আপনার ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে মতামত প্রদান করতে পারেনঃ